ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জটের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

বহির্নোঙ্গরে অলস জাহাজের সারি বাড়ছে কন্টেইনারের পাহাড়

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

জটের মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষমান বড় জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। লাখ লাখ টন আমদানি পণ্য নিয়ে সেখানে অলস বসে আছে ৭৫টি জাহাজ। পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় কর্ণফুলীর ১৬টি ঘাটে বসে ৪শ লাইটারেজ জাহাজ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে আশপাশের সবকটি সড়কে টানা পাঁচদিন ধরে তীব্র যানজট।

এর ফলে বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী কন্টেইনার পরিবহন স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও জেটিতে কন্টেইনারের পাহাড় জমছে। ৪৯ হাজার ৮শ টিইইউএস কন্টেইনার ধারণক্ষমতার ইয়ার্ড ও জেটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি কন্টেইনার জমা হয়েছে। এ অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার জটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দরে জট পরিস্থিতি জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গেল রোববার থেকে বর্ষণ শুরু হয়। সেইসাথে সাগরে তিন নম্বর সঙ্কেত জারি করা হয়। সোমবার থেকে শুরু হয় টানা বর্ষণ। ওইদিন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। এসব জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস করে নৌপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো। টানা ভারী বর্ষণ ও সেই সাথে দমকা হাওয়ায় সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়ার কারণে নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

মাদার ভেসেলগুলোতে লাখ লাখ টন শিল্পের কাঁচামাল, সিমেন্ট ক্লিংকার, অপরিশোধিত চিনি, গম, সরিষা, তুলাসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ভাসছে। শিল্পের কাঁচামাল পরিবহন বন্ধ থাকায় শিল্প কারখানাগুলোতে কাঁচামালের সঙ্কট আর এ কারণে উৎপাদন বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য খালাস ও পরিবহন না হওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। অন্যদিকে জাহাজগুলো দীর্ঘদিন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকায় আমদানিকারকদের মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুণতে হবে। এতে আমদানি পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্য খালাসেও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পণ্য খালাস বিঘিœত হচ্ছে, পণ্য পরিবহনও থমকে গেছে। বিভিন্ন জেটি ও ইয়ার্ডে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বন্দর এলাকায় তীব্র জটের কারণে কন্টেইনার আসা-যাওয়ার হার কমে গেছে। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনারের পাহাড় জমছে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ভারী যানবাহন আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করে। তবে গত কয়েকদিনে তীব্র জটের কারণে এ হার অনেক কমে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দর এলাকায় দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে ঢুকতে পারছে না ভারী যানবাহনগুলো।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বৃষ্টির কারণে গত পাঁচদিন ধরে বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। পণ্য খালাসের অপেক্ষায় বহির্নোঙ্গরে ৭৫টি জাহাজ রয়েছে। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক হলেও খোলা পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরকে ঘিরে সবকয়টি সড়কে টানা পাঁচদিনের তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজটে অচল বিমানবন্দর সড়ক। এর প্রভাবে নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোড, টোল রোড থেকে শুরু করে বারিক বিল্ডিং হয়ে মাঝিরঘাট পর্যন্ত সড়ক যানবাহন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য কাটগড় থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ওই সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে যাচ্ছে। তীব্র যানজটের কারণে পতেঙ্গা এলাকায় গড়েওঠা কন্টেইনার টার্মিনালগুলো থেকে বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন মারাত্মক বিঘিœত হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দরের অনুরোধে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়। গতকাল বন্দরের বিভিন্ন গেইটে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশকে তৎপর দেখা যায়। গণপরিবহন আটকে রেখে এসব গেইট দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন আসা-যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছিল ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

জট নিরসনের দাবি মেট্রো চেম্বারের
বন্দরমুখী সড়কে তীব্র যানজটের কারণে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আমদানিকৃত পণ্য যথাসময়ে শিল্পাঞ্চলে না পৌঁছাতে পারলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। অন্যদিকে রফতানিযোগ্য পণ্য বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পের কন্টেইনার নির্ধারিত সময়ে জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে বিদেশী ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারে। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানী পণ্য বাজারে না পৌঁছতে পারলে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি পাবে। তিনি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার আহŸান জানান। এছাড়া বন্দর জট কমানোর জন্য দিবা-রাত্রি বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারীর ব্যবস্থা করে প্রধানমন্ত্রীর ২৪/৭ নির্দেশনা অনুসরণে আগ্রাবাদস্থ সকল ব্যাংক শুক্র, শনিবারও খোলা রাখা এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার দাবি জানান।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন