ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নিরাপত্তা বাড়ানো হবে সব আদালতের

গাফিলতি আছে কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

জেলায় কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় কতিপয় ধারা (অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা) এবারো পাচ্ছেন না ডিসিরা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জেলা প্রশাসকরা প্রতিবছর সম্মেলনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার চান, বিষয়টি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কুমিল্লার আদালতে ছুরি মেরে এক আসামিকে হত্যার প্রেক্ষাপটে দেশের সব আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের পঞ্চম কার্য অধিবেশনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তারপরও কেন চান সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিসিরা প্রত্যেকবারই জানতে চান, এটা কেন হচ্ছে না। তাই তারা বিষয়টি উত্থাপন করেন। আমরাও বলি এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেক সময় দেখা যায়, গতবার যিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন, এবার তিনি নেই। হয়তো এ কারণে তাদের কাছে এ প্রশ্ন উঠে। প্রশ্ন উঠলে আমাদের প্রত্যেকবারই এই জবাব দিতে কোনো আপত্তি নেই। জেলা প্রশাসকদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার চাওয়ার বিষয়ে আমি বলেছি, এই ক্ষমতা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করতে হবে। আইন সংশোধন করতে হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেখা হবে প্রয়োজন- না।

আনিসুল হক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসের ৩০ শতাংশ স্বাধীন করা হবে। একইসঙ্গে আদালতের আইন কর্মকর্তাদের (পিপি-জিপি) বেতনের আওতায় আনা হবে। এখন যে প্রসিকিউশনস সার্ভিস আছে, সেখান থেকে ৩০ শতাংশ ইনডিপেনডেন্ট (স্বাধীন) করার চিন্তা করছি। একইসঙ্গে আদালতের আইন কর্মকর্তাদের (পিপি-জিপি) বেতনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছি। এই প্রস্তাব আমি অলরেডি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এসবই আজকের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের যোগাযোগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হবে। হাইকোর্টে যে সব মামলা মোকাদ্দমা চলমান আছে, সেগুলোতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একটি কমিউনিকেশন গ্যাপ আছে, সেটা আজকের আলোচনায় বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, এই কমিউনিকেশন গ্যাপ দূরীকরণে যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে, আমি সেগুলো ডিসিদের বলেছি। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে হাইকোর্টে যেসব মামলা হয়, সেসব মামলা সম্পর্কে যেন জেলা প্রশাসকরা তড়িত জানতে পারেন। আমি এখন বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলবো। পাঁচ থেকে সাতজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে দেবো। তারা হাইকোর্টের মামলাগুলো সম্পর্কে ৬৪ জেলার প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। এতে কমিউনিকেশন বাড়বে এবং মামলা তড়িত নিষ্পত্তি হওয়ার একটি ব্যবস্থা হবে।

মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার চাওয়ার বিষয়ে আমি বলেছি, এই ক্ষমতা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করতে হবে। আইন সংশোধন করতে হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেখা হবে প্রয়োজন কি-না।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ডিসিদের বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা আমার জানার কথা না। আমার মনে হয় ডিসিদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির প্রথম আলোচনা। প্রধান বিচারপতি সে ধরনের দিক-নির্দেশনা দেবেন। এটাই হবে ভবিষ্যতে আলাপ-আলোচনার একটি প্রেক্ষিত। জেলা প্রশাসকরা প্রতিবছর সম্মেলনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার চান, বিষয়টি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারপরও কেন চান সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিসিরা প্রত্যেকবারই জানতে চান, এটা কেন হচ্ছে না। তাই তারা বিষয়টি উত্থাপন করেন। আমরাও বলি এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেক সময় দেখা যায়, গতবার যিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন, এবার তিনি নেই। হয়তো এ কারণে তাদের কাছে এ প্রশ্ন উঠে। প্রশ্ন উঠলে আমাদের প্রত্যেকবারই এই জবাব দিতে কোনো আপত্তি নেই।

কুমিল্লার আদালতে এক আসামির ছুরিকাঘাতে আরেক আসামির মৃত্যুর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এক আসামি আরেক আসামি মামাতো-ফুফাতো ভাই। যে হত্যা মামলায় তারা আসামি, সেটা নিয়ে একজন আরেকজনকে বলেছিল তোমাদের কারণে আমি এই মামলায় জড়িয়েছি। এ ঘটনার পর সারাদেশে আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য-অধিবেশন হয়। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ধান কাটার শ্রমিকের অভাব এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ধান ক্ষেতে কৃষকের আগুন লাগানোর ঘটনা সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। এবার বোরো মওসুমে চার লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

ডিসিদের সঙ্গে আলোচনার পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র বলেন, এবার চার লাখ টন ধান কিনব, গতকাল পর্যন্ত এক লাখ ১৫ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। ওনারা (ডিসিরা) সাহায্য করছেন, সেটা আরও জোরদার করার জন্য এবং আমাদের লোকেরা যাতে আরও বেশি অ্যাকটিভ হয়, ডিসি সাহেবরা যাতে নির্বাহী অফিসারদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারে, সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। প্রত্যেক জেলায় নিরাপদ খাদ্যের অফিস হবে।

মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য তাদের আরও কঠোর হওয়ার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। বন্যায় খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। খাদ্য গুদামে শুধু খাদ্যই নয়, ত্রাণও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করতে আমরা প্রস্তুত আছি। এখন ফসল নষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই, মাঠে কোনো ফসল নেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্র্রথম ধাপে ১১ হাজার ৬০৪টি ঘর নির্মাণ শুরু করেছি। এই অর্থবছরে ২৩ হাজার ঘর করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। এবারের বর্ষায় এরইমধ্যে দেশের ১৫ জেলায় ১১ লাখ বানভাসি মানুষের তথ্য সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর জন্য ডিসিরা নৌকার প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌকার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম, উনারা তিন লাখ টাকা চেয়েছেন। আমরা সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন আমাদের একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, একটি ডিজাইন দিয়েছেন, এসটিমেট দিয়েছেন ১০ লাখ টাকার একটি নৌকা, যে নৌকায় বন্যাকবলিত জনগণ তাদের মালামাল এমনকি ঘর পর্যন্ত অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে পারবে, সেই প্রকল্প আমরা গ্রহণ করেছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে বজ্রপাত নিরোধক টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। প্রতি বজ্রনিরোধক টাওয়ারের মূল্য পেয়েছি সর্বনিম্ন প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। আমরা চেষ্টা করছি আরও কম মূল্যে পাওয়ার। গতকাল পর্যন্ত ২০টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত প্রত্যেক জেলায় এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল, ১১ আইটেমের চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। প্রথমে দুই কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম গতকাল আরও ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।

বন্যায় বাঁধ ঠেকাতে জরুরি কাজ চলছে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বন্যায় বাঁধ ঠেকাতে জরুরি কাজ চলছে। পার্শ্ববর্তী দেশে যে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির পানি নেমে আসছে বাংলাদেশে, ধাবিত হচ্ছে পানিগুলো। পানির পরিমাণ এতো বেশি আমাদের নরমাল যে বাঁধ আছে এই বাঁধে কিন্তু ঠেকানো যাবে না। বাঁধ রক্ষায় প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ভাঙনের প্রবণতা হচ্ছে সেখানে ইমার্জেন্সি কাজ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।
বাঁধ ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলো অনেক বড়। বড় বড় নদীগুলোকে আমরা ড্রেজিং করব। যেটা ৮-১০ কিলোমিটার চওড়া নদী সেটাকে আমরা ৪-৫ কিলোমিটারে নিয়ে আসব। এটাকে রেগুলার মেইনটেন্যান্স করব। ড্রেজিং করা মাটি ৪-৫ কিলোমিটার বাইরে ফেললে কাল্টিভেশন ল্যান্ড হবে। ওখানে ফসলের জমি হবে। নদীটা ছোট হয়ে আসল, নাব্যতা থাকবে তখন। তখন কিন্তু এটার প্রকোপটা কমে আসবে।

দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিসিদের সহায়তা চায় মন্ত্রণালয়
দেশে অভিবাসন ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, দালালদের ধরতে কিছুটা সময় লাগবে। এটা আমাদের কাজ না। পুলিশকে দিয়ে আমাদের এটা করাতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, দেশে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে জেলা প্রশাসকদের কোনো নির্দেশ দেইনি, সাহায্য চেয়েছি। দালালরা গরিবদের লুটেপুটে দেড় লাখ থেকে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কারণ তারা টাকা-পয়সা উপার্জন করতে পারে না। তারা সেজন্য অবৈধভাবে থাকে। যা দেশের জন্য খারাপ। ডিসিদের কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চেয়েছি। ডিসিরা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন তারা আমার সঙ্গে থাকবেন।

বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানী কমাতে জেলা পর্যায়ে প্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেই কাজ শুরু করেছি। যারা বিদেশগামী আছে, তাদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা নিয়েছি। এরমধ্যে ডাটা ব্যাংক চালু করেছি। আমরা প্রত্যেক জেলা এমনকি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যাতে নিবন্ধন করা যায়, সেই ব্যবস্থা করবো। সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে যায়, আমি তো পুরো সমুদ্র পাহারা দিয়ে রাখতে পারবো না। কিন্তু যেটা করতে পারি যারা তাদের নিয়ে যায় তাদের ধরতে পারলে নিশ্চয়ই কাউকে ছাড়বো না। তথ্য থাকলে জানালে আমরা কাজে লাগাবো।

প্রবাসী শ্রমিকদের লাশ দেশে আনতে হয়রানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসে যারা মারা যায়, বিশেষ করে যারা বৈধপথে বিদেশ যায় এবং যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে তাদের প্রাথমিক অবস্থায় দাফনের জন্য এয়ারপোর্টেই ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। তারপর কল্যাণ ফান্ড থেকে আরও ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়। সমস্যা হয় যারা অবৈধভাবে থাকে তাদের নিয়ে। তাদের কাগজপত্র না থাকায় তাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারি না।

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানা সরানো হবে : শিল্পমন্ত্রী
শিল্প বিনিয়োগের জন্য বা স্থাপনের জন্য কোনো কৃষি জমি নষ্ট করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানা সরানো হবে। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি বা যত্রতত্রভাবে শিল্প-কারখানা করা যাবে না, বিষয়টি আমাদের আইনেই আছে। আমাদের বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) শিল্প নগর আছে। সেখানে বস্ত্র-মিলসহ অনেক শিল্প কারখানা রয়েছে। তবে কৃষি জমিও নষ্ট করে যত্রতত্র শিল্প কারখানা করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমরা শিল্প এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবেই করছি। কৃষিজমিতে কোনো শিল্প এলাকা হচ্ছে না। আপনারা জানেন আমাদের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই পরিকল্পিতভাবে শিল্পে পার্ক করছি। এসব পরিকল্পিত শিল্প এলাকাগুলো অবশ্যই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে যেসব শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে সেগুলো সরানো হবে। কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা হবে না। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কড়া নজরদারি করার কথা বলা হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এসময় ৬৪ জেলার প্রশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, লেজিসলেটিভ, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরির্দশক, বিভাগীয় কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিজিবি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কুমিল্লায় আদালতের এজলাস কক্ষে বিচারকের সামনে আসামিকে খুন করার ঘটনায় নিরাপত্তাগত দিক থেকে কারও কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তায় কারো গাফিলতি থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এজলাস কক্ষে এমন একটি ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। কিভাবে এজলাস কক্ষে একজন মানুষ ধারাল অস্ত্র নিয়ে আসতে পারে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তার যদি কোনো গাফিলতি থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আরেকটি বিষয়, আদালতে কেমন নিরাপত্তা দেয়া হবে এটি আদালত ঠিক করে পুলিশকে নির্দেশ দেয়। আদালতের চাহিদা মতই পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এমন ঘটনার পর আদালত কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আমরা নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ বাণিজ্যে যেসব পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হবে। অন্য যেকোনো বারের তুলনায় এবার পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে। সকল ধরনের তদবির-বাণিজ্য ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এত কিছুর মধ্যেও যেসব পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দফতরের বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে বিজিবি সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক, রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা এবং রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক- সেবা ২০১৮ প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন