ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বিএনপি বলছে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক

বামদলের হরতালে সমর্থন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতাল কর্মস‚চিকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বামদল যারা আছেন তারা আগামী ৭ জুলাই হরতাল আহবান করেছেন। আমরা এই হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারা দেশের মানুষ এই গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধিতে এ্যাফেক্টেড হয়েছেন। সেই কারণে এটা একটা যৌক্তিক হরতাল বলে আমরা মনে করি। সেই কারণেই এই হরতালে আমরা নীতিগত সমর্থন জানাচ্ছি।
গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৭ জুলাই সারাদেশে আধা বেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বামপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত ৩০ জুন সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। গ্যাসের এই বাড়তি দাম ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বামজোটের ডাকা এই হরতাল কর্মস‚চিকে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আসম আবদুর রবের জেএসডি সমর্থন জানিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধিকে জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শুধুমাত্র যে দুর্নীতি যে ধাপগুলো আছে বিশেষ করে গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত এসবকে অর্থায়ন করার জন্য ম‚লত গ্যাসের ম‚্ল্য বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের এই ম‚ল্য বৃদ্ধির ফলে সমগ্র অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সেটা অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ করবে বলেই স্থায়ী কমিটি মনে করে। এতে করে প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন কস্ট বেড়ে যাবে, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিএনপি গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১ জুলাই জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মস‚চি ঘোষনা করেছে বলে তিনি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগনের সর্বস্তর থেকে এই গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল কর্মস‚চি দিয়েছে, নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু সরকার এটাকে মেনে নেয়নি অর্থাৎ ম‚ল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেনি।

বিএনপি গ্যাসের ম‚ল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আর কোনো কর্মস‚চি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে মহাসচিব বলেন, আমরা কর্মস‚চি দিয়েছি। বাম দলের কর্মস‚চিতে সমর্থন দিলাম। এরপর আমরা চেষ্টা করবো যদি অন্য কোনো কর্মস‚চি দেয়া যায়।

বিকাল ৪টা থেকে দুই ঘন্টা গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্ত
দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যে হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন হচ্ছে। এখনো পুরো ইউপি নির্বাচনে সিডিউল আসেনি। এর মধ্যে আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে আমাদের নেতা-কর্মীরা জানতে চাচ্ছেন যে, এখানে আমাদের অবস্থান কি হবে? আপনারা জানেন যে, ইতিপ‚র্বে যখন দলীয় প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করার প্রশ্ন এসেছিলো তখনই আমরা এর বিরোধিতা করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে, পার্টির মার্কা দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাটা বাংলাদেশের জন্য উপযোগী হবে না এবং এটা বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করবে রাজনীতির ক্ষেত্রে। আমরা এখনো মনে করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মার্কা ব্যবস্থা তুলে নেয়া উচিত। প্রকৃত পক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়দেরকে মার্কা ছাড়াই নির্বাচনের সুযোগ দেয়া উচিত। সেইক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, বিএনপির যেসমস্ত নেতা কর্মী বা যারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন তারা যদি কেউ অংশ নিতে চান, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু মার্কা সেক্ষেত্রে আমরা বরাদ্ধ করবো না।

আসল মদদদাতাদের আড়াল করতেই নয়ন বন্ডকে হত্যা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রিফাত হত্যার পর যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা বাংলাদেশের আইন-আদালত ও রাষ্ট্রের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করা হয়েছে। দেখুন যে, নয়ন বন্ড প্রধান আসামীকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, নয়ন বন্ডকে হত্যা করা এটা পেছনে ম‚ল উদ্দেশ্য হচ্ছে আসল মদদদাতা যারা তাদেরকে আড়াল করা। তারা যেন আপনার আলোচনায় না আসতে পারে সেজন্য এটা করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা বাংলাদেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি-এটা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, বরগুনার নয়ন বন্ড নামে একজনকে বিচারবর্হিভুতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা কয়েকদিন আগে দেখেছেন যে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি প্রতিবেদনে এসেছে গত ৬ মাসে ৪৩৮ জনকে ক্রসফায়ার ও এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। গতকাল সম্ভবত আদালতে একটা আদেশ এসেছে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে যে, এ বিষয়ে তাদেরকে জানানো। এর আগে হাইকোর্টের একটা আদেশ ছিলো কোনো মতে বিচারবর্হিভুত হত্যা করা যাবে না। এটা সম্প‚র্ণ আইন পরিপন্থি, আইনের শাসন পরিপন্থি, সংবিধান পরিপন্থি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে এই দেশে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নাই। জনগনের বেঁচে থাকার যে অধিকারটুকু সেটাও এখন নেই্। কারণ তারা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে যেকোনো সময়ে যেকোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার অধিকার তারা নিয়ে নিয়েছে। যেটা আমরা মনে করি একটা স্বাধীন দেশের জন্যে, আইনের শাসনের জন্যে পরিপন্থি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আমরা এই ধরনের বিচারবর্হিভুত হত্যাকান্ড বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

একাদশ নির্বাচনের কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল প্রসঙ্গে
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের যে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ হয়ে এই নির্বাচন (একাদশ নির্বাচন) কতটা প্রহসন ছিলো। আপনারা দেখেছেন প্রায় ২১৩ কেন্দ্রে শতকরা ১০০ ভাগ ভোট পড়েছে, ১৫০০ উপরে ভোট কেন্দ্রে শতকরা ৯৫-৯৯ ভাগ ভোট পড়েছে। যেটা অসম্ভব ব্যাপার, যেটা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সেটা কখনোই সম্ভব নয়।
এই ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে নির্বাচন কমিশন সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করেছে এবং এই নির্বাচনটাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। আমরা এ বিষয়ে তথ্য আরো ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। অল্প দিনে মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে আসবো।

পাবনার আদালতে রায়ের উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ২৪ বছর পরে নি¤œ আদালতে যে রায় দেয়া হয়েছে, এতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ও বিক্ষুব্ধ হয়েছে। সভা মনে করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং পুরোপুরি প্রতিহিংসাম‚লক রায় হয়েছে এটা।যে ঘটনাটি সংঘঠিত হয়েছিলো সেই ঘটনাতে গুলির আওয়াজ শুনা গিয়েছিলো কিন্তু কেউ হতাহত হয়নি। সেই গুলির আওয়াজ সম্পর্কেও একজন খুব পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন যিনি এর আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজ করেছিলেন রেন্টু তার ‘আমরা ফাঁসি চাই’ বইতে বলেছিলেন এটা একটা সাজানো ব্যাপার ছিলো, তৎকালীন আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা ছিলো। এই ধরনের রায় নজিরবিহীন। আমরা মনে করি এই ধরনের রায় শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়, প্রতিহিংসা পরায়ন। এতোটুকু ন্যায় বিচার যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিলো তারা পায়নি। যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা সবাই বিএনপির স্থানীয় বা অঙ্গসংগঠনের লোকজন। আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আমরা এ্কথা বলতে চাই পরিস্কার করে যে, এ্ রায়ে যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে সবধরনের সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন