ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

হাদিস শরীফে নফল রোজা কিছু ফজিলত ও আদব-১

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ইসলামে ইবাদতের গুরুত্ব অনেক। ঈমানের পরই ইবাদতের স্থান। ইসলাম যেহেতু আসমানি দ্বীন, মানবজাতির জন্য আসমানি নির্দেশনা, এ কারণে তার অনেক বৈশিষ্ট্যের একটি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গতা। ইসলাম যেমন মানুষের হক সম্পর্কে নির্দেশনা দান করেছে তেমনি দান করেছে আল্লাহর হক সম্পর্কে। শুধু নির্দেশনাই নয়, মানুষের হক ও আল্লাহর হকের বিস্তারিত বর্ণনাও দান করেছে। শুধু বর্ণনাই নয় সেই হক আদায়ের পন্থা ও পদ্ধতিও নির্দেশ করেছে। বস্তুর মোহে আক্রান্ত মানবজাতিকে আল্লাহর হক সম্পর্কে এবং সেই হক আদায়ের সঠিক পন্থা সম্পর্কে ইসলামই সচেতন করে, যা পূরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হয়।

এক অর্থে ইসলামের সকল বিধান পালন করা আল্লাহর হক। আল্লাহর আদেশ পালন বান্দার অপরিহার্য কর্তব্য। সেই সকল আদেশের মধ্যে যেমন রয়েছে ঈমান ও ইবাদত তেমনি রয়েছে মানুষের পারস্পরিক হক সংক্রান্ত বিধিবিধান। এই উভয় প্রকারের বিধান পালন বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলেও বিশেষ তাৎপর্যের কারণে ঈমান, তাওহীদ, ইবাদত-বন্দেগীকে আল্লাহর হক শিরোনামে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়।

ইসলামে ইবাদতের স্থান অতি উচ্চে। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত হাদিসে ইসলামের যে পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে ঈমান আর পরের চারটি হচ্ছে চার ফরজ ইবাদত- সালাত, জাকাত, সওম ও হজ। কাজেই ইবাদত-বন্দেগীর বিষয়ে যত্মবান হওয়া দ্বীনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা।

ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যেও দু’টি প্রকার রয়েছে : এক. যা অবশ্য পালনীয় আর দুই. যা ঐচ্ছিক। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অবশ্য পালনীয় ইবাদতসমূহের গুরুত্ব ঐচ্ছিক ইবাদতসমূহের চেয়ে বেশি। হাদিস শরীফে পরিষ্কার বর্ণিত হয়েছে, ‘বান্দা আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে বেশি নৈকট্য অর্জন করে ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে’।
তবে নফল ও ঐচ্ছিক ইবাদতের ফজিলতও এত বেশি যে, তা মুমিনকে উদ্দীপ্ত ও আগ্রহী করে তোলে। বর্তমান নিবন্ধে আমরা শুধু একটি ইবাদত- নফল রোজা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব।

হাদিস শরীফে নফল রোজার অনেক প্রকার ও অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও নফল রোজা রেখেছেন, উম্মতকেও এর ফজিলত শুনিয়েছেন। এখানে কিছু নফল রোজার বৃত্তান্ত তুলে ধরছি, যাতে যার পক্ষে যেটি সহজ হয়, আমল করতে পারেন।
শাওয়ালের ছয় রোজা : হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে মাহে রমজানের রোজা রাখল এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোজা রাখল এটি তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১১৬৪)।

সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী রাহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমাদের মনীষীদের মতে, উত্তম হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পরের ছয় দিন পরপর রোজাগুলো রাখা। তবে যদি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখে বা মাসের শেষে রাখে তাহলেও ‘রমাজানের পরে’ রোজা রাখার ফজিলত পাওয়া যাবে। কারণ সব ছুরতেই বলা যায়, ‘রমজানের পরে শাওয়ালের ছয় রোজা রেখেছে।’ (শরহু সহীহ মুসলিম, নববী)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
Sahin Ahmed ১৯ জুন, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
নফল রোজার অনেক বড় ফজিলত ও ছাওয়াব রয়েছে।
Total Reply(0)
এহসান বিন মুজাহির ১৯ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে যেন শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা এখলাসের সাথে রাখার তাওফিক দান করেন। আমিন
Total Reply(0)
MD Masud Howlader ১৯ জুন, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
রাসুলের হাদিস দ্বারা শাওয়ালের ছয়টি রোজার অনেক ফজীলত এবং রাসুল সা. নিজেও শাওয়ালের এ ছয় রোজা রাখতেন এবং উম্মতকে রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, সেজন্য এ রোজা রাখা আমাদের জন্য উচিত।
Total Reply(0)
আবুল কালাম আযাদ ১৯ জুন, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
আসুন, আমরা এই মহান ফজীলত ও বরকতময় শাওয়ার মাসে ছয়টি নফল রোজা পালনের নেক আমলটি নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করি। আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার মাধ্যমে সারা বছর রোজা পালনের সওয়াব হাসিলের দ্বারা ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
Total Reply(0)
Kamal Hasan ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
নফল ও ঐচ্ছিক ইবাদতের ফজিলতও এত বেশি যে, তা মুমিনকে উদ্দীপ্ত ও আগ্রহী করে তোলে।
Total Reply(0)
Nizam Uddin ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
শাওয়ালের রোজা ফরজ নামাজের পর সুন্নাতে মুআক্কাদার মতো। যা ফরজ নামাজের উপকারিতা ও তার অসম্পূর্ণতাকে পরিপূর্ণ করে। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রমযানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতা সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি ঘটে থাকলে তা দূর করে থাকে। সে অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি কথা রোজাদার জানতে পারুক আর নাই পারুক। তাছাড়া রমযানের ফরজ রোজা পালনের পরপর পুনরায় রোজা রাখার মানেই হলো রমজানের রোজা কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ। যেহেতু মহান আল্লাহ্ কোনো বান্দার নেক আমল কবুল করেন, তখন তার পরেই তাকে আরও নেক আমল করার তাওফিক দান করে থাকেন। যেমন উলামাগণ বলে থাকেন, ‘নেক কাজের ছাওয়াব হলো, তার পরে পুনরায় নেক কাজ করা। (আহকামিস সিয়াম)
Total Reply(0)
MD.NURUL ISLAM ১৯ জুন, ২০১৯, ১০:০০ এএম says : 0
শাওয়ালের রোজা ফরজ নামাজের পর সুন্নাতে মুআক্কাদার মতো। যা ফরজ নামাজের উপকারিতা ও তার অসম্পূর্ণতাকে পরিপূর্ণ করে। অনুরূপভাবে শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রমযানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতা সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি ঘটে থাকলে তা দূর করে থাকে। সে অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি কথা রোজাদার জানতে পারুক আর নাই পারুক। তাছাড়া রমযানের ফরজ রোজা পালনের পরপর পুনরায় রোজা রাখার মানেই হলো রমজানের রোজা কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ। যেহেতু মহান আল্লাহ্ কোনো বান্দার নেক আমল কবুল করেন, তখন তার পরেই তাকে আরও নেক আমল করার তাওফিক দান করে থাকেন। যেমন উলামাগণ বলে থাকেন, ‘নেক কাজের ছাওয়াব হলো, তার পরে পুনরায় নেক কাজ করা। (আহকামিস সিয়াম)
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন