ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

লালপুর ও সাদুল্লাপুরের গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা

অভ্যন্তরীণ ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

নাটোরের লালপুর উপজেলা ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা। এতে জনদুর্ভোগ চরমে। এ সংক্রান্ত আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন

লালপুর (নাটোর) থেকে মো. আশিকুর রহমান টুটুল জানান, নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউপির হোসেনপুর থেকে পালোহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার গ্রামীন রাস্তাটির বেহাল দশা যেন দেখার কেউ নেই। গ্রীষ্মের তীব্র খরায় রাস্তায় যেমন ধুলার সৃষ্টি হয় তেমনি একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে দুই কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে কাঁদায় মাখামাখি হয়। আর এই শুকনোর ধুলা ও বর্ষার কাঁদা পানি মাড়িয়েই রাস্তাদিয়ে প্রতিনিয়তই এইভাবেই চলাচল করেন হোসেনপুর ও তার পাশবর্তী গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার জনসাধারণ। এতে গ্রীষ্ম ও বর্ষা দুই মৌসুমেই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। শুধু এই রাস্তাই শেষ নয় পাশবর্তী পানঘাটা থেকে নাওদাড়া ও ভবানিপুর থেকে ছোট পাল্লার রাস্তটিরও এই চিত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে কাঁদা মাখামাখি আর এই কাঁদা মাড়িয়ে কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক হাতে বই আর অন্য হাত দিয়ে কেউ স্কুল ড্রেস কেউ বা পায়ের সেন্ডেল নিয়ে স্কুলের দিকে আসছেন। এদিকে পায়ের কাঁদা ছিটকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস গুলি নোংড়া হয়ে যাচ্ছে তার পরেও শিক্ষা গ্রহণের জন্য ছুটে আসছেন বিদ্যালয়ের দিকে।

এসময় কথা হয় কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা বলেন, ‘রোদ হলে রাস্তায় ধুলা হয় আর বাতাসে সেই ধুলা সমস্ত শীরিরে লেগে যায়। আবার বৃষ্টি হলে রাস্তায় এতো কাঁদা হয় যে স্কুলে আসার সময় স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়। স্কুলে আসতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।’

কথা হয় নুরুল ইসলাম নামের এক পথচারীর সঙ্গে তিনি ইনকিলাবকে জানান, ‘রাস্তটি দিয়ে পাশবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে হাঁটু পরিমান কাঁদার সৃষ্টি হয়, আর এই কাঁদা মাড়িয়েই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদে পরেন অসুস্থ ও প্রসূতি রোগীরা।’

এ ব্যাপারে পালোহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুদরত আলী ইনকিলাবকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে এই রাস্তায় হাঁটু পরিমান কাঁদা হয়। বর্ষা কালে কাঁদা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনা। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’
তবে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ১০ নং কদিমচিলান ইউপির চেয়ারম্যান সেলিম রেজা ইনকিলাবকে বলেন, ‘এই রাস্তার জন্য (এলজিইডি) তে অনেক বার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তা পাশ হয়নি। প্রকল্প পাশ হলে রাস্তটি সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।’
লালপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্কাস আলী এ বিষয়ে ইনকিলাবকে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, রাস্তটি জনগুরুত্বপূর্ন হওয়ায় পাকাকরণ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।’
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কান্তনগর হতে ছান্দিয়াপুর হয়ে মাদারগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়। ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ হাটের সঙ্গে পথচারী ও ছোট বড় সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, খানাখন্দের রাস্তায় যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। ফলে ৪টি ইউনিয়নের উৎপাদিত পণ্য ধান, পাট, গম, ভূট্টা কাঁচা তরিতরকারি, দুগ্ধসহ খাদ্য সামগ্রী হাট-বাজারে নেয়ার সময় বিপাকে পরেন ব্যবসায়ী ও সাধারন কৃষকরা। কাঁচা শাকসবজি সময়মত বাজারে না নেয়ার ফলে নষ্ট হয়ে যায়।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকরা। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তার দুই শতাধিক স্থানে ইটের খোয়া সুড়কি ওঠার কারনে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে অনেকে।

অপরদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংলগ্ন যাতায়াতের পথে ৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৬ টি মসজিদ ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।
এছাড়াও পাশবর্তী বৈসনবদাস হয়ে মীরপুর যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল অবস্থা। ঐ রাস্তা সংলগ্ন স্থানে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৬টি মসজিদ রয়েছে। ১৯৪২সাল হতে এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যান্ত অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে সমাজে অসামান্য ভুমিকা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলির। অনেকে আবার সরকারের নানা কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে অবদান রাখছে। কিন্ত যোগাযোগের ক্ষেতে আজও কোন উন্নয়নের সুফল তারা পায়নি।

এদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ধুলা ও বৃষ্টির সময় কাঁদামাখা রাস্তায় দীর্ঘদিন চলাচলের ফলে বায়ূদুষন জনিত কারনে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। যা যুগের পর যুগ ধরে ভোগান্তীসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তাগুলো কার্পেটিংসহ পাকাকরনের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেই কোন ভ্রুক্ষেপ।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় এলাকাটি অবহেলিত হয়ে পড়েছে। দামোদরপুর, রসুলপুর, জামালপুর, ফরিদপুরসহ ৪ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পীরগঞ্জ হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের সময় দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম দুলা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাস্তাগুলো পাকাকরনের ব্যাপারে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে একাধিকবার বলার পরেও কাজ হয়নি।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, রাস্তা সংস্কারের চাহিদাপএ পাঠানো হয়েছে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন