ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

সত্যালোকের সন্ধানে-৩

এ. কে. এম ফজলুর রহমান মুনশী | প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

হাদিস সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারী ও হাদিস অস্বীকারকারীদের শ্রেণিসংখ্যা এতই অধিক যে, তাদের হিসাবের আওতায় আনা কঠিন ব্যাপার। তারা মনে করে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল একজন ‘দূত’ ছিলেন। আল কোরআনে তাকে দূত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের এই মনে করাটা কোরআনুল কারিমের মূল শিক্ষার খেলাপ ও বিপরীত। কেননা, মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কোরআন মাজীদের বর্ণনা বিন্যাসে সংক্ষিপ্ত ও অল্পকথায় বেশি অর্থ প্রকাশ করার নীতি অবলম্বন করেছেন।

এ জন্য কোরআনুল কারীমের ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ও জরুরি অনুষঙ্গ। সে হিসেবে নবী (সা.) হলেন কোরআনুল কারীমের ব্যাখ্যাকারক, বিশ্লেষক। তার বাণীসমূহ কোরআন মাজীদের সুস্পষ্ট তাফসির ও ব্যাখ্যা। এ ব্যাখ্যা ও তাফসির ছাড়া আল কোরআনের অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করা মোটেই সম্ভব নয়। আর সম্ভব নয় বলেই হাদিস অস্বীকারকারীদের প্রকৃতপক্ষে মুসলমান মনে করা ঠিক হবে না।

এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ক. ‘(হে নবী) আমি তোমার নিকট কোরআন অবতীর্ণ করেছি। যাতে মানুষের নিকট প্রেরিত বিষয়সমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দাও।’ (সূরা আন নাহল : আয়াত ৪৪)। এতে বোঝা যায়, প্রেরিত বিষয়সমূহকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা ও ব্যাখ্যা করার অধিকার মহান রাব্বুল আলামিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রদান করে দিলেন। খ. আল্লাহপাকের কিতাবে যে বিষয়কে অস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে বয়ান করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে দিয়েছে সুন্নত তথা হাদিস। (জামেউল বয়ানিল ইলম : খন্ড ২, পৃ. ৩৬৬)।

কোরআন মাজীদের অগণিত আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য ও অনুসরণ অবশ্যকর্তব্য বলে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহপাকের আনুগত্যের পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সা.) আনুগত্য অবশ্য কর্তব্য বলে স্থিরীকৃত হয়েছে। কাজেই হাদিসকে বাদ দিয়ে শুধু কোরআনুল কারীমের ওপর আমল করা আদৌ সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাকের ঘোষণা, ক. ‘তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহপাকের ও রাসূল (সা.)-এর। যদি তা হতে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রেখো, আল্লাহপাক খোদাদ্রোহীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আলে ইমরান : আয়াত ৩২)। খ. ইরশাদ হয়েছে, হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের ও তোমাদের মধ্যে যাদের নির্দেশ দানের ক্ষমতা রয়েছে তাদের। (সূরা নিসা : আয়াত ৫৯)।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রাহমাতুল্লিল আলামিন। তার হাদিস তথা সুন্নত ভান্ডার সাহাবাদের জন্য যেমন হুজ্জত ছিল, পৃথিবী লয় হওয়ার আগ পর্যন্ত সব মুসলমানের জন্য তা হুজ্জতই থাকবে। সুতরাং হাদিস শুধু সাহাবাদের জন্য হুজ্জত ছিল, আমাদের জন্য নয়- এমন মন্তব্য ও মনোভাব যারা পোষণ করে, তাদের মুসলমানদের কাতারে যেমন দাঁড় করানো যায় না, তেমনি তাদের এই মন্তব্য সরাসরি বাতিল, ভ্রান্ত ও মিথ্যা। তাদের উক্তরূপ মন্তব্যের ফলাফল তো দাঁড়ায়, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাত ও নবুওয়াত শুধু সাহাবায়ে কেরামের যুগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।

পরবর্তী যুগের মানুষের জন্য নয়। (নাউজুবিল্লাহ)। অথচ এ ব্যাপারে কোরআনুল কারীমের সুস্পষ্ট ঘোষণা খুবই প্রাণিধানযোগ্য। যেমন- ক. ‘হে লোকসকল, অবশ্যই আমি তোমাদের (মানবজাতির) সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল।’ (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ১৫৮)। খ. ‘হে নবী, আমি তোমাকে সকল মানুষের জন্য শুভ সংবাদ দানকারী ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা সাবা : আয়াত ২৮)। গ. রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতায় বা অপমানিত করায় আত্মনিয়োগ করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি সাধন (ধ্বংস সাধন) করতে পারবে না। এ অবস্থার ওপরই আল্লাহর চরম নির্দেশ তথা কিয়ামত এসে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম : খন্ড ২, পৃ. ১৪৩)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
বাকের ভাই ১২ জুন, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
আল্লাহ তা' লার হুকুম ও নির্দেশনা মোতাবেক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কথা ও কাজের মাধ্যমে তথা স্বীয় জীবনে এ সকল হুকুম আহকাম বাস্তবায়ন করে এর পালন পদ্ধতি নিজ অনুসারীদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর আলোচনার মাধ্যমে এর বিশদ বিবরণ প্রদান করত কোরআনের উপর আমল করার পথ সুগম করে দিয়েছেন।
Total Reply(0)
গুলাম ১২ জুন, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
পবিত্র ক্বোরআনে প্রায় পাঁচশো আয়াতে, সালাত সাওম,হজ্জ্ব যাকাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে হুকুম আহকাম ও মৌল নীতিমালাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো বাস্তবায়ন ও পালনের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করা হয় নি।
Total Reply(0)
হাবিবুর ১২ জুন, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
ইসলামের যাবতীয় মৌলনীতি কোরআন দ্বারা নির্ধারিত। আর হাদিস সে মৌলিক নীতিমালাকে ভিত্তি করে প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক দিক নির্দেশনা দিয়েছে।
Total Reply(0)
মনির হাসান ১২ জুন, ২০১৯, ১:৫০ এএম says : 0
হাদিস ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় অপরিহার্য প্রামাণিক মূূল ভিত্তি। যা ওহীর শ্রেণীভূক্ত। হাদিসকে ওহীয়ে 'গায়রে মাত্বল' বলা হয়। স্বয়ং আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন -" মা ইয়ান্ত্বিক্বু আনিল হাওয়া ইন হুয়া ইল্লা ওয়াহয়ু ইউহা"। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে থেকে কিছু বলেন নি ওহী বা ঐশী প্রত্যাদেশ ব্যতীত। ( সূরা জম-৩১)
Total Reply(0)
কাওসার আহমেদ ১২ জুন, ২০১৯, ১০:৩২ এএম says : 0
সুন্দর লেখাটির জন্য লেখককে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাই
Total Reply(0)
Abdur Razzaque ১৪ জুন, ২০১৯, ৪:০৯ পিএম says : 0
We have to learn and understand DEEN ISLAM from honorable Learned "Nayeb-e-Nabi" or Complete Alem-e- DEEN. It is not from Nayeb-e-Shaitan. Alhamdulillah, good writing.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন