ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের কী হবে

মাশরাফি ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলিতে হতাশা

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

শিশু জাহিদ, নাসরিন, সুমন। তাদের শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধী ক্যান্সার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মতো আরও শতাধিক শিশু এই বিভাগের ইনডোর এবং আউটডোরে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছে।

বিগত ২০১৩ সালে এই বিভাগটি চালুর পর থেকেই ক্যান্সার আক্রান্ত ফুলের মতো ফুটফুটে শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন প্রফেসর একেএম রেজাউল করিম। বিভাগটি চালু হওয়ার আগে বৃহত্তর চট্টগ্রামে এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় অভিভাবকদের ছুটতে হতো ঢাকায় অথবা দেশের বাইরে। গত কয়েক বছরে শত শত রোগী এ বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে।

দেশের তিনজন সেরা শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের একজন প্রফেসর একেএম রেজাউল করিমকে পেয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকেরা আশায় বুক বাঁধেন। তিনিও পরম যতেœ চিকিৎসা সেবায় শিশুদের সারিয়ে তুলছিলেন। হঠাৎ করেই ওই চিকিৎসককে বদলি করে দেওয়ায় বিস্ময়ে হতবাক রোগী ও তাদের অভিভাবক এবং স্বজনেরা। তাদের প্রশ্ন ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদেরই বা কী হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রফেসর একেএম রেজাউল করিমকে বদলি করা হয়েছে। গত ২৬ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে চমেক হাসপাতাল থেকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত করে বদলির আদেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাকে রাঙ্গামাটিতে বদলি করা হলেও সেখানে কোন ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
শিশু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসককে বদলির ঘটনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু ও তাদের স্বজনেরা ছাড়াও সর্বমহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। যদিও সরকারি তরফে বলা হয়েছে ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে তাকে বদলি করা হয়েছে। কেননা, তিনি একজন সংসদ সদস্য এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন।

গত ২৮ এপ্রিল চিকিৎসক একেএম রেজাউল করিম ফেসবুকে সংসদ সদস্য মাশরাফি সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেন। তার চারদিন আগে মাশরাফি নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চারজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতি দেখতে পেয়েছিলেন। হাসপাতালে অনুপস্থিত চার চিকিৎসকের একজনের সঙ্গে মাশরাফি টেলিফোনে যে ভাষায় কথা বলেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন চিকিৎসক। অনেকে তাদের অসন্তোষও প্রকাশ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ প্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুকে চিসিৎকদের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন রেজাউল করিম।

গত ৬ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক একেএম রেজাউল করিমসহ মাশরাফির বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ছয় চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। প্রফেসর রেজাউল করিম বদলির আদেশ মেনে নিলেও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে দেশের যেকোনো জায়গায় বদলি করা যেতে পারে। রাঙ্গামাটিতে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ কম থাকবে। কেননা, সেখানে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

এদিকে তার বদলির আদেশ নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ পেয়েছে। তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গত ৪ জুলাই শতাধিক ক্যান্সার রোগী ও তাদের অভিভাবকেরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, তাকে বদলি করার পর এ বিভাগে চিকিৎসা ব্যাহত হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার বদলে ওই বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন চিকিৎসক দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, তার বদলির আদেশ অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত এবং অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কতিপয় আমলা স্বাস্থ্যখাতে সরকারের অর্জনকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে এ ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা অবিলম্বে তাকে সপদে বহাল এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি করছি। মাশরাফিকে নিয়ে তিনি অন্যায় কিছু বলেননি উল্লেখ করে ডা. ফয়সল ইকবাল বলেন, কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন