ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক দুই এনজিও কর্মকর্তা কারাগারে

বিশেষ সংবাদদাতা, কক্সবাজার | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০১৯, ৭:১০ পিএম

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত দুই এনজিও কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

আটক সাহেল সানজিদ ও সেলিম উল্লাহ রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামের একটি এনজিও’র কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সাহেল সানজিদ রিকের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও অন্যজন সেলিম উল্লাহ মনিটরিং কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

আটক এনজিওর দুই কর্মকর্তার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেছেন, দুই কর্মকর্তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর কোর্টে চালান দেয়াহয়েছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা শিবিরে ‘রিক’ নামের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা–এনজিওতে কর্মরত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া পালং গ্রামের এক নারী কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এই দুই কর্মকর্তাকে শনিবার রাতে আটক করেন।

আটক হওয়া কর্মকর্তা সাহেল সানজিদ নওগাঁ জেলার বাসিন্দা এবং সেলিম উল্লাহ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এনজিওটিতে কর্মরত নারী কর্মীর অভিযোগ হচ্ছে, সেলিম উল্লাহ নামের কর্মকর্তা তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বার বার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

অপরদিকে ‘রিক’ এনজিওর নারী কর্মী একই এনজিওর কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

সেই তদন্ত কমিটির প্রধান হচ্ছেন- প্রকল্প সমন্বয়কারী সাহেল সানজিদ। বার বার যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নারী কর্মী প্রকল্প সমন্বয়কারী সাহেল সানজিদের কাছে সেলিম উল্লাহর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল জানতে গেলে উল্টো সাহেল সানজিদ নিজেও এক পর্যায়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেন বলে অভিযোগ উঠে।

এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ আটকের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে এনজিও কর্মকর্তাদ্বয় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এ ব্যাপারে (রিক)’র সহকারী পরিচালক দীপক রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক একটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত সেলিম উল্লাহকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অপর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখানো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। জড়িত এনজিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতিপূর্বেও এনজিও কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আরো অন্যান্য নারী এনজিও কর্মীদের পক্ষেও পুলিশের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজের সুবাদে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত অংখ্য নারী কর্মীরা এভাবে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে অহরহ। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Khan Abdur Rahim ২৯ জুলাই, ২০১৯, ৭:৫৩ পিএম says : 0
I appreciate this media highly. Thanks.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন