ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

মেঘ দেখলেই আতঙ্কে সীতাকুণ্ডের কৃষক

পাহাড়ি ঢলে ধসে গেছে স্লুইচ গেট

শেখ সালাউদ্দিন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

কৃষি প্রধান উপজেলা সীতাকুণ্ড। এ অঞ্চলের বেশির ভাগই মানুষ যুগ যুগ ধরে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পূর্বে পাহাড় এবং পশ্চিমে সাগরের জীবনরক্ষা বেড়িবাঁধ। এরই মাঝে আদীকাল থেকেই কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফসল ফলায়। মৌসুমে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত পাইকার এখানকার অধিক উৎপাদিত সবজি কিনার জন্য উপজেলার বিভিন্ন বাজার হাঁটগুলোতে ভীর জমান। কিন্তু ২০১৭ সালে সৃষ্ট বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী উপকূলীয় এলাকার জীবন রক্ষা বেড়িবাঁধটি ধসে স্লুইচ গেটের ওপরে পড়লে স্লুইচ গেটটিও ধসে পড়ে যায়। ফলে পানি চলাচলের রাস্তা একেবারে বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাগরের সাথে সংযুক্ত খাল ও ছড়াগুলো মাটিতে ভরাট হয়ে এবং পানি নিস্কাশনের সুব্যাবস্থা না থাকার কারণে বর্ষার মৌসুমে কৃষকদের সবজি ক্ষেতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকদের অতি পরিশ্রমের ফসল ও পুকুরের মাছ।

তাই মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগরের তীরবর্তীতে থাকা কৃষক পরিবারের লোকজন এখন আকাশে মেঘ দেখলেই তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে সদ্য রোপন করা আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত বর্তমানে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান একই এলাকার প্রবীন কৃষক আবু তাহের। তিনি বলেন চলতি বছরের জুন মাসের ১০/১১ তারিখে সদ্য আউশ জাতের ধান রাজকুমার হাইব্রীড রোপন করেছি ১৬০শতকে। এছাড়া ২০০ শতকে বর্বটি ও ৩৪ শতকে লাউ এর আবাদ করা হয়েছে। আবাদ অনুযায়ী জমিতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক প্রতিদিন নাস্তাসহ ৫০০ টাকা মুজুরিতে কাজ করছেন। তিনি বলেন গত ২০১৭ সাল থেকে সøুইচ গেট ধসে পড়ায় এখানকার কৃষকদের সব রকম সবজি ক্ষেত পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তাই চলতি বছরেও অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা ধান চাষসহ বিভিন্ন রকম সবজির আবাদ করলেও মুরাদপুর গুলিয়াখালী সøুইচ গেটটি সংস্কার না হওয়ায় এখানকার কৃষক পরিবারের রোপন করা হাজার হাজার একর জমির ধানের চারা ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একই এলাকার কৃষক মো. আইয়ুব আলী জানান, মৌসুমে আউশ জাতের ধান দুর্বার রোপন করেছেন ১২০ শতকে। তার পাশাপাশি বর্বটি রোপন করেছেন ৬৬ শতক জমিতে। কিন্তু সøুইচ গেটটি দীর্ঘদিন ধরে ধসে পড়ায় কৃষির উপর নির্ভর কৃষি পরিবার গুলো ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

অপরদিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত অধিকাংশ খাল ও গুলিয়াখালী সøুইচ গেট দীর্ঘদিন ধরে ধসে পড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি কৃষকদের আবাদি জমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে অসংখ্য কৃষক পরিবারের লোকজন এখন জমিতে চাষাবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রাত কাটাছে গুলিয়াখালীর ৩০০ কৃষকের। ঢলের পানিতে এভাবে বার বার ক্ষতির শিকার হলে আগামীতে জমি চাষ নিয়ে অনেকটা অনিশ্চিত বলা চলে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাফকাত রিয়াদের সাথে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বেড়িবাঁধের মাটি এসে ধসে স্লুইচ গেটের উপর পড়লে স্লুইচ গেটটি ধসে পড়ে যায়। এটি সংস্কার করা গেলে পাহাড়ি ঢলের পানি কৃষকদের জমিগুলোতে তেমন প্রবেশ করতে পাড়বে না। সরকার কৃষি বিষয়ে নানান রকম উদ্যোগ গ্রহন করে চলেছেন।

মুরাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী (বাবু) বলেন, ২০১৭ সালে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গুলিয়াখালী স্লুইচ গেটটি ধসে পড়ে গিয়েছিল। ফলে চলতি বর্ষায় কৃষকদের জমির আউশ ধান ও সবজি তলিয়ে গিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আমার নিজের পুকুরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ২শ’ পুকুরের মাছ পানির শ্রোতে ভেসে আরো ৩ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সর্বমোট ৫ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতির শিকার হন এ ইউনিয়নের সবজি ও মৎস্য চাষীরা। এছাড়া এ ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কগুলো পাহাড়ি ঢলের পানিয়ে ডুবে একাকার হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন খাল ও স্লুইচ গেট সংস্কার বিষয়ে একটি ফাইল পানি মন্ত্রনালয়ে ঝুলে আছে। তবে খাল ও স্লুইচ গেট দ্রুত সংস্কার করা না গেলে প্রতি বর্ষার মৌসুমে কৃষক ও মৎস্য চাষীরা বার বার ক্ষয় ক্ষতির শিকার হবেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন