ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে যে শুল্ক আরোপ বরা হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকার ও কার্ড আমদানিকারকরা। এতে কার্ডের দাম বেশ বেড়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তারা। তাদের মতে, বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার না হলে নতুন ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের দাম বেড়ে যাবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে এই দুই কার্ডের জন্য বর্তমানের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করবে ব্যাংকগুলো।

এতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ে তোলার কার্যক্রম থমকে যাবে বলে মনে করছেন তারা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন সংসদে ২০১৯-১০ অর্থবছরের যে বাজেটে প্রস্তাব করেছেন তাতে আমদানি করা এসব কার্ডের শুল্ক ৫ থেকে ৬ গুন বাড়ানো হয়েছে।

ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড তৈরির আমদানিকৃত পণ্যগুলোর (তিন ধরনের কার্ড) ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ডের আমদানি প্রতি শুন্য দশমিক ৭০ ডলার, চিপ এন্ড পিন কার্ড দুই ডলার এবং কন্টাক্টলেস কার্ড তিন ডলার ট্যারিফ ধার্য করা হয়েছে। বর্তমানে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫২ সেন্ট ট্যারিফ রয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রস্তাবিত ট্যারিফকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে বলেন, এটি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো কার্ড প্রদানে গ্রাহকদের থেকে চার্জ নিতে বাধ্য হবে। এতে করে ডেবিট ও ক্রেডিট হোল্ডারদের নিকট ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন করবে এবং নতুন করে কার্ড নিতে নিরুৎসাহিত করবে। যা ক্যাশলেস সোসাইটি গড়া বাধাগ্রস্থ হবে।

তিনি বলেন, বর্ধিত কর প্রস্তাব প্রত্যহারের জন্য ইতোমধ্যেই আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে। আশা করছি আমাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদে বাজেট পাশ হবে।

শীর্ষস্থানীয় কার্ড আমদানিকারক লার্ক টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের হোসেন সায়েম বলেন, নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে প্রতিটি ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ডের দাম পড়বে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। বর্তমানে এই কার্ডের মূল্য ২০ থেকে ২৫ টাকা।

চিপ বেসড কার্ডের আমদানি খরচ ১০০/ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭০ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং কন্ট্যাক্টলেস ক্রেডিট কার্ডের খরচ তিন গুণ বেড়ে ৫৫০ টাকা হবে। দেশের চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয় কোম্পানিগুলো প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ কার্ড আমদানি করে বলে তথ্য দেন তিনি।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয় ব্যাংকগুলো আমদানি কার্ডের ওপর ব্যাপক মাত্রায় নির্ভরশীল, কারণ বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি কোম্পানিই ভিসাকে স্বীকৃতি/অনুমোদন দেয়। এই কার্ড কোম্পানিটির সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। নির্ভরশীল এবং কন্ট্যাক্টলেস কার্ড তৈরির জন্য ভিসা থেকে অনুমোদন পেতে তাদের এখনো বেগ পেতে হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কোম্পানি স্থানীয়ভাবে কার্ড তৈরি করতে চাইলে তাকে প্রতি বছর এক লাখ ডলারেরও বেশি ভিসা, মাস্টারকার্ড, নেক্সাসের মত কার্ড ইস্যুকারি সংস্থাকে রয়্যালিটি এবং অডিট ফি বাবদ প্রদান করতে হবে।

স্থানীয় কোম্পানিকে ব্রেক-ইভেন করতে প্রায় এক কোটি নতুন কার্ড তৈরি করতে হবে যা দেশের বর্তমান কার্ড বাজারের আয়তন সাপেক্ষে করা বেশ কঠিন হবে। মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চিপ-এন্ড-পিন কার্ডে চলে এসেছে। ধীরে ধীরে কন্ট্যাক্টলেস কার্ডের দিকে আপডেট হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন ট্যারিফ গ্রাহকদের প্রচলিত পদ্ধতিতে (ট্রডিশনাল) ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।
নতুন ট্যারিফ কার‌্যকর হলে কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে কাশলেস পেমেন্ট পদ্ধতিতে উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবায় ডিজিটালাইজেশনে বাধার সম্মুখীন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন