ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

ধর্ম দর্শন

আপনাদের জিজ্ঞসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৯, ৮:৩৯ পিএম

প্রশ্ন: জুমার দিনের মর্যাদা কি?

উত্তর: জুমার নামাজের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন মাজীদে সূরা আল জুমায়ার ৯ নম্বর আয়াতে দোজাহানের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো।’ এ আয়াতের মাধ্যমে জুমার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। জুমার নামাজের তাকিদ শুধু পবিত্র কোরআনেই নয় পবিত্র হাদিস শরীফে ও এসেছে। হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (দ.) বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি- এই চার ধরণের মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৬৭ ও মুসতাদরেকে হাকেম, হাদিস নম্বর : ১০৬২)।

কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে তার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (দ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি , ৯ম খন্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা)।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এবং এটি দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। ইবনে মাজায় বর্ণিত হাদিসে রাসলুল্ল­াহ (দ.) ইরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্ল­াহর নিকট সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর নিকট তা ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ আর মুসলিম শরিফের হাদিসে রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেন, ‘যে সকল দিনে সূর্য উদিত হয় তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। আবার এ দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে। যে দিন কিয়ামত হবে- সে দিনটিও হবে জুমার দিন।

সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (দ.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ফেরেশতাগণ মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। অতঃপর যখন ইমাম সাহেব এসে যান, তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন। যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়।’ (বুখারী ও মুসলিম এবং মুসনাদে ইমাম শাফ, হাদিস নম্বর : ৬২)।

হজরত সালমান (রা.) হতে একটি হাদিসে রাসুল (দ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি মাখবে। তারপর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লি­র মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না। সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, সে চুপ করে মনোযোগসহকারে খুতবা শুনবে। এ আমলের পুরুষ্কারসরূপ দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ৪৭৯)

জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো- এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্ল­াহ (দ.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু দোয়া করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৮৫২ এবং মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর : ৭১৫১)।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটি- এ সম্পর্কে আলেমদের ৪৫টি মত পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হলো, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টুকু দোয়া কবুলের সেই মহেন্দ্রক্ষণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এ কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, হে দুনিয়ার মানুষ শোন! তাজেদার মদিনা সরকারে দোআলম (দ.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের কাঙ্খিত সময়টি হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসান্নেফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নম্বর : ৫৪৬০ এবং তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৪৮৯)।

উত্তর দিচ্ছেন: মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন