ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিশ্বব্যাপী মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন করছে তুরস্ক

প্রভাব বিস্তারের নমনীয় প্রয়াস

দ্য আটলান্টিক | প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আলবেনিয়ার রাজধানীতে নির্মীয়মান মসজিদটি হবে বলকানের বৃহত্তম। এটি উদ্বোধনের বাকি আছে এখনো কয়েক মাস। ইতোমধ্যেই রাজধানী তিরানায় এক প্রান্তে এক লাখ পাঁচ হাজার বর্গফুট জমির উপর তা এক দৃশ্যমান স্থাপত্য হয়ে উঠেছে। ছাপিয়ে গেছে পাশ্ববর্তী পার্লামেন্ট ভবনকে। মসজিদ ভবনের দেয়ালগুলো হচ্ছে ফ্যাকাশে রঙের পাথরের। তার উপর দিয়ে দেখা যায় গম্বুজ ও মিনারগুলো। তিরানার এলাকায় এ রকম আর কোনো স্থাপত্য নেই।

মসজিদ ভবনটিতে ক্ল্যাসিক অটোম্যান স্থাপত্যের প্রতিফলন আছে। এটি তৈরি হচ্ছে তুর্কি অর্থায়নে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সরকার দেশে ও বিদেশে যে একগুচ্ছ নতুন মেগা-মসজিদ তৈরি করেছে, এই মসজিদটি তার মধ্যে একটি। পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদটি তৈরি হয়েছে ঘানার রাজধানী আক্রায়।
কিরঘিজিস্তানের রাজধানী বিশকেক তৈরি হয়েছে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ। মেরিল্যান্ডে তৈরি হয়েছে একটি কমপ্লেক্স যা গোটা পশ্চিম গোলার্ধের বৃহত্তম। আঙ্কারার অর্থায়নে আরো দুই হাজার বিভিন্ন আকারের মসজিদ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আরো মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বা আলোচনা চলছে। যেমন ভেনিজুয়েলা, যেখানে এরদোগান চাপে পড়া মাদুরো সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন। কিউবা প্রসঙ্গে এরদোগান বলেছেন, মুসলিম নাবিকরা কলম্বাসের আগেই কিউবায় পৌঁছেছিলেন। নির্মাণ সম্পন্ন হলে এসব মসজিদের অনেকগুলোই আঙ্কারার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যে সব এলাকায় বিপুল সংখ্যায় প্রবাসী তুর্কিরা বা তুর্কি বংশোদ্ভ‚তরা থাকবে। সেখানে তুরস্কের প্রতিটি নগর, শহর ও গ্রামের মসজিদের মত প্রতি শুক্রবার রাষ্ট্র নির্ধারিত একই রকম জুমার খুতবা দেয়া হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা শক্তিগুলো এরদোগানকে তাদের ভাষায় অগণতান্ত্রিক ও অনুদার পদক্ষেপের জন্য সমালোচনা করে আসছে। যেমন দেশীয় শত্রুদের দমন ও কারাগারে আটক, ইরাক ও সিরিয়ায় কুর্দি সশস্ত্র গ্রুপগুলোেেক হামলা। তুরস্কের নিজের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য ব্যাংক ও বিদেশী শক্তিদের বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বর। একই সময়ে তার সরকার বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান নমনীয়-শক্তি প্রচারণা সম্প্রসারিত করে। আর এর একমাত্র স্পষ্ট ফল হচ্ছে মসজিদগুলো।

এরদোগান সরকার ধর্র্মীয় স্কুল প্রতিষ্ঠায় সাহায্য দিচ্ছে। অটোম্যান-আমলের ভবনগুলো পুননির্মাণে কর্মসূচি নিয়েছে এবং ব্যাপক সামাজিক ও সাহায্য কর্মকান্ড চালাচ্ছে। অধিকাংশ সুফলভোগীরাই এ সাহায্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, বিশেষ করে জার্মানিতে বসবাসকারী, এখন শঙ্কিত যে এই তুর্কি প্রভাব তাদের নিজেদের সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরো গভীর করতে পারে। অথবা এমনকি গুপ্তচরবৃত্তিরও উপকরণ হতে পারে।

এরদোগান ও তার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি), ব্রাদারহুডের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কিত। তুরস্ককে অন্য যে কোনো সাধারণ দেশের চেয়ে মহান দেশ বলে গণ্য করে। তুরস্কের অর্থনৈতিক নীতি গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক সেলিম কোরু বলেন, এবং প্রায়ই তারা এ ধারণার প্রকাশ ঘটায়। তিনি বলেন, প্রচলিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড প্রচার বা তা জোরপূর্বক প্রদর্শনের চেয়ে ধর্ম অনেক কার্যকর অস্ত্র বলে প্রমাণিত হতে পারে।
তুরস্কের মসজিদগুলো ধর্ম বিষয়ক অধিদফতর বা দিয়ানেত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি ইমামদের নিয়োগ, খুতবা রচনা ও ফতোয়া জারি করে। ১৯২৪ সালে এর প্রতিষ্ঠা, তবে একেপির আমলে তার দ্রুত বিকাশ ঘটে এবং উচ্চাকাক্সক্ষী বৈশি^ক কর্মকান্ডসহ প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংস্থায় পরিণত হয়। এ সংস্থার অধীনে বর্তমানে এক লাখ বেতন ভুক্ত কর্মচারি রয়েছে।

২০০৬ সালে এরদোগানের প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় থেকে এর বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে চার গুণ। এ বছর এর বাজেটের পরিমাণ ছিল ১২.৫ বিলিয়ন লিরা (২ বিলিয়ন ডলার)। এ অংক অনেক সরকারি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে, এমনকি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাজেটের চেয়েও বেশি। এ ব্যাপারে দিয়ানেতের মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য চেয়েও জবাব পাওয়া যায়নি।

দিয়ানেত প্রায়ই গ্রহীতা দেশগুলোতে তহবিল ঘাটতি পূরণ করে দেয় যেমন সে করেছে আলবেনিয়ায়। ১৯৬৭ সালে আলবেনিয়ার তৎকালিন স্বৈরশাসক আনোয়ার হোজ্জা রাষ্ট্রীয় নাস্তিকতাবাদের ঘোষণা দেন। জনসাধারণের প্রকাশ্য ধর্মাচরণ পালন নিষিদ্ধ করেন এবং মসজিদ ও গির্জাগুলো ধ্বংস করা হয় বা অন্য কাজে ব্যকহার করা হয়।

তার পতনের পর দেখা যায় আলবেনিয়ার জনসংখ্যার ৫৭ শতাংশ মুসলমান, ১০ শতাংশ ক্যাথলিক ও ৭ শতাংশ অর্থোডক্স তাদের মসজিদ ও গির্জা হারিয়েছে এবং তাদের সেগুলো তৈরি করার ক্ষমতাও নেই। এ সময় বিদেশি অর্থ প্রবেশ শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয় রোমান ক্যাথলিক গির্জার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর কয়েক বছর পর গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ তাদের গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু করে যা ছিল ইউরোপের বৃহত্তম।

কিছু সময়ের জন্য তিরানার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা হারিয়ে যায়। আনোয়ার হোজ্জার আমলে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এসেম বে মসজিদটি রক্ষা পেয়েছিল। সেখানে মাত্র কয়েক ডজন মুসল্লির নামাজ আদায়ের জায়গা হত। ঈদ উৎসব ও অন্যান্য ধর্মীয় দিনগুলোতে তাই মুসল্লিরা বাইরে ইস্কান্দার বেগ চত্ত¡রে সমবেত হতেন। সে কারণে ২০১০ সালে নগরীর মেয়র এদি রামা দিয়ানেতের অর্থায়নে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেন। এরদোগান পাঁচবছর পর সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং রামাকে ধন্যবাদ জানান। তখন রামা আলবেনিয়ার প্রধানমস্ত্রী।

আলবেনিয়ার ঐতিহাসিক আরন টেয়ার বলেন, তিরানার বড় মসজিদ নামের নির্মীয়মান এ মসজিদে তুরস্কের সংশ্লিষ্টতা ও মসজিদের স্থাপত্য রীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু বহু মানুষই একে দেশে মসজিদ নির্মাণে কোনো বিদেশী শক্তির হাল আমলের আগ্রহ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এখানে একটি ধর্মীয় প্রতিযোগিতার মানসিকতা আছে। নানা দেশ আছে, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় সংগঠন আছে। তাদের সবাই এখানে জড়ো হয়েছে।

আলবেনিয়ায় তুরস্কের অর্থ এসেছে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (টিকা) মাধ্যমে। এরদোগানের অফিসের তথ্য মতে, টিকা দেশের অধিকাংশ উন্নয়ন সাহায্য বিতরণ করে এবং সংস্থাটি অটোম্যান আমলের মসজিদগুলো পুননির্মাণসহ ২০০ বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নগরীর বর্তমান মেয়র এরিয়ন ভেলিয়াজ জানান, এ সংস্থা তিরানায় আরো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যেমন পার্ক উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ডরমিটরি নির্মাণ।

আলবেনিয়া এখনো ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ। এসব নির্মাণে তার বাজেটের কোনো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় সরকার খুশি। এদিকে তাদের ওয়েবসাইটে তালিকা থাকা সত্তে¡ও একজন টিকা মুখপাত্র জানান যে সংস্থার কোনো পুনরুদ্ধার প্রকল্প নেই। তিনি মন্তব্যের জন্য পুনরায় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

ক্যাথলিক ও অর্থোডক্স গির্জার কাছেই নতুন মসজিদটি দেখতে দেখতে ভেলিয়াজ বলেন, তিনি খুবই খুশি। তার বিশ্বাস যে তুরস্কের প্রভাব সত্তে¡ও আলবেনিয়ার উদারপন্থী ইসলাম অপরিবর্তিত থেকে যাবে। এর আংশিক কারণ হচ্ছে, নাস্তিক্যবাদিতার যুগে এক সময় পরস্পর দূরে অবস্থানকারী ধর্মীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হওয়া আন্তঃমেলবন্ধন।

তিনি বলেন, রাতে খাবার টেবিলে কেউ লড়াই শুরু করতে চায় না। ভেলিয়াজ বলেন, তুরস্কের সুন্নীদের হানাফি মযহাব অন্য দেশগুলোর প্রচারিত ধর্মীয় রীতিনীতির চেয়ে অনেক বেশি সহিষ্ণু। তিনি পরোক্ষ ভাবে আনোয়ার হোজ্জার পতনের পর সউদী ও অন্যদের প্রচারিত ধর্মাদর্শের দিকে ইঙ্গিত করেন। ভেলিয়াজ বলেন, অন্য কোনো জায়গার চেয়ে তুর্কি সাহায্য আসায় আমি খুশি।

তিরানা, আক্রা ও অন্যান্য স্থানে তুরস্কের প্রচেষ্টা দেখে তাকে যে সব স্থানে তুলনামূলক ভাবে ক্ষুদ্র তুর্কি সম্প্রদায় বাস করে সেগুলোতে নমনীয় প্রভাব বিস্তারের প্রয়াস বলে মনে হয়। বিপুল সংখ্যায় তুর্কিরা বাস করে সেখানেও আঙ্কারা অর্থ প্রদান করেছে, যেমন জার্মানি।

১৯৬০ দশকে যখন অতিথি শ্রমিকরা আসতে শুরু করে সেখানকার আইন প্রণেতারা দিয়ানেত সাহায্য পেয়ে খুশি ছিলেন। সময় পেরনোর সাথে সাথে জার্মানি ৩০ লাখ তুর্কি অধিবাসী বা বংশোদ্ভ‚তদের আবাসস্থলে পরিণত হয়। আইন প্রণেতারা আঙ্কারার অব্যাহত প্রভাব সম্পর্কে ভীতি অনুভব করতে শুরু করে। বিশেষ করে এরদোগানের শাসন অধিকতর মেরুকরণকৃত হওয়ার পর।

আরেকটি তুর্কি সরকারি সংস্থা দ্য দিয়ানেত থ্রু দ্য টার্কিশ-ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস এফেয়ারস (ডিআইটিআইবি) জার্মানির ২৪০০ মসজিদের মধ্যে ৯০০টি পরিচালনা করে। সংস্থাটি নিজেদের রাজনীতি নিরপেক্ষ বলে বর্ণনা করে, কিন্তু নানা রকম বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে।

গত বছর জার্মান সাময়িকী দার স্পাইজেল জানায় যে কিছু ডিআইটিআইবি ইমাম সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক আগ্রাসন সমর্থন করে মোনাজাত করেছেন। আরেকটি ডিআইটিআইবি পরিচালিত মসজিদ গ্যালিপলি যুদ্ধ স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাতে যুদ্ধ পোশাক পরিহিত শিশুদের নিহত সৈন্য হিসেবে একটি বিরাট তুর্কি পতাকার নীচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্টার্ন নামে একটি সাপ্তাহিক ২০১৭ সালে জানায় যে জার্মান কর্তৃপক্ষ কিছু সংখ্যক ইমামের ব্যাপারে তদন্ত করছে। এ অভিযোগে যে তুরস্কে ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য আঙ্কারা যাকে দায়ী করে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সেই আবদুল্লাহ গুলেনের বিরুদ্ধে তারা গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত। এ সময় জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইটিআইবিকে সরকারি নজরদারিতে আনার কথা বিবেচনা করছে বলে খবরে জানা যায়।

জার্মান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র আমলা মারকাস কারবার বলেন, এখনই হচ্ছে আঙ্কারা ও তার দেশের মুসলমানদের মধ্যেকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময়। পশ্চিম ইউরোপের তুর্কি সম্প্রদায়কে একেপির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ বলে দেখা হয়। তবে জার্মানির লক্ষ্য হচ্ছে স্বদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত ইমাম ও দেশীয় অর্থায়নে পরিচালিত মসজিদগুলো।

সম্প্রতি আঙ্কারায় দিয়ানে প্রেসিডেন্ট ও এরদোগানের কিছু উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে কারবার তার প্রতিপক্ষদের বলেন, আপনাদের তুর্কিরা এখন আমাদের তুর্কি। তার এ কথায় তুর্কিরা বিস্ময় বিমূঢ় হয়ে পড়েন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
MD Showkat Hosen Shahel ৪ জুন, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
মাশাআল্লাহ
Total Reply(0)
Anam Uddin ৪ জুন, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
Alhamdulillah
Total Reply(0)
Samir Khan ৪ জুন, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
Alhamdulillah good news
Total Reply(0)
Prosenjit Bhakta ৪ জুন, ২০১৯, ১:৪১ এএম says : 0
আলহামদুললিয়াহ। শান্তি বিস্তার বিস্তার হোক দিকে দিকে।।।
Total Reply(0)
Mokadessur Rahman ৪ জুন, ২০১৯, ১:৪২ এএম says : 0
তুরস্ক সরকার সহ আরও যারা যারা এই ইকো মসজিদের নিন্মান কাজে সহযোগিতায় আছেন সবাই সালাম ও দোয়াকরি আস সালামুআলাইকুম।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন