ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য জাতিসংঘও দায়ী সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৯, ১২:১৩ এএম

 রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য অন্যদের সঙ্গে জাতিসংঘকেও দায়ী করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। জাতিসংঘকে দায়ী করে তিনি বলেন, তারা অনেক কিছু গোপন রেখেছে এবং নিশ্চয়ই তারা এর জন্য দায়ী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে জেনেভা কনভেনশনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেড ক্রস এবং ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ভুল ছিল বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দুর্ঘটনা একদিনে হয়নি। অনেকদিন ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। জাতিসংঘ সেই বিষয়ে সজাগ হয়নি। দুনিয়া থেকে সংঘাত দূর করতে মানসিকতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সেটাতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সেই অনুপাতে কাজ করে না।

ড. মোমেন বলেন, দুর্ঘটনা হওয়ার পর জাতিসংঘ কিছু বক্তব্য দিয়েছে, কিন্তু এর বেশিরভাগ বাংলাদেশের জন্য। তিনি বলেন, যেখানে তাদের কাজ করার দরকার, সেখানে তাদের অবস্থান দুর্বল। জেনেভা কনভেনশন আইন লঙ্ঘিত হয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, অনেকক্ষেত্রে যারাই আইন তৈরি করেছে, তাদের অনেকে যখন মানবতা লঙ্ঘিত হয়, তখন মুখ ফিরিয়ে নেয়। এর ফলে আইনগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে যারা নিরীহ লোক, যারা যুদ্ধে কোনোভাবেই জড়িত নয়, তাদের মানবিকতা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। জেনেভা কনভেনশন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭০ বছর আগে মানবতা রক্ষায় জেনেভা কনভেনশন নিয়ে বিশ্ব একমত হল সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। জেনেভা কনভেনশনের জন্মতিথি পালন করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন সারাবিশ্ব হত্যাযজ্ঞে মেতেছিল তা থেকে প্রতিহত করতেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এ কনভেনশনের আয়োজন করে। এটি খুব ভালো কনভেনশন, ভালো ভালো আইন আছে। তবে এটি বৈষম্যমূলকভাবে এখন ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে যখন মানবতা বিঘিœত হয়, তখন যারা এ আইনটি তৈরি করেছিল তারাই মুখ ফিরিয়ে রাখে। সেজন্য এখন এ কনভেনশন নিয়ে মানুষ প্র তুলছে। কনভেনশনের আইনগুলো দুর্বল হয়ে গেছে। যুদ্ধে যারা সাধারণ মানুষ তাদের আমাদের রক্ষা করতে হবে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধে আমরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তেমনি মিয়ানমারের অত্যাচারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মন্ত্রী জেনেভা কনভেনশনের আইনগুলো যদি মানা হতো তাহলে এ ধরণের ঘটনা রোধ করা যেতে। আজ মিয়ানমার, ফিলিস্তিন যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে তারই প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন