ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

মহানগর

পুরান ঢাকার জাহাজ বাড়ি রাতারাতি ধ্বংসস্তূপ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ঈদের দিন রাতে কে বা কারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুরান ঢাকার চকবাজারের ‘জাহাজ বাড়ি’। ভবন নয়, সেখানে এখন শুধু ইট-পাথরের স্তুপ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
চকবাজার থানার ওসি শামীম আল রশীদ জানান, আমি যতটুকু শুনেছি অনেক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দোতলা এই ভবনটি সংসদ সদস্য হাজি সেলিম কিনে নিয়েছেন। তিনি এটি ভেঙ্গে নতুন কিছু করবেন হয়তো। কিন্তু প্রতœতাত্তি¡ক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধে েেক্ষাভের সৃষ্টি হওয়ায় ভাঙ্গার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যেহেতু এটি জায়গা-জমির ব্যাপার, তাই এটি আদালতেই ফয়সালা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, এলাকার সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের লোকজন ঈদের দিন বুধবার রাতে হঠাৎ চকবাজারের এই ভবন ভেঙ্গে ফেলেন। তবে এ ব্যাপারে হাজি সেলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চকবাজার থানায় সাধারন ডায়েরি করেন ঢাকার হেরিটেজ সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন আরবান স্টাডি গ্রæপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম। তিনি জানান, আরবান স্টাডি গ্রæপের পক্ষ থেকে করা এক রিট আবেদনে হাই কোর্ট ২০১৭ সালে পুরান ঢাকার ২২০০ ঐতিহ্যবাহী ভবন ও স্থাপনার ধ্বংস, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভবনটি গত মার্চ মাস থেকে ভাঙ্গার চেষ্টা চলছিল। তখন জিডি করে থানার সাহায্যে ভাঙ্গা বন্ধ করা হয়। এবার এমন একটা সময়ে এমনভাবে করা হলো, যেন বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে। ঈদের ছুটিতে গোপনে কাজটি করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জিডি করার পর শুক্রবার রাতেও ভাঙ্গা হয়েছে।

জানা গেছে, উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে নির্মিত এই ভবনই ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই ভবনের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবনটি ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে ছিল। তারা নিয়মিত ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ওয়াকফের ওই প্রতিনিধি ওমরা করতে সৌদি আরব গেছেন বলে ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জাহাজ বাড়ি’ ভবনটি তৈরি করা হয়েছে আনুমানিক ১৮৭০ সালে। ভবনের মালিক ১৯২০ সালে বদু হাজির নামে ওয়াকফ সম্পত্তি করে দিয়ে যান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন