ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

চট্টগ্রামে প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মন্ত্র পাঠের ঘটনা ‘অন্যায়’

ইনকিলাবের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৪:০৪ পিএম

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করে। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করায়। এ ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। এসময় আদালতে তিনি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন পড়ে শোনান। তিনি বলেন, এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’

প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় ও নিন্দা প্রকাশ করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Mizanur Rahman ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৫:০৭ পিএম says : 0
ভারতের তাবেদারির ফসল
Total Reply(0)
Mizanur Rahman ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৫:০৭ পিএম says : 0
ভারতের তাবেদারির ফসল
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন