ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

যানবাহনের বেপোরোয়া গতির কারণে দেশের ইকোনমিক লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বাড়ছে দুর্ঘটনা। মেঘনা ও গোমতী নতুন দুই সেতু চালুর পর মহাসড়কে গতির সঞ্চার হলেও যানবাহনের বেপোরোয়া গতি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ।

প্রতিমাসেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন ৮/১০জন। আহত হচ্ছে শতাধিক যাত্রী। সড়কে প্রাণহারা যাত্রীদের পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হচ্ছে। পঙ্গুত্ববরণ করে আহতরা পার করছে দুর্বিষহ জীবন। গত দেড় মাসে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যাত্রীবাহী পরিবহনের ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬জনের প্রাণহানী ঘটেছে। আর আহত হয়েছে দেড় শতাধিক। স্পিড ডিটেক্টর মেশিনে মামলার হার বাড়লেও গতিবেগের নিয়ন্ত্রন আসছেনা যানবাহনগুলোর। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটছে। এমনটিই মনে করছেন হাইওয়ে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা।

প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। গত ২৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ছোটবড় ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৬জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছে দেড় শতাধিক লোক। যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, পেছন থেকে ধাক্কা দেয়া, বেপরোয়া গতির নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়ে খাদে পড়ে যাওয়া এবং উল্টোপথে গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘিরে মূলত মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। এরমধ্যে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে ২৭জুন। ওইদিন দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ টামটা এলাকায় রয়েল পরিবহনের বেপোরোয়া গতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে একটি জলাশয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ইবনে সিনা মেডিকেলের ছাত্রী কুমিল্লা শহরের মুরাদপুরের আনিকা তাহসিন এবং বুড়িচংয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রৌশনারা বেগম মারা যান। একইদিনে চান্দিনার বড় গোবিন্দপুরে হাজীগঞ্জগামী তিশা পরিবহনের একটি বাস বেপোরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। এমনি ভাবে গত দেড় মাসে ১৫টি দুর্ঘটনার দশটিই ঘটেছে বেপোরোয়া গতির কারণে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ অপু বলেন, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে চালানো এবং উল্টোপথে চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। চালকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। গতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। স্পিড ডিটেক্টর গানে হাইওয়ে পুলিশের টিম সক্রিয় রয়েছে। গত দেড় মাসে স্পিড ডিটেক্টর মেশিনে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি মামলা হয়েছে। এরপরও গাড়ির চালকরা গতি নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক হচ্ছেন না। গতি নিয়ন্ত্রণে চালকের আন্তরিকতায়ই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে পারে।

এদিকে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দাউদকান্দি থেকে ফেনীর মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- দাউদকান্দি উপজেলার কুটম্বপুর, হাসানপুর, শহীদনগর, গাজীপুর, রায়পুর, পুটিয়া, দৌলতকান্দি, বারপাড়া, জিংলাতলী, নাওতলা, আমিরাবাদ, রায়পুর। চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা, নুরীতলা, ছয়ঘড়িয়া, দোতলা, কাঠেরপুল, গোবিন্দপুর, কোরেরপাড়, গোবিন্দপুর। বুড়িচং উপজেলার নিমসার, কাবিলা, কোরপাই, কালাকচুয়া, সদর উপজেলার কালাকচুয়া, জাগুরঝুলি। সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী, মাটিয়ারা, কমলাপুর, সোয়াগাজীর লালবাগ। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাড়িসর্দার বাজার, আমজাদের বাজার, দত্তসার, আমানগন্ডা, নানকড়া ও মোহাম্মদ আলীর বাজার। এসব স্থানেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন