ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থালবন্দর

হিলি বন্দর থেকে গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর বেঁধে দেয়া লাখ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে চাহিদার অধিকাংশ পণ্যই এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হলেও শুল্কমুক্ত পণ্য বেশী আমদানি এবং ভারতের ফারাক্কা বাঁধ সংস্কারের প্রভাবেই লাখ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও কাস্টমসের বৈষম্যনীতির কারণে কাচা ফল, মাছসহ অধিক শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিলি স্থলশুল্ক স্টেশন লাখ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে নাই।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন স‚ত্রে জানা গেছে, জতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লাখ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন। এর বিপরীতে আদয়ে হয়েছে ২৩৩ কোটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

গত অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রথম মাসেই ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার বাড়তি রাজস্ব আদায় হলেও আগস্ট মাসে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ২১ লাখ। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লাখ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অক্টোবর মাসে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার। ডিসেম্বর মাসে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। জানুয়ারিতে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মার্চ মাসে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এপ্রিল মাসে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। মে মাসে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এবং জুন মাসে ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রæপের সভাপতি হারন উর রশিদ হারুন বলেন, কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতির কারণেই হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে লাখ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো, দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্য পরীক্ষা করে ঠিক যেটুকু পণ্য থাকবে সেই পরিমাণ পণ্যের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে উল্টো নিয়ম, গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে একজন আমদানিকারক একটি ট্রাকে ১০ টন ফল আমদানি করলেও গাড়ির চাকা অনুযায়ী তাকে ১৪ থেকে ১৫ টনের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিড়ম্বনা রয়েছে যেমন একই পণ্য অন্যান্য বন্দর দিয়ে কম ম‚ল্যে শুল্কায়ন করা হলেও হিলি স্থলবন্দরের ক্ষেত্রে বাড়তি ম‚ল্যে শুল্কায়ন করা হয়। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি করলে বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া এসব শুল্কযুক্ত পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে হওয়ার কারণে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যায় যেখানে অন্য বন্দর দিয়ে কম সময়ে ছাড় দেওয়া হয়। এসব লোকসানের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন। তবে দেশের অন্য বন্দরগুলোর মতো হিলি স্থলবন্দর পরিচালনা করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি যেমন বাড়বে তেমনি বন্দরের রাজস্ব আহরণও বাড়বে।’

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভারতের ভেতরে ফারাক্কা ব্যারেজের সংস্কার কাজ চলার কারণে বন্দর দিয়ে পাথরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি একেবারে বন্ধ ছিল। এছাড়াও বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি না হওয়া এবং বেশিরভাগ পণ্যই শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কযুক্ত হওয়ার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন