ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইসলামী জীবন

উমরাহ কেন করবেন কিভাবে করবেন

মুফতি মাওলানা মুহাম্মাদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৮:৪৪ পিএম

দুই

(৩) মাথার চুল খাটো বা মুন্ডানো ওয়াজিব: সাাফা মারওয়াতে সায়ী শেষে মাথার চুল চার ভাগের একভাগ ছোট বা মুন্ডন করা উভয়টিই বৈধ। তবে মুন্ডন করাই উত্তম। কেননা মুন্ডনকারীর জন্য প্রিয় নবী (সা.) তিনবার দোয়া করেছেন। আর মহিলারা মাথার চুলের মাথা থেকে আঙুলের এক গিরা পরিমান ছোট করবেন। এখন আপনার উমরা হয়ে গেল। (আসান ফেকাহ, ২য় খন্ড, ১৮৭ পৃষ্ঠা)। আল্লহ তায়ালা প্রিয় নবীজি (সা.) এর ওসিলায় আমাদের সকলকে পবিত্র উমরাহ করার তাওফিক দিন ও কবুল করে নিন। আমিন!
অর্থনীতিতে হজের প্রভাব
ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ। হজ মৌসুম শুরু হওয়ার বেশ আগে থেকেই সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলো এ সংক্রান্ত নানা প্রস্তুতি নেয়। প্রতিবছর হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের প্রায় ১৭২টি দেশের ২৫ থেকে ৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পূন্যভূমি সৌদি আরব সফর করেন। হজ মৌসুম ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে বিশ্বের অগণিত মুসলমান প্রতিবছর ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান। বলা যেতে পারে, প্রায় সারা বছরই মক্কা নগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগমনে মুখরিত থাকে।
বিশেষ করে হজ মৌসুম শুরু হলে মক্কা নগরী ও এর আশপাশের হোটেল-মোটেলগুলোর ব্যবসা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এক নম্বর বৈশ্বিক একক অনুষ্ঠান বলতে হজকেই বুঝায়। আরব নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১২ সালে হজ ও উমরাহ মিলিয়ে সৌদি আরবের অন্তত এক হাজার ৬৫০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত আয় আরও অনেক বেশি।
আবার হজের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৌদি আরবের মোট দেশজ উপাদনের প্রায় ৬ শতাংশ জোগান দেয়। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে চারটি শহরহ মক্কা, মদিনা, জেদ্দা ও তায়েফের অর্থনীতি পরিচালিত হয় হজ ও উমরাহর ওপর। গালফ নিউজ-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হজকেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ অন্তত তিন হাজার কোটি ডলার। বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষা অনুসারে হজের সময় উপহারসামগ্রী ও স্মারক বেচাকেনার পরিমাণ অন্তত ১১০ কোটি ডলার। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে টুপি, তসবিহ, জায়নামাজ, স্কার্ফ, হিজাব ইত্যাদি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রগ্রেসিভ পলিসি ইনস্টিটিউটের ‘ট্রেড ফ্যাক্ট অব দ্য উইক’ প্রকাশনায় ২০০৯ সালেই বলা হয়েছিল, হজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক অনুষ্ঠান। এতে বলা হয়, চাইলে আরও লাখ লাখ মানুষ এসে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে পুণ্যার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয়।
হজকে অর্থনীতির মন্দারোধক বা রিসেশন প্রæফ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ২০৩৫ সালের মধ্যে হজের সময়ে জেদ্দায় বাদশাহ আবদুল আজিজ এয়ারপোর্টে বছরে যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে প্রায় আট কোটি মানুষ। এমনও বলা হয়েছে যে, হজ মৌসুমে এই বিমানবন্দরে যে পরিমাণ বিমান ওঠা-নামা করে, এমন দৃষ্টান্ত অন্য কোনো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করা যায় না। ওমরাহর কারণে প্রায় সারা বছরই যাত্রীতে সরগরম থাকে বাদশাহ আবদুল আজিজ এয়ারপোর্ট।
হজ ও উমরাহর জন্যই বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১১ সালে যেখানে দেশটিতে আড়াই লাখ হোটেল কক্ষ ছিল, তা ২০১৫ সাল নাগাদ তিন লাখ ৪৩ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের কল্যাণে এখন বিভিন্ন দেশের হাজিরা দেশ থেকে মুঠোফোনের সিম কার্ড নিয়ে যান। আবার অনেকে মক্কা-মদিনায় গিয়ে সিম কার্ড সংগ্রহ করেন। এখান থেকে ভালো ব্যবসা হয়। আবার লেনদেনের জন্য নগদ অর্থের বদলে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি বা কার্ডের ব্যবহারও বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকেও অনেক হাজি ভিসা বা মাস্টার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হজ প্রিপেইড কার্ড শুরু করেছে। হজের অর্থনীতি বড় হওয়ায় উপকৃত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট অন্য খাতগুলো। ইউএনডব্লিউটিও’র মহাব্যবস্থাপক তালিব রিফাই গালফ নিউজকে বলেছেন, বৈশ্বিক বিশেষ করে ইউরোপের চলমান অর্থনৈতিক সংকট হজের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন