ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত কোষ্ট গার্ডের ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল হস্তান্তর বৃহস্পতিবার

৪টি ‘হাইস্পীড বোট’ নির্মানেরও সূচনা হচ্ছে

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৯, ১০:৫১ এএম | আপডেট : ১০:৫৫ এএম, ১৯ জুন, ২০১৯

বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড-এর জন্য ২৬৭কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩টি ‘ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-আইপিভি’ হস্তান্তর এবং প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি হাইস্পিড বোট নির্মানের কিল লেয়িং হচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড-এ। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপরে খুলনা শিপইয়ার্ড-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। শিপইয়ার্ড-এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কমোডর আনিসুর রহমান মোল্লা (এল)এনইউপি, পিএসসি-বিএন’এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড-এর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসিÑ বিএন বিশেষ অতিথি থাকছেন। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ২০১৬-এর ২ অক্টোবর ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-এর নির্মান কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন। চীনা কারিগড়ি সহায়তায় সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে নির্মিত এসব আইপিভি বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধির করবে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথ এবং নদ-নদীর নিরাপত্তার সাথে নিবিড়ভাবে ইলিশ সহ আমাদের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষন ও সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দায়িত্বশীল মহল।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সমুদ্র সীমা নির্ধারিত হওয়ায় আমাদের ব্লু-ইকনমীর যে দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, সে অপর সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কোষ্ট গার্ডকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। আর এরই অংশ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ডে ৩টি ‘ইনশোর পেট্রোল ভেসেল’-এর নির্মান কাজ সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার কোষ্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
কোষ্ট গার্ডের আধুনিকায়ন এবং সরকার গৃহীত কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে এ বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষে ২০১৫ থেকে ’৩০ সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন সহ বাস্তবায়ন চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনলয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, কোষ্ট গার্ড ইতোমধ্যে দেশের বিশাল উপকুলীয় এলাকা সহ বিভিন্ন নদী বন্দর এবং নৌপথে আস্থা ও নির্ভরতা অর্জন করেছে। দেশের বিশাল সমুদ্র উপকুলীয় এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কোষ্টগার্ড বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এ বাহিনী নৌযানসমুহের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীন ও উপকুলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল প্রদান করে আসছে। চোরাচালান ও মাদাক বিরোধী অভিযান ছাড়াও সুষ্ঠু ও নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ রক্ষার সাথে আইনÑশৃংখলার ক্ষেত্রেও কোষ্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। আর এ লক্ষ্যেই সরকার কোষ্টগার্ডকে একটি আধুনিক আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল মহল।
চীনা কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ইনশোর পেট্রাল ভেসেলগুলোর দৈর্ঘ প্রায় ১৭০ ফুট করে। প্রায় ২৫ ফুট প্রস্থ এসব আধা সামরিক নৌযান ৩শ টন পানি অপসারন করে ঘন্টায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বেগে একনাগারে দেড় হাজার কিলামিটার পর্যন্ত টহল প্রদানে সক্ষম। নৌযানগুলোতে জার্মেনীর ‘এমটিউ’ ব্রান্ডের ২ হাজার ১শ কিলোওয়াটের ২টি করে মূল ইঞ্জিন ছাড়াও আমেরিকার ‘খোলের’ ব্রান্ডের ১শ কিলোওয়াটের ২টি করে জেনারেটর রয়েছে। অত্যাধুনিক এসব টহল নৌযানে দুটি করে নেভিগেশনাল রাডার, ২টি করে হাই ফ্রিকোয়েন্সী কমিউনিকেশন রেডিও সরঞ্জাম ছাড়াও ১টি করে ভিএইচএফ যোগাযোগ সরঞ্জামের পাশাপাশি ১টি করে নেভটেক্স রিসিভার সংযোজন করা হয়েছে।
এসব আধা সামরিক টহল নৌযানে ৩০ মিলিমিটারের ২টি করে সেমি অটোমেটিক গান ছাড়াও ১৪.৫ মিলির দুটি গান এবং দুটি করে এলএমজি থাকছে।
বৃহস্পতিবার খুলনা শিপইয়ার্ডে এসব আইপিভি হস্তান্তরের সাথে কোষ্টগার্ডের জন্য আরো ২টি ‘হাইস্পীড ফেরি বোট’ ও দুটি ‘হাইস্পীড ডাইভিং বোট’ নির্মান কাজেরও কিল লেয়িং করবেন স্বরাষ্ট্র সচিব। ৬৭ফুট দৈর্ঘ ও প্রায় ২১ফুট প্রস্থ দুটি হাইস্পীড ফেরি বোট কোষ্ট গার্ডের বিভিন্ন ঘাটি ও অপরেশনাল কার্যক্রমে ব্যাবহৃত হবে। প্রায় ৫৫ টন পানি অপসারন করে ঘন্টায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলতে সক্ষম এসব নৌযানে জাপানের ‘ইনয়নমার’ ব্রান্ডের ৪৭৮ কিলোওয়াটের ২টি করে মূল ইঞ্জিন ছাড়াও একই ব্রান্ডের ৩৬.৮ কিলোওয়াটের ২টি জেনারেটর সংযোজন করা হবে।
একইসাথে উপক’লীয় বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা সহ ডাইভিং অপারশেন সহ টহল কাজে অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সহ দুটি হাই স্পীড ডাইভিং বোট-এর নির্মান কাজেরও সূচনা করবেন স্বরাষ্ট্র সচিব। এসব নৌযানগুলোতেও একই ধরনের মূল ইঞ্জিন সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নৌ সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হবে। ফ্রান্সের নৌযান জরিপ ক্লাসিফেকেশন সোসাইটি ‘ ব্যুরো ভেরিটাস’এর তত্ববধানে এসব হাইস্পীড ফেরি ও ডাইভিং বোট সমুহ নির্মিত হবে বলে খুলনা শিপইয়ার্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড’ই দেশে প্রথমবারের মত এধরনের বিশেষায়িত আধা সামরিক নৌযান নির্মান করতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য মাঝারী থেকে বড় ধরনের যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও সাবমেরিন টাগ সহ বিভিন্ন ধরনের সমর নৌযান নির্মানের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠনটি কোষ্ট গার্ডের জন্যও টাগ বোট, ভাসমান ক্রেন ও পন্টুন তৈরী করছে। খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে কন্টেইনার শীপ, অয়েল ট্যাংকার, প্যাসেঞ্জার শীপ, ট্যুরিস্ট বোট, ফায়ার ফঅইটং বোট ও ফেরীসহ সব ধরণের নৌযান নির্মান কাজও সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছর প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা করপূর্ব মুনফা অর্জন করে। এক সময়ে রুগ্ন ও বিরাষ্ট্রীয়করন তালিকাভূক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকার দায়দেনা নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এপর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যাবস্থাপনা কতৃপক্ষ সহ কর্মীদের সততা, আন্তরিকতা এবং নিরলশ প্রচেষ্টায় সব দায়দেনা পরিশোধ করে গত প্রায় দু দশকে খুলনা শিপইয়ার্ড ৫শ কোটি টাকার মত নীট মুনফা অর্জনেও সক্ষম হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন