ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিএসএমএমইউতে প্রথম লিভার প্রতিস্থাপণকৃত রোগীকে ছাড়পত্র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ জুলাই, ২০১৯, ৬:৫৬ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রথম লিভার প্রতিস্থাপণকৃত রোগীকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) লিভার প্রতিস্থাপণের ১৪তম দিনে তাকে ছাড়পত্র দেয় প্রশাসন। লিভার দাতা এবং লিভার গ্রহীতাও বর্তমানে সুস্থ আছেন। প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রক্তচাপ (ব্ল্যাড প্রেসার) এবং রেসপিরেশন স্বভাবিক রয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে মুখে খাবার খেতে পারছেন। প্রতিস্থাপিত লিভার তার শরীরে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন। তার কিছু বায়োকেমিক্যাল অ্যাবনরমালিটি রয়েছে। সে হাই ডোজের ইমিউনো সাপ্রেশন মেডিসিন পাচ্ছেন, সেহেতু তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিএসএমএমইউ’র মিল্টন হলে আয়োজত এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৬ জুলাই) এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়–য়া, প্রো-ভিসি ডা. মো. শহীদুল­াহ সিকদার, ডা. সাহানা আখতার রহমান, ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ’র ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এই অপারেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত খোঁজ নিয়েছেন। তিনি এছাড়া আমাদের পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারের দিকে আরো বেশি নজর দিতে বলেছেন। কেননা আমাদের কারিগরি দিকে আমরা সফল। তাই এই অপারেশনের পর একবারও আমি রোগীর কাছে যাই নি। যাতে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ না ঘটে। আমরা আরো ৪-৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে এই লিভার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই ঘোষণা করবো এখানে লিভার প্রতিস্থাপন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. জুলফিকার রহমান খান। তিনি বলেন, সিরাতুল ইসলাম শুভ নামের ২০ বছর এই যুবকের মায়ের বয়স ৪৯ বছর। সিরাতুল ইসলাম লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার মত প্রকাশ করেন। তিনি তার ছেলেকে আংশিক লিভার দানে সম্মত হন। চলতি মাসের ১৫ জুন ওই যুবককে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যানের অধীনে ভর্তি করা হয়। ২৪ জুন রোগীর মায়ের লিভারের আংশিক সংগ্রহ করে তার ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপণ শুর করা হয়। প্রতিস্থাপণের কাজ শুরু হয় ২৪ জুন সকাল ৬টা থেকে। রোগীর লিভার সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে দাতার লিভারের ডান অংশ সফলভাবে প্রতিস্থাপিত করা হয়। এরজন্য চিকিৎসক দল টাকা ১৬ ঘন্টা একনাগারে কাজ করেন। বর্তমানে প্রতিস্থাপণকৃত লিভার কাজ করতে শুরু করেছে। দাতা এবং গ্রহিতা উভয়েই সুস্থ আছেন। এই অপারেশন সম্পন্ন করতে মোট ৫০ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক দলের ১৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে এবং ২০ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথবারের মতো জটিল এ লিভার প্রতিস্থপণের নেতৃত্বে ছিলেন হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারী বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান। শল্য চিকিৎসক দলে আরও ছিলেন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দিন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নূর-ই-এলাহী। জটিল অপারেশন সম্পন্নের সময় রোগীকে অ্যানেস্থসিয়া প্রদান করেন এ্যানেসথেসিয়া এ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, প্রফেসর মো. আব্দুল হাই, ডা. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, ডা. মন্তোষ কুমার মন্ডল, ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা, ডা. মো. মোস্তফা কামাল। অপারেশন চলাকালীন সময়ে ইমেজিং সংক্রান্ত সহযোগীতা করেন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম.এইচ মোস্তফা কামাল ও রেসিডেন্ট দীপক ভার্মা। এই চিকিৎসক টিমকে সার্বিক সহায়তা করেন ভারতের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. পি বালাচন্দ্র মেনন ও তার ৪ সদস্যের দল।

এছাড়া এই ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রমে নার্স টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ডবয়সহ সহায়ক ভ‚মিকা রাখেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, নিউরোসার্জারী বিভাগ, কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগ, রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগ, ল্যাবরেটরী মেডিসিন বিভাগ, প্যাথলজী বিভাগ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন