ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

সরকারের পরিণতি ভালো হবে না -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৯, ৭:২০ পিএম

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সরকারের পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যে সরকারের জনগণের ম্যান্ডেট নাই তারা কি করবে না করবে আমরা জানি না, তবে এই যে সংগ্রাম, তা এই পর্যায়ে থাকবে না, এর স্ফুলিঙ্গ দাবানল আকারে ছড়িয়ে পড়বে একদিন। এই সরকারের যদি বোধদয় না হয়, উপলব্ধি না হয়, তাহলে তাদের পরিণতি খুব ভালো হবে না। রোববার (৭ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাসের বাড়তি দাম মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছেন, মেনে নেন। আপনারা মধ্য রাতের নির্বাচন করবেন সেটা মেনে নিতে হবে, আপনারা একতরফা নির্বাচন করবেন সেটা মেনে নিতে হবে, আপনারা ইভিএম দিয়ে একটা জোচ্চুরি নির্বাচন করবেন সেটা মেনে নিতে হবে, আপনারা গ্যাসের দাম বাড়াবেন সেটা মেনে নিতে হবে, আপনারা বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন সেটা মেনে নিতে হবে। আপনারা কারা?

দেশে এখন জঙ্গলের শাসন চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আইন-আদালত, বিচার-আচার, প্রশাসন সবকিছু মিডনাইটে সীলমারা ভোটে নির্বাচিত অবৈধ সরকারের করতলে। বিচারের বাণী আলো-আঁধারে নিভৃতে কাঁদছে। বিরোধী দলকে নির্মূল ও নিশ্চিহ্ন করতে আদালতকে নগ্নভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে এক ভয়াবহ অশনি সংকেত সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা) ট্রেনবহরে হামলার সম্পূর্ণ বানোয়াট ও প্রহসনের সাজানো মামলায় বিএনপির ৯ জনের ফাঁসি, ২৬ জনের যাবজ্জীবন দিয়েছে একটি আদালত! যে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি সেই মামলায় ফাঁসি হওয়ার কোন আইন পৃথিবীতে আছে কিনা আমাদের জানা নেই। এই ধরনের রায় পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, ২৪ বছর আগে পরিকল্পিতভাবে শুধু তামাশা করার জন্য নিজ দলীয় লোকদের দিয়েই ট্রেনের কাছে ফাঁকা গুলির ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গণফাঁসির রায় প্রমাণ করে দেশ এখন দুঃশাসনের কালো রাতে আচ্ছন্ন। রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যকার পার্থক্যের অবসান ঘটেছে। রাষ্ট্র, এক ব্যক্তি ও দল এখন একাকার। এই রায়ের মাধ্যমে সরকারের যে অসহিষ্ণুতা ফুটে উঠেছে তাতে ভিন্ন মতকে দেশদ্রোহী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুতরাং বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো যেন অপরাধী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সম্পূর্ণ উন্মার্গগামী হয়ে পড়েছে। যেকোন ভাবেই এরা টিকে থাকতে চায়। এজন্য একদিকে হত্যা-গুম- গ্রেফতার-মামলা-হামলা করছে, অন্যদিকে আইন-আদালতকে আঁচলে বন্দী করে দেশকে মগের মুল্লুক বানিয়েছে। আইন এখন কিতাবে আছে তবে বাস্তবে চলছে বণ্য-রাজের ন্যায় মুখের আইন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, ফিরোজ-উজ জামান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন