ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ধর্ষণের শিকার ফারজানার আত্মহত্যা

শিশুসহ সাভার ও চাঁদপুরে শিকার আরো ২ : আটক ২

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

রাতভর ধর্ষণের শিকার হওয়ায় অপমানে আত্মহত্যা করলো বরিশালের ফারজানা। এর আগে গত বুধবার রাতে প্রতিবেশীর ফাঁকা বাড়িতে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে করে রাজিব নামে এক যুবক। সাভারে বাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে রাবেয়া আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। চাঁদপুরে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, নেত্রকোনার বারহাট্টায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ ঘটনায় একজনসহ বিভিন্ন স্থানে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বরিশাল : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ায় লোকলজ্জা ও ক্ষোভে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ফারজানা আক্তার (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী। ফারজানা আক্তার বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালঘুনি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ফারজানার স্বজনরা জানান, ফারজানার বাড়ির পাশে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। বনভোজনে ফারজানা অংশ নেন। সেখানে প্রতিবেশী রাজিবও অংশ নেয়। রাতে রাজিব তার বন্ধুদের সহায়তায় ফারজানাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদের ফাঁকা ঘরে নিয়ে তাকে রাতভর ধর্ষণ করে রাজিব। রাতে মেয়ে বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন বাবা সালাম ফরাজী। এতে সহযোগিতা করে রাজিবের বন্ধু একই এলাকার তরিকুল ইসলাম, শাওন গাজী, শাওন ফরাজী, রাসেদ ও জোবায়ের।

পরদিন সকালে রাজিব বন্ধুদের সহায়তায় ফারজানাকে বাড়ির সামনে ফেলে যায়। পরে ফারজানা ধর্ষণের বিষয়টি বাবাকে জানান। বাবা সালাম ফরাজি মেয়েকে অপমান করেন। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ওই দিন সকালে লোকলজ্জা ও ক্ষোভে বিষপান করেন ফারজানা। অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল এবং পরে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার মারা যান ফারজানা।

মামলার বাদী ও নিহতের বাবা সালাম ফরাজী বলেন, ফারজানাকে ধর্ষণের ঘটনায় গত সোমবার বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করি। তবে একজনও গ্রেফতার হয়নি। ধর্ষক ও খুনিদের কঠোর শাস্তি চাই আমি। এ বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ।

সাভার (ঢাকা) : সাভারের আশুলিয়ার ধনাইদে বাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ধর্ষণের শিকার তরুণীর মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে সহায়তায় করায় এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর মা বলেন, সোমবার দুপুরে আমি বাসার বাইরে ছিলাম। এ সুযোগে পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া রাবেয়া আক্তার (৩২) আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশী মো. জামশেদের (২০) রুমের মধ্যে মেয়েকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় রাবেয়া। এরপর জামশেদ আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। বাসায় এসে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারি আমি। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। মামলার আসামিরা হলেন- গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ভাঙাবুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. জামশেদ ও একই উপজেলার নাটেরহাট গ্রামের মো. সিদ্দিকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম। আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাম কৃষ্ণ দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত রায়েবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চাঁদপুর : চাঁদপুরে ১৪ বছরের জেল খাটা আসামি ৮ বছরের শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার ভোরে পুলিশ একজনকে আটক করে। গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় সদর উপজেলা ২ নং আশিকাটি ইউনিয়নের গাজী বাড়ির সামনে মোকলেস গাজী (৩৮) পাট খেতে জোরপূর্বক নিয়ে শিশুকে ধর্ষণ করে। পাট ক্ষেত থেকে শিশুটিকে তার মা উদ্ধার করে। পরে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি সদর উপজেলার লালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। ধর্ষণকারী লম্পট মোকলেস গাজী বাবুরহাট বাজারের কাঁচামালের ব্যবসায়ী।

শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার চিহ্নিত একটি চক্র কাল ক্ষেপন করে। চাঁদপুর মডেল থানার ওসি নাসিম উদ্দিন হাসপাতালে শিশুটির খোঁজ খবর নিয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায়।
নেত্রকোনা : প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে বারহাট্টা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে নতুন শেখের পাড়া গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক আল-আমিনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার বাউশী ইউনিয়নের নতুন শেখের পাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা মা প্রতিদিনের মত গত সোমবার সকালে কিশোরীটিকে বাড়ীতে রেখে কাজে যায়। এই সুযোগে প্রতিবেশী শান্ত ফকিরের ছেলে আল-আমিন ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আল আমিন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী মেয়েটির বাবা- মাকে খবর দেয়। এ ব্যাপারে বারহাট্টা থানার ওসি মো. বদরুল আলম খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ধর্ষক আল আমিনকে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Arif ২০ জুন, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
sokar ki kore bujlam na,,eta ki shadhin desh?
Total Reply(0)
Nazrul Islam Babul ২০ জুন, ২০১৯, ১০:১৮ এএম says : 0
চ‌লে গে‌ছে বর্বর সমাজ‌কে ধিক্কার জা‌নি‌য়ে ।
Total Reply(0)
Jashim Uddin Jashim ২০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
এসব অন্যায় অত্যাচার দুর করতে হলে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সৃষ্টিকর্তার বিধান দরকার। ব্যক্তিতে, পরিবারে, সমাজ ও রাষ্ট্রে, মোটকথা প্রত্যেকটি ক্ষেএে যদি বিধির বিধান অনুযায়ী চলে, তাহলে চুরি ডাকাতি ধর্ষণতো দুরের কথা ধর্ষণের কলপনা করতেও মনে ভয় আসবে। বিধির বিধান, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্যে সমান।
Total Reply(0)
Rumman Talukdar ২০ জুন, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
ভাইরাল করে কি হবে দেশে সঠিক আইন বিচার আছে,যার পকেট ভর্তি টাকা আছে তার সব আছে
Total Reply(1)
arif ২০ জুন, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
vai manush aktu serious hok news ta pore
Sj Jannat ২০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
আর কত নারী যে ধর্ষণের স্বীকার হয়ে আত্মহত্যা করবে আল্লাহ জানে।কেন যে এদেশের মেয়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই আল্লাহ জানে।একজন ধর্ষণকারীকে এরকম শাস্তি দেওয়া উচিত যে শাস্তি দেখে অন্য কেউ যাতে ধর্ষণের কথা চিন্তাও না করে। কিন্তু আমাদের দেশে এরকম কোনো শাস্তি হয়না।ধর্ষণকারি ঠিকি মাথা উচু করে সমাজে চলাফেরা করতেছে। আর যে ধর্ষিতা সমাজের লোক সব দোস তাকে দিচ্ছে এটাই আমাদের সমাজের নীতি। সে না পারে সইতে না পারে কইতে। তাই সে জাহান্নমের পথ বেছে নেই।
Total Reply(0)
Nazma Sultana ২০ জুন, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
ধর্ষককে কঠোর শাস্তি দিয়ে জনসন্মুখে ফাঁসি দেয়া হোক , যাতে ইতরদের টনক নরে ।
Total Reply(0)
অচেনা মানুষ ২০ জুন, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
ধর্ষন ধর্ষন ধর্ষন একথা আর ভালো লাগেনা।এটার কি কোন প্রতিকার নেই?এদের পিছনে কঠোর অাইন নিয়োগ করা হোক
Total Reply(0)
Mohammad Kabir ২০ জুন, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
এমন একটা শাস্তি হতো যারা এইসব বাজে কাজ করবে ওদের ইনজেকশন দিয়ে ওটাকে নস্ট করে দেয়া তাহলে কিছু কমবে।
Total Reply(0)
Razzak Abdur ২০ জুন, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
We all should follow the quran and the hadith.
Total Reply(0)
parvez ২০ জুন, ২০১৯, ২:৫৩ পিএম says : 0
" ... বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ। " " ... তবে একজনও গ্রেফতার হয়নি। "
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন