ঢাকা, সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

খেলাধুলা

সবার আগে সেমিতে অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

ধারাবাহিতকা ধরে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেন অ্যারোন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। বল হাতে মিচেল স্টার্কের সঙ্গে আগুন ঝরালেন জেসন বেহেনডর্ফ। বিশ্বকাপ ফেভারিট ইংল্যান্ডকে গুড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে আসরের সেমিফাইনালে নিজেদের নাম খোদাই করে নিল অস্ট্রেলিয়া।

লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ৩২তম ম্যাচে গতকাল ইংলিশদের ৬৪ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফিঞ্চের শতক ও ওয়ার্নারের ফিফটিতে ৭ উইকেটে গড়া ২৮৫ রানের জবাবে ৪৪.৪ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় ইয়ন মরগানের দল। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এই প্রথম টানা ম্যাচ হারল তারা।

এই পরাজয়ে শেষ চারের পথ কঠিন হয়ে গেল প্রতাপের সঙ্গে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা ইংল্যান্ডের। তাতে সুবিধা হয়েছে বাংলাদেশের। সমান ৭ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট পিছিয়ে পাঁচে বাংলাদেশ। বাকি দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ তালিকার শীর্ষ চারের বাকি দুই দল ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

টজ জিতে বল বেছে নেওয়া ইংল্যান্ডের ফিল্ডিংটা ভালো হয়নি। হাত গলে বেরিয়েছে ক্যাচ। হাতছাড়া হয়েছে স্পাম্পিংয়ের সুযোগ। আরেকটু আঁটসাঁট ফিল্ডিং দিতে পারলে অন্তঃত ২০ রান সেভ করতে পারত ইয়ন মরগানের দল। পরে লক্ষ্য তাড়ায় ৫৪ রানের মধ্যে শীর্ষ চার উইকেট হারিয়ে কাজটা কঠিন করে তোলে তারা। প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ছিল কেবল বেন স্টোকসের ব্যাটে। আগুন গোলা ইয়র্কারে স্টোকসের স্টাম্প উড়িয়ে সেই ব্যুহ ভেদ করেন স্টার্ক।
গত কয়েক বছর রান তাড়ায় বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য মামুলিই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শুরুতেই চাপে ফেলে কাজটা কঠিন করে তোলেন স্টার্ক-বেহেনডর্ফ জুটি। ৫৪ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বেহানডর্ফের দুর্দান্ত ডেলিভারি ভেঙে দেয় জেসম ভিন্সের মিডিল স্টাম্প। ২৬ রানের মধ্যে আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জো রুটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক। নিজের পরের ওভারে অধিনায়ক ইয়ন মরগারকে ফাইন লেগে প্যাট কামিন্সের ক্যাচে পরিণত করে ইংলিশ টপ অর্ডার ছেঁটে দেন এই গতির বোলার। থিতু হওয়া ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে (২৭) ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ বানিয়ে ইংলিশদের খাঁদের কীনারে পৌঁছে দেন বেহানডর্ফ। এরপর শুরু হয় স্টোকস-বাটলারের লড়াই। সর্বোচ্চ ৭১ আসে এই জুটি থেকে। ডিপ স্কয়ারে বাটলার ক্যাচ দিয়ে ফেরেন খাজাকে। ক্রিস ওকসকে নিয়ে ফিফটি জুটিতে নিভু নিভু আশার সলতে জ্বালিয়ে রাখেন স্টোকস। সেঞ্চুরি থেকে এই অলরাউন্ডার যখন ১১ রান দূরে তখনই স্টার্কের হাত থেকে বের হয় সেই ভয়ঙ্কার ইয়োর্কার। ১১৫ বলে ৮ চার ও ২ চয়ে ৮৯ রানে থামেন স্টোকস। সব আশা নিভে যায় ইংলিশদের। লেজ ছেঁটে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের কোটা পূর্ন করেন বেহেনডর্ফ। চার উইকেট নিয়ে ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারকে (১৬) পেছনে ফেলে আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলরদের তালিকায় শীর্ষে ফেরেন গত আসরের সেরা খেলোয়াড় স্টার্ক (১৯)।

ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের ব্যাটে অজিদের দিনের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। তাদের ব্যাট থেকে এসেছে আসরের তৃতীয় সেঞ্চুরি জুটি। দারুণ ধারাবাহীকতার ফলে দুজনেই উঠে এসেছেন আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকার শীর্ষে। আসরে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ১৫তম শতক তুলে নেন ফিঞ্চ।

বল হাতে ইংলিশদের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। ওকস-আর্চার-উডদের বলে গতির সঙ্গে ছিল পেস ও সুইং। ঠান্ডা মাথায় তা সামলে নিয়ে উইকেটে আকড়ে থাকেন ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। সময় গড়ানোর সাথে দুই ওপেনার হয়েছেন চড়াও। প্রথম পাওয়ার প্লে থেকে যেখানে আসে ৪৪, সেখানে তারা দলীয় শতক তুলে নেন ১৮তম ওভারে। পেসাররা ব্যর্থ হওয়ার পর মইন আলিকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক। ৬১ বলে ৬ চারে ৫৩ রান করা ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে ২৩তম ওভারে ১২৩ রানের জুটি ভাঙেন মইন। তার আগে আসরের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচশ রানের মাইলফলক পেরিয়ে শীর্ষে উঠে আসেন এই বাঁ-হাতি।

শুরুতেই জস বাটলারের হাতে স্টামড হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া উসমান খাঁজা অধিনায়কের সঙ্গে গড়েন ৫০ রানের জুটি। দারুণ ডেলিভারিতে খাজাকে বোল্ড করে জুটি বিচ্ছিন্ন করেন স্টোকস। ফিঞ্চও আউট হন দ্রুতই। আর্চারের বলে ওকসের কাছে ক্যাচ দেয়ার ঠিক আগের বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দলীয় অধিনায়ক। তার ১১৬ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ২টি ছয়ের মার।

অধিনায়কের দেখানো পথে হাটতে পারেননি বাকিরা। থিতু হয়ে আউট হন স্মিথ (৩৮)। ম্যাক্সওয়েল থেমে যান ঝড়ের আভাস দিয়েই। চলতি আসরে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে রান আউটে কাটা পড়েন মার্ক স্টয়নিস। ২৭ বলে অ্যালেক্স কারির অপরাজিত ৩৮ রান অস্ট্রেলিয়াকে এনে দেয় ৭ উইকেটে ২৮৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ। কিন্তু স্টার্কের দিনে এই রানও যে পাহাড়সম।

 

অস্ট্রেলিয়া : ৫০ ওভারে ২৮৫/৭ 

ইংল্যান্ড : ৪৪.৪ ওভারে ২২১
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৪ রানে জয়ী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন