ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

আ.লীগকে শক্তিশালী করে জনমত সৃষ্টি করুন

উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি, সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। যে কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করে জনমত সৃষ্টি করা। এ ছাড়া চলমান বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন। সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভা শুরু হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের একটা লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটাকে আমাদের ধরে রাখা আর এখানে রাজনৈতিক শক্তিটা খুব বেশি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন, জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। আমি মনে করি, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং আজকে বাংলাদেশে আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি, সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন এবং অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারাটা কিন্তু ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দেইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে দেশটাকে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা আরো সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সে পরিকল্পনা আমাদের আছে।

উন্নয়নের এই যাত্রাপথের নানা বাধা-বিপত্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।

উন্নয়নে সফলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সরকার গঠনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু পরিকল্পনা ছিল দেশকে নিয়ে। সেই কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের একটা চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে এলে কী করব? কোথায় যাবো? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই আমরা সরকারে আসার পর আমাদের কাজগুলো করতে পেরেছি। যার কারণে দেশটা আজকে এত দূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাবো; সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব বড় বড় উন্নত দেশের মতো উন্নয়ন হয়তো করতে পারব না। কিন্তু প্রতিটি মানুষেই তার জীবনটাকে অর্থবহ করবে, দারিদ্র্যের হাত থেকে তারা মুক্তি পাবে, তারা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে। তাদের জীবনের যে লক্ষ্যগুলো তা পূরণ করে অন্তত সেভাবে আমাদের দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। এই বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা, জনমত সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা। এজন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, উপদেষ্টারা আমাদের ‘থিঙ্কট্যাঙ্কের’ মতো। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন উপ-কমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।

দেশের অগ্রগতিকে যারা অস্বীকার করেন, ভিত্তিহীন সমালোচনা করেন তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক থাকে যাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, কিছু লোক সব সময় এটাকে ভিন্ন চোখে দেখা তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দমবন্ধ ঘটে। তারা নিঃশ্বাস নিতে পারে না। এমন একটা ভাব তাদের। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।

চলমান অতিবৃষ্টিসহ দেশের জনগণের কল্যাণে সব কিছুর দিকে সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদীভাঙন হতে পারে বা পাহারে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে খবর নিচ্ছি এবং সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করে যাচ্ছে। এখানে এতটুকু কোনো শৈথিল্য নেই। কারণ তাদের সব কাজ আমাকে সাথে সাথে মেসেজ দিয়ে জানাতে হয়।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপি সরকারে একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড়, তখন তো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে। পার্লামেন্টে যখন আমি বললাম এতবড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিলেন, ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই।’ আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম যে, ‘কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন’- এ ছাড়া বলার মতো কিছু ছিল না। কারণ উনি জানেনই না। এই যে একটা দুর্যোগ এলে সিগন্যাল দেয়া হচ্ছে, কিচ্ছু জানেনই না।

এ সময় দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিরও তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা কিন্তু অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা; এই নীতি নিয়ে আমরা কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Aslam Uddin ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 1
জনমত তৈরী করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন।
Total Reply(0)
Aminul Talukder ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 1
very cute looking picture all
Total Reply(0)
Badal Badal ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 1
So congratulation Too Mother of Huminity. Pray for you.
Total Reply(0)
Arman Traders ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 1
We want peace please try your best
Total Reply(0)
Syed Haider ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 1
We, Awami Leaguers must be United and listen to her every instructions. She is s great leader and she has you as GS. We are all safe with this Leadership. May Allah grant her and all Senior Awami Leaguers including you a long healthy & productive life
Total Reply(0)
Md Isha Nobi ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 1
আল্লাহ, আমাদের নেত্রীকে দীর্ঘদিন হায়াত দারাজ করুক।এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুক। আমিন।আপনার হাত ধরে এগিয়ে যাবে পিরোজপুর। সাধারণ মানুষ ফিরে পাবে তাদের প্রাপ্য অধিকার । কাঙ্খিত উন্নয়ন।
Total Reply(0)
Shahid Ullah ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 1
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার কলেজ জীবনে চন্দ্রঘোনার কেপিএম স্কুলে একসময় আমরা গোপনে ছাত্রলীগের মিটিং করতাম। জাতীর পিতার কোন ছবি তখন বিক্রি করা নিষেধ ছিল ঐসময় সাপ্তাহিক খবর পত্রিকা আমি রাখতাম। খবর পত্রিকা থেকে আমার নেতার ছবি কেটে নিজেই বাজার থেকে কেনা ফ্রেমে বাধাঁই করি এবং নিজের পড়ার রুমে রাখি। ঐ সময়কার পরাধীন দিনগুলোর কথা এখন মনে পড়ে। আজ বাংলাদেশের মানুষেরা কত স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে। মিডিয়া কত স্বাধীন। আমি ১৯৯১,১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আমার আদর্শ লালন করি এবং ধারন করি। আমার একটা ইচ্ছে এবং স্বপ্ন আছে যদি কখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একবার দেখা করে নিজের জমে থাকা কথাগুলো বলতে পারতাম।
Total Reply(0)
মুহাঃ আব্দুস ছাত্তার সরদার ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 1
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক উন্নয়ন করেছেন। এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানা গুলোর দিকে নজর দিলে ভাল হয়। বেসরকারি এতিমখানা সরকারি করণ ও ভবন স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে জোর অনুরোধ করছি।
Total Reply(0)
Rafiqul Islam ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 1
নৌকার বিপক্ষে যে সব এম,পি মহোদয় গন নির্বাচন করেছে তাদের বিচার না করলে এর দায় দলকেই ভোগ করতে হবে। জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
Total Reply(0)
মতিন ১৩ জুলাই, ২০১৯, ৭:১৬ এএম says : 0
আগে ভোট হতো দিনে , ত্রখন ভোট হয় রাতে জনগনের কষ্ঠ কমে গেছে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন