ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মুর্শিদাবাদে হিন্দু প্রতিবেশীর সৎকারে মসজিদের ইমাম

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ জুলাই, ২০১৯, ৬:৪৭ পিএম

মুর্শিদাবাদে হিন্দু প্রতিবেশীর সৎকার করে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন মুসলমানরা। সোমবার সকালে সুতির মোমিনপুর গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান গণেশ রবিদাস (৪৫)। দরিদ্র সেই পরিবারে মৃতদেহ সৎকারের খরচ জোগানো মুশকিল ছিল। কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন খোদ মসজিদের ইমাম। মুসলিম ছেলেদের নিয়ে সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। জাকির-নুরুলদের সাথে মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে সঙ্গী হন অন্তিম যাত্রায়।

মোমিনপাড়ায় ৫০০ পরিবারের বাস। তাদের মধ্যে মাত্র দু’ঘর হিন্দু। গ্রামে যে মসজিদ রয়েছে, তারই ইমাম নুরুল হক। গ্রামের এক পঞ্চায়েত সদস্য এবং তরুণদের নিয়ে সকালেই পৌঁছে যান গণেশের বাড়িতে। পারলৌকিক ক্রিয়ার কেনাকাটা থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া সব কিছুই করলেন তিনি ও তার সঙ্গীরা। এমনকি অন্যদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে মৃতদেহও বহন করেন। ঠিক যেন পরিবারের সদস্য।

নুরুল হক বলেন, ‘আমরা জাতি ভেদে বিশ্বাসী নই। এত দিন ধরে আমরা একসঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করছি। খুবই গরিব পরিবার। সেই কারণেই সকলের সাহায্য নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’

গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মাসাদুল মোমেন নিজেও ছুটে গিয়েছিলেন এ দিন। বললেন, ‘বিপদের দিনে মানুষের পাশে থাকাটাই তো কর্তব্য। আমরা এখানে একই পরিবারের মতো। তাই যেখানে শ্মশান রয়েছে, সেখানে দাহ করার পর ৯০ জনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করেছিলেন গ্রামের সকলে মিলে।’

জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলা বরাবরই সম্প্রীতির মেলবন্ধনের জায়গা। সুতির মোমিনপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তার উদাহরণ সব জায়গায় তুলে ধরা হবে। সহিষ্ণুতাই পরম ধর্ম।’

গত কয়েক দিন ধরেই মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরাতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো যখন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি মিছিলে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় নিজেদের কর্তব্যে অবিচল থেকে বার্তা দিল প্রত্যন্ত এক গ্রামের বাসিন্দারা। সূত্র: টিওআই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন