ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতামত টাকা সাদা করার মাধ্যমে দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

 প্রস্তাবিত বাজেট বিত্তবান, কালো টাকার মালিক ও ঋণ খেলাপীদের জন্য স্বস্তি আর আনন্দের। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে দুর্নীতি ও অসৎ আয়কে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় প্রস্তাবিত নতুন অর্থ বছরের বাজেট সম্পর্কে গৃহীত এক প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়।

সভায় বলা হয়, এ বাজেটে শ্রমিক-কৃষকসহ স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য কেবল হতাশা আর দীর্ঘশ^াস বয়ে এনেছে। বাজেট ভাবনায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত কোটি কোটি জনগণকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাজেটে ঋণ খেলাপি ও অর্থনৈতিক মাফিয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তির পরিবর্তে তাদের নতুনভাবে প্রণোদনা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরো একবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে প্রকারান্তরে দুর্নীতি ও অসৎ আয়কে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হালাল করে নেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, বাজেট ঘোষণার পর দুর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যবসায়ী, কালো টাকার হোতারা আরো উৎসাহিত হবে। কালো টাকা সাদা করার পক্ষে যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সভায় বলা হয়, কালো টাকার বেশিরভাগ বিনিয়োগে না এসে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন- নীতির পরিবর্তে শ্রমিক, কৃষকসহ উৎপাদক শ্রেণী ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে পরোক্ষভাবে শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও মালিক শ্রেণীর জন্য যেখানে কর ছাড়, রফতানি প্রণোদনা, ঋণ সহজীকরণ, খেলাপি ঋণ মওকুফ ও উদ্যোক্তা তহবিল গঠন করা হচ্ছে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ উৎপাদক শ্রেণী ও শ্রমজীবীদের জন্য প্রত্যক্ষ কোনো প্রণোদনা নেই।

বাজেট প্রস্তাবনা সম্পর্কে আরো বলা হয়, প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার যে ঘাটতি বাজেট তার দায়ও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে। রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধি কমিয়ে আনার পরিবর্তে এই বছরও অনুউৎপাদনশীল রাজস্ব ব্যয় আরো বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। উন্নয়নের চেয়ে অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অনেক বেশি রাখা হয়েছে।

সভায় বলা হয়, বাজেটের সমগ্র নীতি দর্শন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও পরিপন্থী। বাজেটে শিল্প, কৃষি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসনের মত মৌলিক খাতসমূহ এবার উপেক্ষিত হয়েছে। সরকারের প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রীক উন্নয়ন দর্শন অর্থ ও সম্পদের পুঞ্জিভবন ঘটাচ্ছে, এতে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরো বাড়িয়ে তুলবে।

পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আনছার আলী দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আবু হাসান টিপু, রাশিদা বেগম, এ্যাপোলো জামালী, সজীব সরকার রতন, মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, খলিলুর রহমান, জুঁই চাকমা, নির্মল বড়–য়া, শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন