ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

সহনশীলতা ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

রাসূলুল্লাহ সা.-এর নবুয়ত লাভের পূর্বে ইয়াহুদী মতবাদ এবং খ্রিষ্টান মতবাদের যুগ অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল, সারাবিশ্ব তখন এমন একটি ধর্মমতের অপেক্ষা করছিল, যা এই উভয়বিধ মতবাদের পরিপূর্ণতা এনে দেবে। ইসলাম দুনিয়ার এই পরিপূর্ণতা সাধনের জন্য আগমন করে। একই সাথে সিলসিলায়ে নবুয়তের বিচ্ছিন্ন হওয়া এই কড়া দু’টিকে পরস্পর মিলিয়ে দেয়। ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফ এমন একটি বস্তু, যা দুনিয়ার নিয়ম-শৃঙ্খলাকে কায়েম রেখেছে। তার সাথে ইহসান, দয়া, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহমর্মিতার সংমিশ্রণ তাকে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলেছে। যার অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতিস্বরূপ তখনও পর্যন্ত দুনিয়ার আইন ও নিজাম অসম্পূর্ণ ছিল।

হযরত মূসা আ.-এর শরীয়ত ছিল ইনসাফ ও আদল প্রতিষ্ঠার মূর্ত প্রতিচ্ছবি। এর মাঝে ইহসান ও ক্ষমার নৈতিক আকর্ষণ অনেক কম রাখা হয়েছিল। অনুরূপভাবে হযরত ঈসা আ. আগমন করেন রহমতের প্রতিচ্ছবি হয়ে। তার শরীয়তে আদল ও ইনসাফ কায়েম করার প্রাণশক্তি খুবই কম পাওয়া যায়।

হযরত মূসা আ.-এর শরীয়ত দুনিয়ার জন্য আদল ও ইনসাফের যে নীতি ও বিধান কায়েম করেছিল এর বিপরীতে হযরত ঈসা আ. স্বীয় নৈতিক শিক্ষার ঘোষণা এসব শব্দে তুলে ধরেছিলেন, ‘তোমরা এ কথা শুনে থাকবে যে, চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত; কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা মন্দকে মন্দের সাথে মোকাবেলা করো না; বরং যে ব্যক্তি তোমাদের ডান গালে চড় মারবে, তার সামনে বাম গালটিও পেশ করে দাও। যে ব্যক্তি যুদ্ধ ও ঝগড়ার লক্ষ্যে তোমাদের কাপড় টেনে ধরবে তাকে স্বীয় চাদরটিও দিয়ে দাও।

যে ব্যক্তি এক মাইল পর্যন্ত তোমাকে বোঝা বহনকারী হতে বাধ্য করে, তার সাথে দু’মাইল পর্যন্ত চলে যাও। যে তোমার কাছে কিছু চায়, তাকে দান করো। যে তোমার নিকট ঋণ চায়, তাকে ফিরিয়ে দিও না। তোমরা এ কথাও শুনে থাকবে যে, নিজের বন্ধুদের সাথে ভালোবাসা এবং শত্রুর সাথে শত্রুতা রাখ। কিন্তু আমি তোমাদের বলছি যে, তোমরা শত্রুদের সাথে ভালোবাসা রাখ।

হযরত ঈসা আ.-এর পূর্বে দুনিয়াবাসীকে যা কিছু বলা হয়েছিল অথবা শোনানো হয়েছিল, তা হযরত মূসা আ.-এর কানুন ছিল, যা ছিল সামগ্রিকভাবে আদল ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু পরবর্তীতে যা কিছু দুনিয়াবাসী হযরত ঈসা আ.-এর জবান হতে শুনেছিল, তা ছিল পুরোপুরি আখলাক, রহমত ও ইহসানের বাণী। কিন্তু ইসলাম আদল ও ইহসানের মাঝে সংমিশ্রণ করে দুনিয়ার শাসন ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ আদল ইহসান প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিচ্ছেন। এই নির্দেশ ছিল মূলত সাংবিধানিক শিক্ষা, যে শিক্ষা হযরত মূসা আ. ও হযরত ঈসা আ.-এর শরীয়তের সেই পৃথক বৈশিষ্ট্যগুলোকে এক স্থানে একত্রিত ও সুসংহত করে দিয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
হাসান পলাশ ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
মধ্যমপন্থা অবলন্বনকারী ব্যক্তি বলতে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপনকারীদেরকে বোঝায়। একজন মুসলিমের সৌন্দর্যই হলো তার ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও উদারতা।
Total Reply(0)
Mirza Anik Hasan ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
মধ্যমপন্থা অবলন্বনকারী ব্যক্তিরা সব কিছুতে ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। মধ্যমপন্থা অবলম্বনের মধ্যে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ রয়েছে।
Total Reply(0)
শহিদুল খান জেএসজি ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
আমাদের রাসূল সা: সব পরিবেশ পরিস্থিতি সবরের সাথে মোকাবেলা করতেন। যার ফলে হজরত রাসূল সা:-এর জমানায় মুসলমানেরা সব ক্ষেত্রে সাফল্যে লাভ করত।
Total Reply(0)
Mustafizur Rahman ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
উগ্রতা, হিংস্রতা, অহঙ্কার ও ক্রোধ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মধ্যমপন্থা হলো ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সাফল্যে লাভের একমাত্র চাবিকাঠি।
Total Reply(0)
Monir mamun ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
বিশে^জুড়ে মুসলমান উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আথিতেয়তা ও উদারতার জন্য প্রশংসিত। মুসলমানেরা মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী সহনশীল জাতি। মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর লোকজন নিরাপদ।
Total Reply(0)
কালাম ২৫ জুন, ২০১৯, ১:৩৫ এএম says : 0
আজকাল পৃথিবীর সর্বত্রই দুর্বলেরা নির্যাতিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ের সব পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্বল নির্যাতিত ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে অবশ্যই মধ্যমপন্থার অনুসরণ করতে হবে। তা হলে নির্যাতিত দুর্বল ব্যক্তিদের বিজয় আসবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে বিজয় তোমাদের হবেই’ (সূরা ইমরান : ১৩৯)।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন