ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মিজানের পাল্লায় উত্তম চরিত্র সবচেয়ে ভারী

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

মুমিনের নৈতিক গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাসূল সা. বলেছেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম হচ্ছে ওই ব্যক্তি যারা উত্তম চরিত্রের অধিকারী। অপর এক হাদীসে আছে শেষ বিচারের দিনে দাঁড়ি-পাল্লায় উত্তম চরিত্র থেকে ভারী আর কোনো বস্তু হবে না। কেননা উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তি স্বীয় চরিত্রের দ্বারা সর্বদা রোজা পালনকারী এবং সর্বদা নামাজ আদায়কারীর মর্যাদা হাছিল করতে পারে। এটি তিরমিজী শরীফের বর্ণনা।

কিন্তু হাদীসের অন্যান্য কিতাব হাকেম, ইবনে হাম্বল ও আবু দাউদে সংক্ষিপ্তাকারে কেবল হাদীসটির প্রথম অংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলো, উত্তম চরিত্র থেকে ভারী কোনো বস্তু কিয়ামতের দিন দাঁড়ি-পাল্লায় হবে না। এতে একথায় প্রমাণিত হয় যে, ইসলামের দাঁড়ি-পাল্লায় উত্তম চরিত্র থেকে ভারী কোনো বস্তু হবে না।

অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, বান্দা আল্লাহর নিকট থেকে যা কিছু লাভ করেছে তার মাঝে উত্তম চরিত্রের উপহারটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। এই হাদীসটি বিভিন্ন শব্দ সহযোগে হাকেম, নাসাঈ, ইবনে হাম্বল, তাবরানী এবং ইবনে আবি শামেরায়ও আছে। এ সুসংবাদ উত্তম চরিত্রের নিয়ামতকে মানুষের অন্যান্য সব নিয়ামত থেকে সুন্দরতর করে তুলেছে।

অন্য এক হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর বান্দাদের মাঝে তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বান্দা ওই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম। এতে বোঝা যায় যে, উত্তম চরিত্র আল্লাহকে ভালোবাসার উপকরণ। প্রকৃতপক্ষে রাসূল সা. কে ভালোবাসার উপকরণও উত্তম চরিত্র। রাসূল সা. বলেছেন, তোমাদের মাঝে আমার নিকট অধিক প্রিয় এবং আখেরাতে আমার অধিক নিকটে অবস্থানকারী হবে ওই ব্যক্তি, যার চরিত্র উত্তম এবং আমার অধিক না-পছন্দ এবং কিয়ামতের দিন আমার থেকে অধিক দূরে অবস্থানকারী হবে ওই ব্যক্তি, যার চরিত্র খারাপ।

রাসূল সা.-এর জামানায় দু’জন মহিলা সাহাবী ছিলেন। একজন রাতভর নামাজ পড়তেন, সারাদিন রোজা রাখতেন এবং দান-খয়রাত করতেন কিন্তু নিজের কথাবার্তা দ্বারা প্রতিবেশীদের প্রাণ অতীষ্ঠ করে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়জন শুধু নামাজ পড়তেন, গরিবদের মাঝে সামান্য বস্ত্র বিতরণ করতেন কিন্তু কাউকে কোনোরূপ কষ্ট দিতেন না। রাসূল সা.-এর খেদমতে উভয়ের পরিণতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো।

তিনি প্রথমজন সম্বন্ধে বললেন, তার মাঝে কোনোই পুণ্য নেই। সে তার খারাপ চরিত্রের শাস্তি ভোগ করবে। আর দ্বিতীয়জন সম্বন্ধে বললেন, সে বেহেশতী হবে, যে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। এ দু’জন সাহাবীর ভিন্নতর পরিণতির কথা রাসূল সা.-এর জবান থেকে প্রকাশ পেয়েছে এর দ্বারা ইসলামের নৈতিক বৈশিষ্ট কতখানি সমুন্নত তা বিকশিত হয়ে উঠেছে।

হযরত বারা ইবনে আযেব রা. বলেন, এক বেদুঈন রাসূল সা. এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা., আমাকে ওই কাজ শিখিয়ে দিন যা আমাকে বেহেশতে পৌঁছে দেবে। ইরশাদ হল, মানুষকে গোলামী থেকে মুক্ত কর, ঋণের ভারী বোঝা মানুষের স্কন্ধ থেকে অপসরিত কর, অত্যাচারী প্রতিবেশীর হাত থামিয়ে দাও।

যদি তুমি এতটুকু করতে সক্ষম না হও তাহলে ক্ষুধার্থকে অন্ন দান কর, পিপাসার্তকে পানি পান করাও, পুণ্য পথের সন্ধান দাও, পাপের কাজ প্রতিরোধ কর। যদি একাজ তোমার দ্বারা সম্ভব না হয় তাহলে রসনাকে অমঙ্গলকর কথা ও বাক্যালাপ থেকে বিরত রাখ। এবার চিন্তা করে দেখুন, এ হাদীস উত্তম চরিত্র ও নৈতিক মর্যাদাকে কতখানি সমুন্নত করে তুলেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
MHossain ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৬ এএম says : 0
ইসলাম মানুষে মানুষে মানবিক কোনো ব্যবধান কিংবা বৈষম্য স্বীকার করেনি। মানবিক মর্যাদায় সাধারণভাবে সবাইকে সমান মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদান করেছে।
Total Reply(0)
Mustafizur Rahman ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
মানুষের যোগ্যতা অর্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পূর্ব শর্ত হলো- নৈতিক উন্নয়ন। নৈতিক উন্নয়ন ছাড়া এগুলো অর্জিত হলেও তা স্থায়ী হয় না। নৈতিক উন্নয়ন ছাড়া যে কোনো উন্নয়নই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। তাই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি সুমহান নৈতিক গুণাবলির পূর্ণতা সাধনের জন্য।’ -ইমাম আহমাদ, আল মুসনাদ, হাদিস নং- ৮৯৫২
Total Reply(0)
Majbha Chowdhury ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কিয়ামতের দিন যে জিনিসটি মুমিনের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবে তা হলো- উত্তম চরিত্র। -আবু দাউদ, হাদিস নং- ৪৮০১
Total Reply(0)
Md Akram Hossin ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা মুমিনের অসংখ্য নৈতিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফল, যারা তাদের নামাজে ভীত ও বিনয়ী, যারা নিজেদেরকে অর্থহীন কাজ থেকে বিরত রাখে, যারা জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মতৎপর হয় এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে।’ -সূরা আল মুমিনুন: ১-৫
Total Reply(0)
Md Arshad ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৮ এএম says : 0
বস্তুত ইসলাম যে বিষয়গুলোকে চরিত্রের সুন্দর দিক এবং অবশ্য অর্জনীয় গুণ হিসেবে ঘোষণা করে সেগুলোকে আত্মার গুণ হিসেবে আত্মস্থ করা, নৈতিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত করা এবং জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা গেলে স্বভাবতই মানুষ সম্পদে পরিণত হবে। যে সম্পদ দুনিয়ায় ব্যক্তির নিজের এবং অপরাপর সকলের কল্যাণ ও মুক্তি নিশ্চিত করবে।
Total Reply(0)
MD Alomgir Hossin Alomgir ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৮ এএম says : 0
নৈতিক চরিত্র মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যারা উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী তারা পরিচিতজনদের আস্থা সহজেই অর্জন করতে পারে। পরিবার আত্মীয়স্বজন সমাজ তাদের দ্বারা উপকৃত হয়। ইসলামে নৈতিক চরিত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Total Reply(0)
Khan Tariq Ahmed ১৫ জুন, ২০১৯, ২:৩৮ এএম says : 0
ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নৈতিক চরিত্রকে। নৈতিক চরিত্রকে কল্যাণের উৎস হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। পৃথিবীতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন ঘটেছিল মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্য। মানুষকে সব ধরনের ক্লেদ কালিমামুক্ত করে মন মননে পরিচ্ছন্ন মানুষে রূপান্তরের জন্য। নৈতিক চরিত্রের অধিকারীকে এ জন্যই সর্বোত্তম বলে অভিহিত করা হয়েছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে।
Total Reply(0)
বাবুল ১৫ জুন, ২০১৯, ৯:২৯ এএম says : 0
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই সুন্দর লেখাটির পেশ করায় উবায়দুর রহমান খান নদভী সাহেবকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি
Total Reply(0)
আবেদ খান ১৫ জুন, ২০১৯, ৯:২৭ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদেরকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তৌফিক দান করুক। আমিন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন