ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মান্দার কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউএনও’র ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে লাইব্রেরী চালু

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৯, ৫:২৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং শিক্ষার মান-উন্নয়নে নওগাঁর মান্দায় প্রত্যান্ত এলাকায় ব্যাতিক্রমী উদ্যোগে নিয়ে লাইব্রেরী চালু করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে লাইব্রেরীর উদ্বোধন করেন, মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এসময় কাঁশোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম, জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কমিটির প্রধান আতোয়ার রহমান, ইউপি সচীব ইউনুছ আলী, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, আব্দুল কুদ্দুস, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম, মর্জিনা খাতুন, তানিয়া ফেরদৌসি, আরিফুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, তৌহিদুর রহমানসহ প্রমূখ।
শিক্ষা বিস্তারে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছেন বিভিন্ন সামাজিক। তবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমান। শিক্ষার মান-উন্নয়নে তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লাইব্রেরী চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
জানাগেছে, জেলার মান্দা উপজেলার সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে প্রত্যন্ত কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উদ্যোগ নিয়ে এ প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মানউন্নয়নে লাইব্রেরীটি চালু করেছেন। উদ্বোধনী দিনে মহানবী (সা:) এর শ্রেষ্ঠ বাণীসহ বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৮২ রকমের বই দিয়ে এ লাইব্রেরীটি চালু করা হয়। আর এ লাইব্রেরী থেকে অত্র এলাকার কাঁশোপাড়া, নাপিতপাড়া, তেঁতুলতলী, চকউলী সহ প্রায় ১৫/২০টি গ্রামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষিত যুবকরা উপকৃত হবেন। অবসর সময়ে তারা এ লাইব্রেরীতে এসে জ্ঞান চর্চা করবেন। এমন মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু এ গ্রামে নয়- শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এমন লাইব্রেরী স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন সচেতনরা।
স্থানীয়রা বলেন, লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার হচ্ছে বইয়ের ভান্ডার। যেখানে প্রচুর বই সংরক্ষণে থাকে। বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও আমাদের পক্ষে বই কিনে পড়া সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমাদের এলাকায় কোন লাইব্রেরী ছিলনা। পাঠাগার হওয়াতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার মান-উন্নয়নে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় লাইব্রেরী চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর উন্নয়ন হলে একটি উপজেলার উন্নয়ন সম্ভব। লাইব্রেরীর মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ বাড়বে। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা ফিরে আসবে। প্রাথমিক ভাবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ১০টি লাইব্রেরী চালু করা হবে।
এর আগে ভারশোঁ ইউনিয়নের মশিদপুর গ্রামে ‘মশিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’, গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদে একটি এবং পরানপুরে একটি লাইব্রেরী চালু করা হয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন