ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পরপর তিনটি গণধর্ষণের ঘটনায় জনমনে আতংক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০১৯, ৭:২১ পিএম

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর তিনটি গণধর্ষণের ঘটনায় জনমনে এক ধরনের আতংক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার মধ্য রাতে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় পৌঁছে দেয় পথচারীরা। কিশোরীটি উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের দুল্লী-বৈরাটী গ্রামের।

কিশোরীর পরিবার জানায়, অটোচালক ইকবালের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ঈদের পরদিন ৬ জুন অটোতে করে তারা দুজন ঘুরতে বের হয়। পরে হাওরের পরিত্যাক্ত একটি মেশিন ঘরে ৫ দিন আটকে রেখে বন্ধুবান্ধব মিলে গণধর্ষণ করে। দুর্বৃত্তরা ১২ জুন বুধবার গোগবাজার জামতলা এলাকায় অজ্ঞান অবস্থায় কিশোরীটিকে ফেলে রেখে গেলে সেখান থেকে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

এদিকে গত ১১ জুন গড়াডোবা ইউনিয়নের আউজহাটি শিবপুর গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ফুফুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গণ ধর্ষণের শিকার হয়। এর আগে ৬ জুন ঈদে বাড়িতে এসে এক গার্মেন্টস কর্মী কথিত প্রেমিকের সাথে মোটর সাইকেলে বেড়াতে গিয়ে গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশ দুটি ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার দেখালেও পোশাককর্মী ধর্ষণের মূল আসামী কথিত প্রেমিক সুমন ওরয়ে নূরে আলমকে এখনও আটক করতে পারেনি।

এছাড়াও কেন্দুয়ায় ঈদের নামাজসহ বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক ষংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় শতাধিক আহত হয়। গত ৬ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত তিনটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের শতাধিক মানুষ আহত হওয়ায় ঘটনায় উপজেলাবাসীর মাঝে চরম আতংক ও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য এড্ভোকেট দিলোয়ারা বেগম বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়া এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার প্রার্থীরা অনেক সময় ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ধর্ষণ মামলায় মেডিকেল রিপোর্ট পেতে গিয়েও ভিকটিমের পরিবার অনেক সময় হয়রানীর শিকার হতে হয়। ফলে এসকল ঘটনা এমেই বেড়েই চলেছে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযত ভাবে পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা দুটি গণধর্ষন মামলার সাথে জড়িত ৬ আসামীকে গ্রেফতার করেছি। অচেতন অবস্থায় কিশোরী উদ্ধারের ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে শুক্রবার দুপুরে মামলা হয়েছে। ধর্ষনের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন