ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ডেমু ট্রেন কেনা বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একনেকে ঢাকা বিভাগের রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ আট প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

দেশের ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) ট্রেন চালুর ছয় বছর পরও চলাচল উপযোগী নয় বলে নতুন করে এই ট্রেন কেনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক এবং ঢাকার মধ্যে শাটল ট্রেন চালুর লক্ষ্যে ডেমু সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেমু চলাচল উপযোগী নয়। অন্য কোনো ট্রেন আমদানি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এর আগে কেনা ডেমু ট্রেনগুলো যেহেতেু যাত্রীদের উপকারে আসেনি এবং অনেকগুলো নষ্ট হয়ে আছে। তাই নতুন করে এই ট্রেন কেনা হবে না। এ প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে অন্য কোনও ট্রেন আমদানির নির্দেশ দেন সরকার প্রধান। এছাড়া ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত সকালের অফিস সময়ের ট্রেনটি বিরতিহীন করার নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা। তবে পরের ট্রেনগুলোকে সব স্টেশনে বিরতি রাখতে বলেন তিনি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জাঁকজমক অনুষ্ঠানে দেশে প্রথম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডেমু ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৪২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ডিইএমইউ ট্রেন চীন থেকে আমদানি করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হয় ৬৫৫ কোটি টাকা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালক) মিহির কান্তি গুহ বলেন, আমদানি করা ২০ ট্রেনের অর্ধেকই বিকল। ঢাকা-কুমিল্লা, আখাউড়া-সিলেট, লালমনিরহাট-পার্বতীপর, লাকসাম-চট্টগ্রাম ও লাকসাম-চাঁদপুর রুটে ডেমু চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে ১০ সেট ডেমু ট্রেন চলাচল করছে। চার সেট ট্রেন মেরামতের অপেক্ষায় আছে। এগুলো ঠিক হলে আরও কয়েকটি রুটে চলাচল শুরু করবে।

এছাড়া ঢাকা বিভাগের রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ আটটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৪২ কোটি ছয় লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে চার হাজার ২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক হাজার ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি সরকারের গ্রামকে শহর বানানোর পদক্ষেপের অংশ হিসাবে হাতে নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে-হলিডে মোড় বাজারঘাটা-লাবপাড়া (বাসস্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ প্রকল্প। এর খরচ ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে দুই হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। পাবনা-নাটোর সিরাজগঞ্জ জেলায় ভূ-উপরিস্থত পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৬০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন