ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

খেলাধুলা

কঠিন অপশনই সহজ করতে চান মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম


ভারত ইংল্যান্ডে হারিয়ে দিলেই কাজটা নিজেদের হাতে থাকত বাংলাদেশের। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেই তখন যাওয়া যেত সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ডের কাছে ভারত হেরে যাওয়ায় কিছুই আর নিজেদের নাগালে নেই বাংলাদেশের। সেমিফাইনালের পথ হয়ে গেছে অনেক কঠিন। ভারতের কাছে হারলে বার্মিংহামেই বিশ্বকাপের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে মাশরাফি বিন মুর্তজাদের। সামনে এগুনোর এই কঠিন রাস্তা এক দিক থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এখন সেমির আশা বাঁচাতে ভারতকে তো হারানোই চাই। সেটা হলে আর এর পরের দিন যদি ইংল্যান্ড হেরে যায় নিউজিল্যান্ডের কাছে তাহলে পাকিস্তানকে হারালে যাওয়া যাবে শেষ চারে। হারলেই বিশ্বকাপ শেষ এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়ানোর আরেকটা সুবিধা দেখছেন মাশরাফি, ‘আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি, যদি কাল (আজ) খেলে জিততে পারি। আমি প্রেফার করি কঠিন অপশনই বেটার, শুধু বিশ্বকাপ না দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এটাই ভালো।’

সাউদাম্পটনেও তিন দিনের ব্যবধানে হয়েছিল দুই ম্যাচ। ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচের উইকেট রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচেও। ব্যবহৃত উইকেট হওয়ায় ব্যাটিং হয়েছিল তুলনামূলক কঠিন। আজও এজবাস্টনে তেমনটিই হওয়ার কথা। ব্যবহৃত উইকেটে যেকোনো দলই আগে ব্যাট করতে চায়। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি জানান, রান তাড়ায় ভারতের আলাদা সামর্থ্য থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের আরও অনেক ভাবতে হবে।

এই টুর্নামেন্টে অনেকবারই হয়েছে অন্যদের ফলের দিকে নজর রাখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কখনো কামনা করতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডের হার, কখনো ইংল্যান্ডের। কিন্তু কোনটাই খাপে খাপে মিলে এগোয়নি। শেষ দিকে এসে তাই অধিনায়কের উপলব্ধি, ‘অন্যদের দিকে তাকিয়ে তো লাভ নেই। নিজেদের পারফরম্যান্সেই এই পর্যন্ত এসেছি। তিন ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট পেয়েছি। বৃষ্টিতে এক পয়েন্ট। অন্যদের দিকে এই ধরণের টুর্নামেন্টে তাকিয়ে মনে করি না লাভ আছে।’

এমন পরিস্থিতিতেই হয়ত সর্বস্ব নিংড়ে খেলার জন্য বারুদ মেলে। পরে যাইহোক, সেরাটা ঢেলে চেষ্টা তো করা যায়। বাংলাদেশ দলও নিশ্চয়ই সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কোহলির সমস্যাতেই সুবিধা দেখছেন সঞ্জয়!
স্পোর্টস ডেস্ক
ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার পর একদিনের বিরতি। তার পরের দিন ফের মাঠে নামছে ভারত। এবারে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। আজ খেলা হবে একই মাঠে, আগের উইকেটেই। তাছাড়া ম্যাচ খেলে এজবাস্টনের কিম্ভূতকিমাকার আকৃতির সঙ্গেও বেশ পরিচিত হয়ে গেছে ভারত। ইংল্যান্ড ম্যাচে হারের পর মাঠের পরিধি নিয়ে যে খেদ ঝেড়েছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সেই বিষয়গুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার!

এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবারের আসরের প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে ভারত। ৫ উইকেট হাতে রেখে দলটি ম্যাচ হেরেছে ৩১ রানের ব্যবধানে। যদিও ওপেনার রোহিত শর্মা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যাটে চড়ে জয়ের ভিত পেয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দিকে ঝড় তুলতে পারেননি মহেন্দ্র সিং ধোনি-কেদার যাদবরা। ইংল্যান্ডের সাফল্যকেও খাটো করে দেখার উপায় নেই। ‘ডেথ ওভারে’ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাদের পেসাররা।

ইনিংসের শেষ ভাগে ভারতের ঢিমেতালে ব্যাটিং নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সেই তালিকায় আছেন সৌরভ গাঙ্গুলি, নাসের হুসেইন, ওয়াকার ইউনুসরা। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে যে কমতি ছিল, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান বাঙ্গার, ‘প্রতিটি দলই আলাদা। আমরা নতুন করে আবার শুরু করব এবং পুনরায় যাচাই করে দেখব এই ম্যাচে (বাংলাদেশের বিপক্ষে) আমরা কী কী অর্জন করতে পারব অথবা পারব না। আমরা সেখান থেকে এগিয়ে যাব। এটা একটা নতুন ম্যাচ।’

এজবাস্টনের মাঠ একেক দিকে একেক রকম। একপাশে বাউন্ডারি সর্বোচ্চ ৮২ মিটার পর্যন্ত। আরেক দিকে সর্বনিম্ন ৫৯ মিটারের বাউন্ডারি রয়েছে। এই ছোট বাউন্ডারির সঙ্গে আবার রয়েছে রান-বান্ধব ফ্ল্যাট উইকেট। সেই উইকেটও ম্যাচের শেষ দিকে বেশ ধীর গতির হয়ে যায়। এ নিয়ে ভারতের জার্সিতে ১২ টেস্ট ও ১৫ ওয়ানডে খেলা বাঙ্গার বলেন, ‘একই উইকেটে খেলা হবে। তাই, উইকেট কেমন আচরণ করবে সে বিষয়ে আমাদের কিছুটা ধারণা থাকছে। আর মাঠের আকারটা কেমন, তাও আমাদের জানা থাকছে। আমরা এই সুবিধাগুলো কাজে লাগাব এবং সর্বোচ্চটা পেতে চেষ্টা করব।’

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন