ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বিএসএমএমইউতে প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন, রোগীকে ছাড়পত্র

ব্লাডপ্রেসার এবং রেসপিরেশন স্বাভাবিক মুখে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করছেন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রথম লিভার প্রতিস্থাপনকৃত রোগীকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার লিভার প্রতিস্থাপনের ১৪তম দিনে তাকে ছাড়পত্র দেয় প্রশাসন। লিভারদাতা এবং লিভারগ্রহীতাও বর্তমানে সুস্থ আছেন। প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রক্তচাপ (ব্লাডপ্রেসার) এবং রেসপিরেশন স্বভাবিক রয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে মুখে খাবার খেতে পারছেন। প্রতিস্থাপিত লিভার তার শরীরে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন। তার কিছু বায়োকেমিক্যাল অ্যাবনরমালিটি রয়েছে। তিনি হাইডোজের ইমিউনো সাপ্রেশন মেডিসিন পাচ্ছেন, সেহেতু তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিএসএমএমইউ’র মিল্টন হলে আয়োজিত এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, প্রোভিসি ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, ডা. সাহানা আখতার রহমান, ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ’র ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এই অপারেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত খোঁজ নিয়েছেন। তিনি এ ছাড়া আমাদের পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারের দিকে আরো বেশি নজর দিতে বলেছেন। কেননা, আমাদের কারিগরি দিকে আমরা সফল। তাই এই অপারেশনের পর একবারও আমি রোগীর কাছে যাইনি। যাতে রোগজীবাণুর সংক্রমণ না ঘটে। আমরা আরো ৪-৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে এই লিভার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই ঘোষণা করব, এখানে লিভার প্রতিস্থাপন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল­ান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. জুলফিকার রহমান খান। তিনি বলেন, সিরাতুল ইসলাম শুভ নামের ২০ বছর বয়সী এই যুবকের মায়ের বয়স ৪৯ বছর। সিরাতুল ইসলাম লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার মত প্রকাশ করেন। তিনি তার ছেলেকে আংশিক লিভারদানে সম্মত হন। চলতি মাসের ১৫ জুন ওই যুবককে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল­ান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যানের অধীনে ভর্তি করা হয়। ২৪ জুন রোগীর মায়ের লিভারের আংশিক সংগ্রহ করে তার ছেলের শরীরে প্রতিস্থাপন শুরু করা হয়। প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয় ২৪ জুন সকাল ৬টা থেকে। রোগীর লিভার সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে দাতার লিভারের ডান অংশ সফলভাবে প্রতিস্থাপিত করা হয়। এর জন্য চিকিৎসক দল টানা ১৬ ঘণ্টা একনাগারে কাজ করেন। বর্তমানে প্রতিস্থাপনকৃত লিভার কাজ করতে শুরু করেছে। দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সুস্থ আছেন। এই অপারেশন সম্পন্ন করতে মোট ৫০ সদস্যবিশিষ্ট চিকিৎসক দলের ১৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে এবং ২০ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথবারের মতো জটিল এ লিভার প্রতিস্থাপনের নেতৃত্বে ছিলেন হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল­ান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান। শল্যচিকিৎসক দলে আরও ছিলেন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দিন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নূর-ই-এলাহী। জটিল অপারেশন সম্পন্নের সময় রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া প্রদান করেন অ্যানেসথেসিয়া অ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান, প্রফেসর মো. আব্দুল হাই, ডা. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, ডা. মন্তোষ কুমার মন্ডল, ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা, ডা. মো. মোস্তফা কামাল। অপারেশন চলাকালীন সময়ে ইমেজিং সংক্রান্ত সহযোগিতা করেন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এইচ মোস্তফা কামাল ও রেসিডেন্ট দীপক ভার্মা। এই চিকিৎসক টিমকে সার্বিক সহায়তা করেন ভারতের লিভার ট্রান্সপ্ল­ান্ট সার্জন ডা. পি বালাচন্দ্র মেনন ও তার ৪ সদস্যের দল।

এ ছাড়া এই ট্রান্সপ্ল­ান্ট কার্যক্রমে নার্স টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ডবয়সহ সহায়ক ভূমিকা রাখেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন