ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

ডিজিটাল অর্থনীতির ব্যাপক সম্ভাবনা

| প্রকাশের সময় : ২৩ জুন, ২০১৯, ৬:৪৮ এএম

বিশ্বজুড়ে অনলাইন অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে শুরু করে, ব্যবসার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন। এ তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে এবং বেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে ধীরে ধীরে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে শরু করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। এদিক থেকে এশিয়া এগিয়ে রয়েছে। তথ্যমতে, ঘরে বাসে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় রোজগারে বিশ্বের ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ট্যাক্স প্রিপারেশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের মূলে রয়েছে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা, সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা এবং তরুণদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উদ্ভাবনী শক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রসারের ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিতে তৈরি হবে নতুন এক বাংলাদেশ। এটি হবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন খাত।

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনলাইন শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ হচ্ছে ভারত। বিশ্বে দেশটির প্রায় ২৪ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কার রয়েছে। এর পরের অবস্থানই বাংলাদেশের। আমাদের বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কার রয়েছে ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে গৃহিণীরা এ খাতে যেভাবে যুক্ত হচ্ছে, পর্যাপ্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে এ খাতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। অর্থনীতিতে এটি অন্যতম বড় একটি খাতে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে সরকার যে কাজটি করতে পারে তা হচ্ছে, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা, তরুণ-তরুণীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সহজ করা। যদি শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এসব সুবিধা নির্বিঘম্ন করা যায়, তবে খাতটি দ্রুত এগিয়ে যাবে। এ খাতের সুবিধা হচ্ছে, খুব বেশি পুঁজি লাগে না। বাসায় বসে কম্পিউটার বা যে কোনো স্থানে মোবাইলে কাজ করা যায়। এর জন্য অফিস বা আলাদা জায়গার প্রয়োজন নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম ঠেলে অফিসে যাওয়া লাগে না। এর সাথে জড়িত গৃহিণীরা ঘরের কাজের ফাঁকে ফাঁকেই কাজ সারতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার। এর বাইরে আরও অনেকেই যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ফ্রিল্যান্সাররা ১০ কোটি ডলার আয় করছে। ক্রমেই এই আয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতির একটি শক্তিশালী খাতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত সেলস ও মার্কেটিংয়ে পারদর্শী। অন্যদিকে ভারতের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে। এদিকটিতে বাংলাদেশের তরুণ ও যুবশ্রেণী পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে দ্রুতই অগ্রসর হতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে যে হারে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তাতে স্বউদ্যোগ ও স্বনিয়োজিত আউটসোর্সিং হতে পারে বেকার সমস্যা নিরসন এবং অর্থনীতির অন্যতম খাত। পড়ালেখা অবস্থায় কিংবা পাশ করার পর এ খাতে তারা যুক্ত হতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মেধাবিকাশ এবং সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য খাতটি নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেক শিক্ষিত নারী যারা চাকরি করতে স্বচ্ছন্দবোধ করে না, তারা এ কাজে বেশি যুক্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনেক শিক্ষিত নারী এ খাতে যুক্ত হয়েছে। নিজের সংসার খরচ চালানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। আউটসোর্সিংয়ের খাতটি এমনই যে প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও তা করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে ৬৫ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বিপুল তরুণ শ্রেণীর ওপরই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। তবে তাদের সিংহভাগ ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়টি অবগত নয়। তাদের অবগত করে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ খাতে নিয়োজিত করতে পারলে দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং খাতটি আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো জরুরি। যেখানেই অর্থনীতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেই হাত দেয়া অপরিহার্য। আউটসোর্সিংয়ের বিষয়টি যেহেতু শিক্ষিত তরুণ শ্রেণী স্বউদ্যোগে করছে, তাই তাদের এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তরুণদের এ খাতে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত ও সাশ্রয়ী এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে। আউটসোর্সিং খাতে এ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারের যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন তা যেমন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তেমনি বিশ্বে শীর্ষ ডিজিটাল অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের তরুণশ্রেণী খুবই উৎসাহী। তারা সম্ভাবনার ক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তি পেলে নিজেরাই স্বউদ্যোগে অনেক কাজ করে। তরুণদের এই আগ্রহ-উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন