ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

খেলাধুলা

ছক্কার রেকর্ডে শীর্ষে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

আলোক ঝলমলে শান্ত স্বাভাবিক একটা সকালই শুরু হয়েছিল ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ব্যাট হাতে ইয়ন মরগান মাঠে নামতেই পাল্টে গেল চিত্র। আফগান বোলারদের উপর দিয়ে ইংলিশ দলপতি বইয়ে দিলেন টর্নোডো। বিশাল বিশাল ছক্কা বৃষ্টির ফোঁটার মত আছড়ে পড়ল গ্যালারিতে। ছক্কার রেকর্ড গড়ে দুই’শর উপরে স্ট্রাইক রেটে দেড়শপ্রায় রানের ইনিংস খেললেন ইংলিশ দলপতি। বড় ফিফটি এলো জনি বেয়ারস্টো ও জো রুটের ব্যাট থেকে। বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১৫০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এল ইংলিশরা।
গতকাল ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিশ্বকাপের ২৪তম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করলেও ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে আটকে যায় আফগান ইনিংস।
৭১ বলে ১৪৮ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে মরগান বল উড়িয়ে মাঠছাড়া করেন ১৭ বার। ওয়ানডে ইনিংসে যা ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ১৬ ছক্কা হাঁকিয়ে এতদিন যৌথ রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্রিস গেইল (প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ২০১৫), এবি ডি ভিলিয়ার্স (প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৫) ও রোহিত শর্মা (প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ২০১৩)। অথচ পিঠের ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে মরগানের খেলা নিয়েই ছিল শংশয়।
সঙ্গে মইন-বেয়ারস্টোদের ছক্কাগুলো মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় ছক্কার রেকর্ডটা হালনাগাদ করে নেয় ইংলিশরা। চলতি বছরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪ ছক্কার রেকর্ড গড়েছিল মরগানের দল। এবার ২৫ ছক্কায় বিশ্বকাপ ফেভারিটরা রেকর্ডটা নিয়ে গেল আরেক ধাপ উচ্চতায়। পরে আফগানরা আট ছক্কা হাঁকালে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ (৩২) ছক্কার রেকর্ডটাও নতুন করে লেখা হয়।
অথচ ইংলিশদের শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। পাওয়ার প্লের দশ ওভারে আসে ১ উইকেটে ৪৬, আসরে যা তাদের মন্থরতম। ইনজুরিগ্রস্থ জেসন রয়ের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জেমস ভিন্স ফেরেন ২৬ রান করে। দলীয় শতক আসে ২০ ওভারে। দ্বিতীয় উইকেটে রুটের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়ে ১০ রানের আক্ষেপ নিয়ে আউট হন বেয়ারস্টো। তার ৯৯ বলে ৯০ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছয়ের মার।
এরপরই ক্রিজে আসেন মরগান। ব্যক্তিগত ২৮ রানে দৌলাতের হাতে দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার পর ১২০ রান করেন মাত্র ৪৫ বলে। মোহাম্মাদ নবিকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৬ বলে ফিফটি করার পর ৫৭ বলে ক্যারিয়ারের ১৩তম শতক পূর্ণ করেন মরগান। সেঞ্চুরির ধরনটাও ছিল নিজেস্ব স্টাইলে, রশিদকে এক ওভারে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে। আসরের দ্রততম ও সব মিলে বিশ্বকাপের চতুর্থ দ্রুততম শতক এটি। দ্রুতগতির সেঞ্চুরিতে মরগানের উপরে আছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫৫ বলে, বিপক্ষ উইন্ডিজ), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৫১ বলে, বিপক্ষ শ্রীলঙ্কা), কেভিন ও’ব্রায়েন (৫০ বলে, বিপক্ষ ইংল্যান্ড)।
বলের সঙ্গে এগুতে থাকা রুটও শেষদিকে চড়াও হওয়া শুরু করেন। ৪৭তম ওভারে তাকে ফিরিয়ে ১৮৯ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন করেন গুলবাদিন। আগের দিন সাকিব-লিটনের অবিচ্ছিন্ন জুটিও ছিল ১৮৯ রানের, যা আসরের সর্বোচ্চ। ৮২ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৮৮ রান করেন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী (৩৬৭) রুট। তার চেয়ে এক ইনিংস কম খেলে ৩৮৪ রান নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে টাইগার অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
ঐ ওভারেই লং অফে ধরা পড়েন মরগান। একাদশে ফেরা মইন আলির ৯ বলে চার ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রানের ক্যামিও দলীয় সংগ্রহ চারশ’র কাছে নিয়ে যায়। শেষ দশ ওভারে আসে ১৪৮ রান!
সবচেয়ে বড় ঝাপটা সইতে হয়েছে রশিদ খানকে। মরগানের ১৭ ছক্কা ১১টিই আসে এই লেগ স্পিনারের ওভার থেকে। ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়ে রশিদ ছিলেন উইকেটশূন্য। বিশ্বকাপের যা সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটা ছিল নিউজিল্যান্ডের মার্টিন স্নিডেনের। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ ওভারে ১০৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। আর ওয়ানডেতে সবচেয়ে বাজে বোলিং রেকর্ড অস্টেলিয়ার মিক লুইসের। ওয়ানডেতে সফল রান তাড়ার (৪৩৪) সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মিক।
রানের পাহাড় টপকানো নয়, মূলত হারের ব্যবধান কমানোই ছিল আফগানদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য মুটামুটি সফল তারা। এজন্য বড় কৃতিত্ব হাশমতউল্লাহ শহিদির। ১০০ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন এই টপ অর্ডার। চতুর্থ উইকেটে আজগর আফগানকে নিয়ে গড়েন ইনিংস সর্বোচ্চ ৯৪ রানের জুটি। ৫২ রানে তিন উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার জোফরা আর্চার।
নিজেদের পরবর্তি ম্যাচে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। পরের দিন আফগানস্তানের প্রতিপক্ষ ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩৯৭/৬ (ভিন্স ২৬, বেয়ারস্টো ৯০, রুট ৮৮, মরগান ১৪৮, বাটলার ২, স্টোকস ২, মইন ৩১*, ওকস ১*; মুজিব ১০-০-৪৪-০, দৌলত ১০-০-৮৫-৩, নবি ৯-০-৭০-০, নাইব ১০-০-৬৮-৩, রহমত ২-০-১৯-০, রশিদ ৯-০-১১০-০)। আফগানিস্তান : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নুর আলি ০, গুলবাদিন ৩৭, রহমত ৪৬, শহিদি ৭৬, আসগর ৪৪, নবি ৯, নাজিবুল্লাহ ১৫, রশিদ ৮, ইকরাম ৩*, দৌলাত ০*; ওকস ৯-০-৪১-০, আর্চার ১০-১-৫২-৩, মইন ৭-০-৩৫-০, উড ১০-১-১৪০-২, স্টোকস ৪-০-১২-০, রশিদ ১০-০-৬৬-৩)। ফল : ইংল্যান্ড ১৫০ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : ইয়ন মরগান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন