ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

ঢাকা যেন নর্দমায় ফোটা পদ্মফুল

কামরুল হাসান দর্পণ | প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

রাজধানীর চারপাশে চারটি নদী রয়েছে। একটা সময় নদীগুলো যখন স্রোতস্বিনী ছিল। পানি টলমল করত, তখন ঢাকাকে জলে ভাসা পদ্ম বলেই মনে হতো। নদীঘেরা এমন রাজধানী বিশ্বের আর কোথাও নেই। আবার রাজধানীর ভেতর দিয়েই প্রায় ৪৮টি খাল এবং বিভিন্ন বিল-ঝিল জালের মতো বিস্তৃত ছিল। এসব খাল-বিল ঢাকাকে সজীব ও শুদ্ধ রাখত। এ চিত্র এখন অতীত, কেবলই অতীত। অনিন্দ্য সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের ঢাকাকে ধরে রাখা যায়নি। এটি এখন বসবাসের অযোগ্য একটি শহর। সবচেয়ে দূষিত নগরী। আধা ঘন্টার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। গত সপ্তাহে দুই দিনে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত-যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। এতেই ঢাকার অধিকাংশ সড়ক ডুবে যায়। কোথাও কোথাও নৌকায় করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে দেখা যায়। এসব চিত্র পুরনো। বর্ষা এলে ঢাকা ডুবন্ত নগরীতে পরিণত হবে-এটাই স্বাভাবিক চিত্র। এসব চিত্র পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, মানুষ দেখবে এবং অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে-খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। নগরবাসী ক্ষোভ ঝারতে ঝারতে এখন সয়ে গেছে। অতি শোকে পাথর হওয়ার মতো। শুধু বর্ষা নয়, বছরের সব ঋতুতেই ঢাকার সমস্যা চিরকালের। এর দেখাশোনা করার কোন কর্তৃপক্ষ আছে, তা মনে করার জো নেই। থাকলে বছরের পর বছর এ পরিস্থিতি চলত না। বছর দুয়েক আগে এই জুলাই মাসে এক দিনের ভারী বর্ষণে রাজধানীর সিংহভাগ সড়ক ডুবে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, কোথাও বুক সমান পানি জমে। চারদিকে থৈ থৈ পানি। এ পানি প্রাকৃতিক কিংবা স্বচ্ছ হলেও একটা কথা থাকত। নগরবাসী মনের আনন্দে কয়েক ঘন্টা সাঁতার কাটতে পারত। এ পানি এতটাই নোংরা এবং দূষিত যে ছোঁয়া লাগলেই গা চুলকানি শুরু হয়। পুরো শহর যেন একটি বিশাল নর্দমায় পরিণত হয়। আবার এর চারপাশে যে চারটি নদী রয়েছে সেগুলোও দূষিত হয়ে বেষ্টন করে আছে। এসব নর্দমার পানির মধ্যেই চকচকে শৈল্পিক কারুকাজে নির্মিত সুউচ্চ ভবনগুলোকে ভাসতে দেখা যায়। যেন গোবরে পদ্মফুল হয়ে ফুটে আছে। যাই হোক, সে সময় পরিস্থিতির ভয়বহতা দেখে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি, সামনের বছর থেকে আর এমন (পানিবদ্ধতা) দেখবেন না। এবারও একই মাসে গত সপ্তাহে গত বছরের মতো নয়, মাঝারি বৃষ্টিপাতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। মন্ত্রীর প্রতিজ্ঞা কোথায় হারিয়ে গেল, তা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

দুই.

গত সপ্তাহে মাত্র দুই দিনে সর্বসাকুল্যে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতেই আমরা যেন সাগরে পড়ে গেছি। শহরের রাজপথে যদি হাঁটু বা কোমর সমান পানি হয়, তবে তা সাগরে ভাসার মতোই। পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চলার সময় যে ঢেউ রাস্তার দুপাশের অফিস, দোকানপাট, বাড়িতে আছড়ে পড়ে, তা সমুদ্রের ঢেউয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আহারে! দুর্ভাগা নগরবাসী! এ যেন অন্তবিহীন পথ চলা! অথচ ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সুন্দর একটি নগরি হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছে ৭টি মন্ত্রণালয় এবং ৫৪টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। দুই দিনের বৃষ্টিতে বোঝা গেল, এসব মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড সর্বস্ব ছাড়া কিছুই নয়। বরং তারা কাইজ্যা-ফ্যাসাদ করতে ওস্তাদ। যখনই ঢাকা ডুবে যায়, তখনই তাদের মধ্যে শুরু হয়, তর্ক-বিতর্ক। সিটি করপোরেশন দায়ী করে ওয়াসাকে। ওয়াসা দায়ী করে সিটি করপোরেশনকে। এভাবে একে অপরের দোষ ধরে কাইজ্যা করতে করতে সময় পার করে দেয়। এটা তাদের একটা অপকৌশলও বলা যায়। কারণ তাদের পারস্পরিক দোষারোপের মধ্যে কোনো রকমে বর্ষাকালটি পার করে দেয়ার অপমানসিকতা রয়েছে। শীতকাল এলেই এ দায় থেকে তারা মুক্ত হয়ে যায়। আসলে বাংলাদেশে যদি সারা বছরই শুষ্ক মৌসুম থাকতো, তাহলে ঢাকার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর খুশির অন্ত থাকত না। আবার বৃষ্টিপাত না হলে যে উন্নয়নের কাজ থেমে যাবে! কারণ বৃষ্টি না হলে যে খোঁড়াখুঁড়ি করা যায় না। কাজেই বৃষ্টি হতেই হবে এবং খোঁড়াখুঁড়ি চলাতে হবে। এতে নগরবাসী কিছু দিন বকাঝকা করবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে। এ যেন ‘বক আর ঝক কানে দিয়েছি তুলো, মারো আর ধরো, পিঠে বেঁধেছি কুলো’র মতো। বলা হচ্ছে, নগরীর উন্নয়ন কাজে এক সংস্থার সাথে আরেক সংস্থার সমন্বয় নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এ সমন্বয় হবে কবে? নাকি ইচ্ছে করেই সমন্বয় করা হচ্ছে না? তা নাহলে, কেন ওয়াসা রাস্তা খুঁড়ে কোনো রকমে মাটি ভরাট করে গেলে, একই জায়গায় আবার খোঁড়া শুরু করে সিটি করপোরেশন, সিটি করপোরেশনের খোঁড়া শেষ হলে শুরু করে তিতাস ও অন্যান্য সংস্থা? তাদের এই সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি দেখে যে কারো মনে হবে, এ যেন রাস্তা খুঁড়ে টাকা বের করে আনছে। প্রতিটি রাস্তা যেন একেকটি টাকার খনি। যত খোঁড়াখুঁড়ি, তত টাকার উৎপাদন (!)। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। চক্রবৃদ্ধি হারে টাকা বেড়ে যায়। এতে নগরবাসী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ল কি পড়ল না, তাতে কিছু যায় আসে না। কিংবা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া খোঁড়াখুঁড়ির গর্তে পড়ে মানুষ হাত-পা, কোমর ভেঙ্গে আহত বা নিহত হলেও তাতে কিছু যায় আসে না। ভাবখানা এমন, উন্নয়ন করতে হলে এরকম সমস্যায় পড়তেই হবে। এটা মেনে নিতে হবে। নগর উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এমন অপরিনামদর্শী কর্মকান্ড চলছে বছরের পর বছর ধরে। এ থেকে নগরবাসী কবে মুক্তি পাবে, তা কেউই বলতে পারবে না। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীর পানিবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসা কার্যকর নিষ্কাশন প্রকল্প হাতে নেয়নি। পানিবদ্ধতায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও ড্রেনেজ সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দেয়া হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলীসহ দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির তেমন কোনো কাজ নেই। তাদের নাকি খোশগল্প করে দিন কাটে। ওয়াসার ড্রেনেজ শাখাও স্বীকার করে বলেছে, পানিবদ্ধতা এত বেড়ে যাওয়ার পরও তাদের তেমন কোনো কাজ নেই। অনেকটা বসে বসে তারা বেতন নিচ্ছে। কেন তাদের কাজ নেই তা নাকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। ওয়াসার ড্রেনেজ শাখার চিত্র যদি এই হয়, তবে রাজধানীর পানিবদ্ধতা কমবে কেন! সব পানিতে ভেসে যাক, তাতে ওয়াসার কি! একটি রাষ্ট্রে এমন প্রতিষ্ঠান থাকলে সেখানে রাজধানীবাসী কেন, দেশের মানুষের ভাল থাকার কোনো কারণ থাকতে পারে না। এ নিয়ে রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তাদের মাথাব্যথা আছে বলেও প্রতীয়মান হয় না।

তিন.

বৃষ্টিতে ঢাকা শহর ডুবে যাওয়ার কারণে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, তা অভাবনীয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যেভাবে তীব্র কটাক্ষপাত করা হয়, তাতে যে কারো লজ্জা পাওয়ার কথা। বিশেষ করে যেসব অফিস-আদালতের সামনে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি সম্বলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার ঝুলানো আছে, সেগুলোর নিচে কোমর সমান পানির ছবি তুলে ফেসবুক সয়লাব হয়ে যাওয়ায়, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এ কী উন্নয়নের নমুনা? মানুষের এসব প্রশ্নের জবাব সরকার কীভাবে দেবে, তা সরকারই ভাল বলতে পারবে। তবে এ কথা মানতে হবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম যেহেতু ঢাকাকে কেন্দ্র করেই হয়, তাই এর উন্নয়নকেই মানুষ উন্নয়ন হিসেবে ধরে নেয়। এক পানিবদ্ধতায় ঢাকা শহর ডুবে যাওয়ায় সরকারের উন্নয়নকেও মানুষ ডুবে যাওয়ার সাথে তুলনা করছে। এ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তবে, যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন, তা মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারছে না। সাধারণত রাজধানীর উন্নয়ন চিত্রের ওপরই দেশের উন্নয়নের চিত্রটি প্রতিফলিত হয়। এটা অনেকটা রাজনীতির মাঠ দখলের মতো। রাজনীতিতে যার দখলে ঢাকা থাকে, তারই জয় হয়। বিগত এক দশক ধরে দেশের মানুষ দেখেছে, রাজধানীতে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার কারণে কীভাবে বিরোধী দল ব্যর্থ হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ঢাকার উন্নয়নের সাথে সরকারের ভাবমর্যাদা এবং সাফল্য জড়িয়ে থাকে। তবে তা না করে সরকার যতই উন্নয়নের মহাসড়কের কথা বলুক না কেন, তা যদি পানিতে ডুবে থাকে তাতে কোনো লাভ নেই। সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ উন্নতি করছে, এর চিত্র রাজধানীর মাধ্যমেই তুলে ধরতে হবে। বলা বাহুল্য, যে দেশের রাজধানীর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত এবং অপর্যাপ্ত, সে দেশ উন্নতি করছে, এটা কোনোভাবেই মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়। সরকার বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিক দশটি প্রকল্পের কাজ ধরেছে। এসব প্রকল্পের সাথে রাজধানীর সম্পর্ক অনিবার্যভাবেই রয়েছে। রাজধানীই যদি অচল হয়ে থাকে, তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? অথচ সরকারের মেগা প্রজেক্টের পাশাপাশি রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে একটি গিঘা প্রজেক্ট হাতে নেয়া উচিত ছিল। মেট্রোরেল, পাতাল রেল হলেই যে ঢাকা বাসযোগ্য হয়ে যাবে, এমন মনে করার কারণ নেই। এসব প্রকল্প কিছু সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য নয়। এদিকটি সরকার খেয়াল করছে বলে মনে হয় না। আবার যানজট নিরসনের জন্য যে ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণ করা হয়েছে দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এখন যানজট ফ্লাইওভার পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। রাস্তার যানজট উপরে উঠে গেছে। কাজেই রাজধানীকে সুশৃঙ্খল করতে হলে সববিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প হাতে নিতে হবে। এর মধ্যে পানিবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রজেক্ট নিতেই হবে। তা নাহলে, মেট্রোরেল থেকে নেমে মানুষকে পানিতে ডুবতে হবে। রাজধানীর হারিয়ে যাওয়া খালের মধ্যে অধিকাংশ খাল পুনরুদ্ধারে কিংবা বিদ্যমান খালগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাহমান করা যায়, তবে পানিবদ্ধতা নিরসন অনেকটা সহজ হয়ে উঠতে পারে। রাজধানীর বড় সমস্যা হচ্ছে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন এবং ধারণ করার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। যতক্ষণ না এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, ততক্ষণ এ সমস্যা থেকেই যাবে। পানিবদ্ধতা নিরসনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

চার.

ঢাকার পানিবদ্ধতা নিয়ে নগরবিদরা বছরের পর বছর ধরেই বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এসব পরামর্শ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই শুনেছে। তবে তা যে তাদের শোনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে তাতে সন্দেহ নেই। কারণ ঢাকাকে বসবাস উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সমন্বয়ের বিষয়টি সুদূর পরাহত হয়ে রয়েছে। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি বোঝা যাবে। যেমন পানি নিঃসরণের জন্য সিটি করপোরেশন রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করেছে। ওয়াসা করেছে রাস্তার নিচ দিয়ে। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করে। ওয়াসা বলছে, সিটি করপোরেশন তার ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ সিস্টেমের ক্ষতি করছে। কোনো কোনো এলাকায় বন্ধ করে দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন তা অস্বীকার করে আসছে। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠানের ড্রেনেজ সিস্টেমের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এ পরিস্থিতিতে পানিবদ্ধতা নিরসনের কোনো কারণ থাকতে পারে না। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বারবার তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যয় উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ রাজধানীর অন্যতম প্রধান দুই সমস্যা যানজট ও পানিবদ্ধতা নিরসনের কোনো প্রকল্পের কথা শোনা যায় না। রাজধানী যে দিনের পর দিন এক পরিত্যক্ত নগরীর দিকে ধাবিত হচ্ছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে না। সরকার এটা ভাবছে না, এক রাজধানীর বেহাল দশাই তার উন্নয়নের চিত্রে ক্ষত সৃষ্টি করছে। বিষয়টি সরকার কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে, তা আমরা জানি না। অথচ উন্নতির অন্যতম সূচকই হচ্ছে, রাজধানীকে পরিপাটি করে সাজানো এবং বাসযোগ্য করে তোলা। একজন বিদেশি রাষ্ট্রের সরকার প্রধান যদি বৃষ্টির মধ্যে সফরে আসেন এবং তাকে পানিবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে হয়, তবে আমাদের উন্নয়ন সম্পর্কে তার কী ধারণা হবে? সরকার যে উন্নয়নের কথা বলছে তাতে কি তার সন্দেহ জাগবে না? অর্থাৎ এক পানিবদ্ধতাই সরকারের সব উন্নয়নকে ম্লান করে দিতে যথেষ্ট। এ বিষয়টি সরকারের গভীরভাবে ভাবা উচিত। সরকার যদি পানিবদ্ধতা নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ নেয় তবে ঢাকাকে পানিবদ্ধতামুক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। সরকার চাইলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা দেখেছি, সরকারের দৃঢ় সিদ্ধান্তের ফলে রাস্তা দখল করে গড়ে উঠা বিজয় সরণীর একটি বহুতল ভবন ভেঙ্গে দিতে। হাতিরঝিলের বহু অংশ দখলমুক্ত করে উদ্ধার করতে। এ কাজ সম্ভব হয়েছে, সরকারের দৃঢ় সিদ্ধান্তের ফলে। এ কথা নিশ্চত করেই বলা যায়, হারিয়ে যাওয়া খাল, পুকুর, জলাশয় উদ্ধার এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তুলতে পারলে পানিবদ্ধতা যেমন কমে যাবে, তেমনি শহরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। নৌ যোগাযোগের ফলে যানজটও অনেকাংশে কমে যাবে। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ ধরনের প্রকল্পে হাত দেয়া উচিত। রাজধানীকে আরও অপরিকল্পিত ও জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে না দিয়ে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। পারস্পরিক দোষারোপের অপসংস্কৃতি বাদ দিয়ে সিটি করপোরেশনসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় করা জরুরী। উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে হলে সরকারকে অবশ্যই ঢাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা নাহলে, সকল উন্নয়নই সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে থাকবে।

darpan.journalist@gmail.com

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন