ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় দেশগুলো

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০১৯, ৩:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ছয় জাতীর পরমাণু চুক্তি বহাল রাখতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে এতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো। সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক বিশেষ বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিলিত হবেন। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে চেষ্টা চালানো হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম `বিবিসি নিউজে’র দাবি, তেহরানের সঙ্গে চুক্তিটি রক্ষায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের এটি একটি নতুন পদক্ষেপ।

এর আগে ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কমানোর জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয় দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। যেখানে শর্ত ছিল ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনবে, যার বিনিময়ে তাদের উপর আরোপিত সকল অবরোধ ক্রমশ তুলে নেওয়া হবে। এতে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি।

যদিও পরবর্তীতে গত বছরের ৮ মে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে একে একটি অকার্যকর চুক্তি বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের তেল বিক্রিতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন; যা এখনও অব্যাহত আছে।

যদিও গত ১ জুলাই ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে নিজেদের ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা অতিক্রম করেছে বলে দাবি করেছিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। এক টুইটার পোস্টে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপের কাছে ইরান কখনোই নতি স্বীকার করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা করতে চায়, তাহলে সকল হুমকি ধমকি পরিহার করে, সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে কথা বলতে হবে। আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির পরিমাণ ৩০০ কেজি অতিক্রম করেছে।’ মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ইউরোপের তিন দেশ এবং ইইউ যতদিন ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রতিশ্রুতি মেনে চলবে; তেহরানও ঠিক ততদিন পরমাণু সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে যাবে।’

এ দিকে বিশ্লেষকদের মতে, এবার ব্রাসেলসে তিন ইউরোপীয় দেশের মুখপাত্রদের এই বৈঠকে তেহরানকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ হবে। আসন্ন বৈঠককে সামনে রেখে রবিবার (১৪ জুলাই) তিন দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে ছয় জাতীর সেই চুক্তিটির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে এক গভীর সঙ্কটে পড়েছে তারা। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়- ‘আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিণতি বিচারের মাধ্যমে চলমান সঙ্কট নিরসনের পথ খোঁজতে আবারও আলোচনায় বসা প্রয়োজন। আর এখনই এর প্রকৃত সময়।’

সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলের জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছিল ব্রিটিশ মেরিন সেনারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্যাংকারটি সিরিয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ব্রিটেনের। এসবের জেরে গত শনিবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে টেলিফোন কথা বলেছিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। ফোনালাপে ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, ‘ট্যাংকারের তেল কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে মোটেও ব্রিটেনের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে আমাদের চিন্তার বিষয় হচ্ছে এই তেল ঠিক কোথায় যাচ্ছে। এটি সিরিয়ায় যাচ্ছে না কেবল এমন গ্যারান্টি দিলেই ট্যাংকারটি মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

অপর দিকে তেহরানের সঙ্গে ট্যাংকার ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ব্রাসেলসের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। আসন্ন বৈঠকটি সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও জার্মানির পাশাপাশি পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় যা কিছু করা সম্ভব এবার তার সব কিছুই করা হবে। একই সঙ্গে ইরানকে চুক্তি মেনে চলতে উৎসাহ দিতে যুক্তরাজ্য কাজ করে যাবে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন