ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

শরীয়তের দৃষ্টিতে দাড়ির মর্যাদা

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

মুসলিম শরীফসহ অপরাপর হাদীস গ্রন্থসমূহে দেখা যায় যে, দাড়ি রাখা কেবল রাসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাত নয়; বরং আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী রাসূলগণের তরীকা ও সুন্নাত ছিল। হযরত হারুন আ. এর দাড়ির কথা কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান আল মুনজিদে উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত ইব্রাহীম আ. এবং গির্জাসমূহে হযরত ঈসা আ. এর দাড়ি সম্বলিত ছবি এখনো বিদ্যমান আছে। সকল সাহবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও ইমাম-আলেম তথা মুসলিম উম্মাহর ধর্মপরায়ণ ও আদর্শবান ব্যক্তিবর্গের তরীকাও দাড়ি রাখা। এটা মুসলিম জাতির এক বিশেষ ইউনিফরম এবং ইসলামের অন্যতম নিদর্শন।

চিকিৎসাশাস্ত্রে দাড়ির উপকারিতা স্বীকৃত। অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ দাড়ির গুণাগুণ সম্পর্কে অনেক লিখেছেন। সে কারণে পূর্ব যুগের হাকীম ও দার্শনিক ও মনীষীগণের দাড়ি সম্বলিত চেহারা বই পুস্তকে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুসলমান ভিন্ন জাতির বিশেষতঃ খ্রিস্টান ও পাশ্চাত্য দেশীয় লোকদের অনুকরণ ও তাদের মানসিক দাসত্বের শিকার হয়ে শুধু যে দাড়ি মুন্ডন করছে তাই না; বরং দাড়িধারী লোকদের প্রতি বিদ্রুপ ও পরিহারসমূলক উক্তিও করে থাকে।

হাদীস শরীফে আছে রাসূলুল্লাহ সা. সত্য বলেছেন, ‘অবশ্যই তোমরা (পরবর্তী যুগে) বিঘতে-বিঘত ও হাতে-হাত মিলিয়ে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের রীতিনীতি অবলম্বন করবে। এমনকি তারা যদি সাপের গুহায় ঢুকে, তোমরা তাও অনুসরণ করবে। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা. যাদের রীতিনীতি আমরা অনুসরণ করব, তারা কি ইয়াহুদী-খ্রিস্টান? তিনি বলেন, ইহুদি-খ্রিস্টান ছাড়া আর কে হতে পারে? (মিশকাত শরীফ)।

দাড়ির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা.-এর অনেক হাদীস রয়েছে। তন্মধ্য হতে কিছু হাদীস পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো। ১. হযরত ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ ছোট। (সহীহ বুখারী: ৫৮৯২)। ২. হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, গোঁফ ছোট এবং দাড়ি ঝুলাও এবং অগ্নিপুজারিদের বিরোধিতা কর। (সহীহ মুসলিম : ৬২৬)। ৩. একদা এক অগ্নিপুজারি রাসূল সা.-এর কাছে আসে। তার দাড়ি ছিল মুন্ডন করা এবং গোঁফ ছিল লম্বা। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমার এ অবস্থা কেন? সে জবাব দেয় এটা আমাদের ধর্ম। রাসূল সা. বলেন, কিন্তু আমাদের ধর্ম হলো গোঁফ ছাটা ও দাড়ি লম্বা করা। (মুসান্নাফে আবি শায়বা)। ৪. হযরত আয়শা রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, দশটি বিষয় সৎ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। (অধিকাংশ আলেম এগুলোকে নবীগণের সুন্নাত বলেছেন) গোঁফ ছাটা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা, নখ কাটা, উরু সন্ধিস্থল ধোয়া, বগলের কেশ পরিষ্কার করা, নাভীর নিচের কেশ পরিষ্কার করা, প্রস্রাব-পায়খানার পর পানি ব্যবহার করা। এই হাদীসটি বর্ণনা করি বলেন দশম বিষয়টি আমি ভুলে গেছি। সম্ভবত কুলি করা হবে। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
সোয়েব আহমেদ ২২ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অস্বীকারকারী ব্যতিত আমার উম্মতের সকলেই বেহেস্তে যেতে পারবে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, অস্বীকারকারী কে? আল্লাহর হাবীব উত্তরে বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য অবলম্বন করে চলবে সে বেহেস্তে যাবে আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানী করবে সে অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে। (বোখারী শরীফ, ৭ম খণ্ড, হাদিস নম্বর-২৬৯০)। আমীন।
Total Reply(0)
মেঘদূত পারভেজ ২২ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
মহানবী (সাঃ) ব‌লেন - "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে মুহাব্বত করল সে যেন আমাকেই মুহাব্বত করল। আর যে আমাকে মুহাব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে বসবাস করবে " । (তিরমিযী শরীফ, মেশকাত- পৃ: ৩০)
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২২ জুন, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, দশটি বিষয় সকল নবী রাসূলগণের সুন্নাত। তন্মধ্যে গোঁফ ছোট করা এবং দাঁড়ি লম্বা করা অন্যতম। (মুসলিম শরীফ,১/১২৯)
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ২২ জুন, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
আসুন, দাড়ি রাখবো কি রাখবো না এই ব্যাপারে আর সন্দেহে না থেকে দাড়ি রেখে অন্তত একটি হাদিসের শ্রবণকারী ও মান্যকারী হিসেবে এই পাপী ও ফিতনা সংকুল জীবনের অবসান ঘটাই। তাহলে হয়তো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর হাবীবের সুপারিশ আমাদের নসীব হবো। না হলে আমরা শেষ বিচারের দিন অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবো। একটু ভেবে দেখি আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলার পরও আমরা কোনো কাজ করলাম না তা কি ক্ষমার যোগ্য বা তা পালনে কি কোনো সন্দেহ থাকা উচিত?
Total Reply(0)
Naim Uddin ২২ জুন, ২০১৯, ১০:৩৫ এএম says : 0
thanks a lot for this article
Total Reply(0)
MUHAMMAD ২২ জুন, ২০১৯, ১১:২৮ এএম says : 0
মহানবী (সাঃ) ব‌লেন - "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে মুহাব্বত করল সে যেন আমাকেই মুহাব্বত করল। আর যে আমাকে মুহাব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে বসবাস করবে " । (তিরমিযী শরীফ, মেশকাত- পৃ: ৩০)B
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন