বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নলছিটির গৃহবধূ ইভাকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করার অভিযোগ স্বামী বিরুদ্ধে

ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৯, ৫:৩১ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে নির্যাতনের পর গৃহবধূ নুসরাত জাহান ইভার মুখে তাঁর স্বামী বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইভার বাবা শহরতলীর বৈচন্ডী গ্রামের গাজী আক্তার হোসেন এ অভিযোগ করেন। এমনকি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত তাঁর মেয়েকে চিকিৎসাও করায়-নি শ্বশুর বাড়ির লোকজন। যৌতুকের দাবিতে ইভাকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই নির্যাতন করত বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
লিখিত বক্তব্যে গাজী আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর পূর্বে বৈচন্ডী গ্রামের হাবিবর রহমান হাওলাদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম লিংকন হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয় নুসরাত জাহান ইভার। বিয়ের পর নানা কারণে ইভাকে নির্যাতন করতো তাঁর স্বামী। এছাড়াও ইভার পরিবারের কাছে দুইলাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল লিংকন। নির্যাতন সইতে না পেরে গত ৩০ মে দুপুরে ইভা অজ্ঞান হয়ে যায় । পরে স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনসহ অন্যরা মিলে ইভার মুখে জোরপূর্বক বিষ ঢেলে দেয়। এ ঘটনার পরও তাকে তাঁর স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নেয়নি। খবর পেয়ে পরদিন তাঁর বাবা এসে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জোর পূর্বক মুখে বিষ দেয়ার পর দীর্ঘসময় ধরে চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে তার বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দীর্ঘ ১৫দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যায়। এ ব্যাপরে গত শনিবার বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে গৃহবধূ ইভা আক্তারের মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বামী লিংকন হাওলাদারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। লিখিত বক্তব্যে ইভার বাবা গাজী আক্তার হোসেন আরো বলেন, আমি বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছি। এ ঘটনার পর থেকে মেয়ের কাছে জামাই দুইলাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। বিভিন্ন সময় আমি তাকে ৩০ হাজার, ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু সর্বশেষ সে মোটরসাইকেল কিনবে বলে টাকা চায়। কিন্তু আমি টাকা না দেওয়ায় মেয়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় লিংকন। পলাতক থাকায় লিংকনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন