ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

দায় স্বীকার করে আদালতে হারুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ধর্ষনের পর শিশু সামিয়া হত্যা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম | আপডেট : ১২:২৩ এএম, ৯ জুলাই, ২০১৯

সাত বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আসামি হারুন অর রশিদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আরজুনের কাছে আসামি হারুন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করে তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। 

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গতকাল বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়ে ৪টা ২৫ মিনিটে জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করেন বিচারক। এর আগে গত ৭ জুলাই হারুনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. আরজুন আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছেন, সামিয়া হারুনকে বলেন, “চাচ্চু আমাকে ছাদটা দেখাইয়া নিয়ে আসেন।” তখন হারুন সামিয়াকে নিয়ে ছাদে ওঠেন। একপর্যায়ে সামিয়াকে নয় তলার ফাঁকা কক্ষে নিয়ে যান হারুন। সেখানে হারুন ধর্ষণের চেষ্টা করলে সামিয়া চিৎকার করেন। তখন তার গলাটিপে ধরে অচেতন করে ফেলে। সেখান থেকে সামিয়াকে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন হারুন। পরে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে সামিয়া নিশ্চুপ হয়ে গেলে ওই কক্ষে থাকা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
জবানবন্দিতে হারুন আরও বলেছেন, সামিয়াকে হত্যা করার পর লাশ রেখে খালাতো ভাই পারভেজের বাসায় যান। তখন মাগরিবের আজান দেয়। তিনি গোসল সারেন। পরে বাসার নিচে এসে এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। রাত ১১টা দিকে নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যান। বাড়ি যাওয়ার পর মোবাইলের সিম ফেলে দেন। সামিয়াকে ধর্ষণ করে হত্যা করার কথা সেই রাতে তার বাবা-মাকে বলেন। পরে তিনি তাঁর ফুপুুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
মামলার এজাহারে থেকে জানা যায়, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশু সায়মা খেলাধুলার নাম করে মনির হোসেনের পাশের ফ্ল্যাটে যায়। সায়মার বাবা মাগরিবের নামাজ শেষে ছেলে- মেয়েন জন্য নাস্তা কিনে বাসায় ফেরে এবং তার মাকে মেয়ের কথা জিজ্ঞসা করেন। তখন সায়মার মা জানায় যে, পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশি মনিরের বাসায় খেলতে গেছে। সন্ধ্যায় আনুমানিক ৭টার সময় সামিয়া বাড়িতে ফিরে না আসায় আমার স্ত্রী সানজিদা আক্তার মনিরের বাসায় খুঁজতে যায়। মনিরের বাসায় না পেয়ে আমার স্ত্রী ফেরত আসে। এরপর আমি আমার স্ত্রী ও বড় মেয়ে ফারজানা প্রতিবেশি মনির ও তার স্ত্রীসহ বিল্ডিংয়ে সমস্ত যায়গায় খুঁজতে থাকি। নিচ তলা থেকে, আশেপাশের ফ্ল্যাটে না পেয়ে নবম তলায় খালি যায়গায় খুঁজতে যায়। নবম তলায় সব জায়গায় তালাবদ্ধ থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নবম তলায় উত্তর পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খোলা দেখে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পাই যে, আমার মেয়ের পায়ের স্যান্ডেল দুটি পড়ে আছে। সেন্ডেল দেখে আমাদের সন্দেহ হলে ভেতরে রুমে খুঁজতে থাকি।
এজাহারে আরও বলা হয়, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের কিচেন রুমে সিঙ্কের নিচে গলায় শক্ত করে পাটের রশি দিয়ে পেঁচানো, মুখে রক্তাক্ত এবং পরনের হাফপ্যান্ট সামনের দিকে ছেড়া, রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান তিনি। এরপর আমরা থানায় পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ এসে আমার মেয়েকে সিঙ্কের নিচ থেকে বের করে। এরপর ওয়ারী থানার পুলিশ আমার মেয়ের লাশের সুরতহাল প্রস্তুত ও ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আমাদের ধারণা আমার মেয়ে মনিরের বাসা থেকে বের হয়ে আমার ফ্লাটে আসার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে কেউ নবম তলার উত্তর পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের উত্তর-পশ্চিমের কোনো রুমে নিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এরপর সামিয়ার গলায় শক্ত করে পাটের রশি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকায় বহুতল ভবনের ৯ তলার খালি ফ্ল্যাট থেকে সামিয়া আক্তার সায়মার (৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Belal Khan ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
জবানবন্দি দেওয়া শেষ, ক্রসফায়ার করা শেষ।
Total Reply(0)
Mohammed Arifur Rahman ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
এই জানোয়ারটাকে জনসম্মুখে ফাসিতে ঝুলিয়ে নিচে আগুন জ্বালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি মহামান্য বিচারকবৃন্দের কাছে।
Total Reply(0)
Sadar Uddin Ipshy ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হোক।
Total Reply(0)
Md Yeasin Arafat ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
তার পুরুষ্কার মৃত্যু দন্ড হওয়া উচিৎ। কারণ মেয়ে বয়স অনেক কম ছিল এবং তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
Total Reply(0)
Habib R Zia ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
ফাঁসি নয় সাহাবাগের মোড়ে মাইকিং করে জনসম্মুখে তলোয়ার দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হোক।
Total Reply(0)
Jahedi Nipol ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
স্বীকার করছে, সুতরাং প্রমান হয়ে গেছে। এখন ক্রস ফায়ার করুক অথবা ১০/১৫ দিনের ভিতর মৃত্যু দন্ড দিয়ে রায় দিক আদালত।
Total Reply(0)
Md Sharif Sharif ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
সরকারের কাছে আশা করি, ওকে ক্রসফায়ার দেওয়া হকো,,ওর কোন বিচার নাই,,, যে আইনজীবী ওর পক্ষে দারাবে,, তাকে আমি মন থেকে ঘ্রনা করবো।
Total Reply(0)
Shoimul Islam ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
সে শিকার করেছে তার অপরাধ, বিচার শেষ, এখন তাকে সাহাবাগ মোড়ে অথবা শাপলা চত্তরে প্রকাশ্যে ফাসি দেওয়া হোক, এটা দেখে একটু হলেও সবার শিক্ষা হবে।
Total Reply(0)
Alokito Dunya ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
কিসের রিমান্ড,সে স্বীকার করেছে ধর্ষনের পর মেয়েকে হত্যা করেছে তাহলে দেরি কেন, জনসম্মুখে এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক
Total Reply(0)
Alokito Dunya ৯ জুলাই, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
কিসের রিমান্ড,সে স্বীকার করেছে ধর্ষনের পর মেয়েকে হত্যা করেছে তাহলে দেরি কেন, জনসম্মুখে এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক
Total Reply(0)
md.jahirul alam ৯ জুলাই, ২০১৯, ৯:৩৮ এএম says : 0
এমন জঘন্য অপরাধ প্রমানিত হওয়ার পর সাজা কার্যকর করতে আদালতের ইতিবাচক ভূমিকা আশা করি।
Total Reply(0)
Shamima ৯ জুলাই, ২০১৯, ৪:৫৩ পিএম says : 0
দেশ তো উন্ননের জোয়ারে ভাসছে। তবুও আমি, আমার মেয়ে, আমার মা কেউ নিরাপদ নই।জনসম্মূখে ধর্ষকের শরীর করাত দিয়ে চিরে ফেলা হোক।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন