ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

বিনোদন প্রতিদিন

ভালো অভিনয় বা বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রের জন্য লুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ-জয়া আহসান

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা জয়া আহসান জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপন এবং প্রচার ও প্রসারে কাজ করছেন। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে এবং তার লাইফ স্টাইল ও সৌন্দর্য্য নিয়ে কথা বলেন।
আপনি ইন্টারন্যাশনাল স্টারের খ্যাতি পেয়েছেন, এটা কিভাবে দেখেন?
আমি যেখানেই যাই, সবাই কিন্তু আমাকে বাংলাদেশের জয়া বলেই জানে। যেখানেই যাই, বাংলাদেশের মেয়ে হিসেবেই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।
আপনি অনেক ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট অ্যাটেন্ড করেন। সবাইা আপনাকে ফলো করে। আপনার লাইফস্টাইল, মেক-আপ, হেয়ারস্টাইল...। নিজেকে সবসময় মেইনটেইন করেন কিভাবে?
ইন্টারন্যাশনাল বা ন্যাশনাল যে ইভেন্টস-এর কথাই বলেন, সেখানে আমি মিনিমাম মেক-আপে বিশ্বাস করি। নিজের ভেতরের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যটা আমার কাছে বেশি ই¤পর্ট্যান্ট। তবে হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাইরের সৌন্দর্যটাও একটা স¤পদের মত। ফ্ললেস স্কিন অথবা সুন্দর ঝরঝরে চুল একটা অর্নামেন্ট-এর চেয়ে কোনো অংশে কম না। যখন ইন্টারন্যাশনাল কোনো জায়গায় যাই তখন আসলে আমাদের জন্য হেয়ার অ্যান্ড মেক-আপ সবকিছুর নিয়ম করাই থাকে। ভারতে আমার পারসোনাল হেয়ার স্টাইলিস্ট আছেন, উনার নাম হেমা মুনসি। উনি খুবই দক্ষ একজন হেয়ার স্টাইলিস্ট, বম্বের অনেক আর্টিস্টের কাজও উনি করে থাকেন। আমি মেক-আপ আসলে খুব বেশি করি না।
আপনার সব চরিত্রেই তো দর্শক আপনাকে ভিন্নরূপে দেখে। চরিত্রের প্রয়োজনেই কি নিজের লুক ঠিক করেন?
ভালো অভিনয় বা বিশ্বাসযোগ্য একটা চরিত্রের জন্য লুক খুবই ই¤পর্ট্যান্ট। একটা চরিত্র আসলে প্রায় ৪০% লুক দিয়ে চলে, লুকটা যদি ঠিক হয় এমনকি কাস্টিংটা যদি প্রপার হয় তখন আসলে চরিত্রটা ৪০% এগিয়েই থাকে। বাকি ৬০% নিজের অভিনয়দক্ষতা এবং ভাগ্য।
ফিটনেস মেইনটেইনের জন্য আপনি কি কি করেন?
আমি আসলে জিম পারসন না। তবে ফিজিক্যাল এক্টিভিটিজ বেশি করা হয়। যেমন ¯েপার্টস আমার খুব পছন্দের। সুযোগ পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলি বা বাইরে থেকে দৌড়ে আসি। এমনিতে জিমে যাওয়ার চেষ্টা করি, ওয়ার্কআউট করি, হালকা এরোবিকস করা হয়। কিন্তু সেটা খুব একটা নিয়ম করে করা হয় না। আমি এ ব্যাপারে খুবই ফ্লেক্সিবল। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বলতে গেলে আমি সালাদ খুব পছন্দ করি। মাছ আমার খুব পছন্দ, এমনকি রেড মিটও খাই। সকালবেলা উঠে একটা জিনিস আমি প্রতিদিন খাই। সেটা হল মধু দিয়ে হালকা গরম পানি সাথে লেবু। কাগজি লেবু হলে খুব ভালো, আর সেটা যদি হয় আমার বাসার বাগানের তাহলে আরও ভালো হয়। আমার বাড়িতে ছাদবাগান আছে, সেখান থেকে ফ্রেশ লেবু তুলে সেটা দিই। কখনো সুযোগ হলে গরম পানিতে মিন্ট পাতা বা তুলসি পাতা ফেলে সেটা খেয়ে নিই। আমরা আসলে সারাক্ষণ নানা রকম খারাপ জিনিস নিতেই থাকি আমাদের লাইফস্টাইল থেকে, তার ভেতরে যতটুকু আসলে ঠিক রাখা যায়।
আপনার কাছে সৌন্দর্য্য মানে কি?
আমার কাছে ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য্য অনেক বেশি ই¤পর্ট্যান্ট। আমার মনে হয় একটা মানুষ ভেতর থেকে আলোকিত হলে তাঁর বাইরেও সেই বিষয়টা ধরা পড়ে। আমার কাছে বিউটি উইদআউট ব্রেইন- এই জিনিসটার অস্তিত্ব নেই। অনেকে বলে বিউটি উইদআউট ব্রেইন কিন্তু আমি বলি সেটা আবার হয় নাকি? ভেতর থেকে মানুষ সুন্দর হলে তাঁর কথাবার্তা, চলাফেরা, হাসি, তাকানো সবকিছুতে সেই সৌন্দর্যের ছাপ পড়ে।
আপনি নিজের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেন?
সত্যি বলতে, সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই চুলটাকে। প্রকৃতিগতভাবে আমার চুল ভালো। আমার কাছে মনে হয় চুল খুবই ই¤পর্ট্যান্ট।
আপনার ব্যস্ত সিডিউলে কিভাবে চুলের যত্ম নেন?
প্রচুর তেল দিই চুলে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি অনেকে চুলে তেল দিতে ডিসকমফোর্ট বোধ করে কিন্তু আমি তেল দিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ থাকি। আমার মনে আছে ছোটবেলায় নানু আমার এ অভ্যাসটা করেছিলেন। আমার মাথায় অনেক চুল ছিলো বলে ম্যানেজ করা যেত না। নানু নিজের বাড়িতে নারকেল তেল বানাতেন। নানুর বাড়িতে অনেক নারকেল গাছ ছিলো, সেখান থেকে নানু নিজে নারকেল জোগাড় করে সেগুলো দিয়ে তেল বানাতেন এবং সেই তেল আমাদের চুলে দেয়া হত। আমার নানুর ছোট্ট সুন্দর একটা স্টিলের তেল দেয়ার বাটি আছে, আমি এখনও সেটাতে করেই তেল দিই। এত বড় হয়ে গেছি, ওটা আমার জন্মেরও আগের। ওটাতে করে আমার নানু তেল দিতেন। আমি এখনও ওই বাটিটাতে করেই তেল দিই কারণ ওটা আমার ভীষণ প্রিয়। আমি অনেককিছু জমিয়ে রাখতে পছন্দ করি, আমার জমানো সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটা হলো আমার নানুর মাথায় তেল দেয়ার বাটি। আমি হালকা গরম করে চুলে তেল দিই। হালকা তাপে চুলোর উপরে তেলের বাটিটা বসাই এবং চুলে দিই। আমি তেল দিয়ে এতোটাই স্বচ্ছন্দ যে শুটিংও চুলে তেল দিয়ে করে ফেলি, কেউ টেরও পায় না। আমাকে তেল দিলে অনেক পরিপাটি লাগে, সুন্দর লাগে। আমার মা এটা সবসময় বলেন যে চুলে তেল দিলে আমাকে বেশি ভালো লাগে দেখতে। আমার চুলের যতেœর প্রথম বিষয় হলো তেল দেয়া। একটু সুযোগ পেলেই চুলে তেল দিই। একদিন শ্যা¤পু করলাম অথবা শূটিং থেকে ফিরলাম, মাথাটা ভারি লাগছে, আমি তেল দিয়ে ফেলি। আসলে তেলের সাথে আমার মেন্টাল কোনো একটা কানেকশনও আছে, আমি চুলে তেল দিতে ভীষণ পছন্দ করি। নারকেল তেলের ঘ্রাণটা আমার ভালো লাগে। এমনকি আমি চুল না শুধু, স্কিন কেয়ারেও নারকেল তেল ব্যবহার করি। আমার পারসোনাল মেক-আপ করতেন ফারুক ভাই। খুব বড় মানের মেক-আপ আর্টিস্ট, মারা গেছেন। উনি আমাকে বলেছিলেন নারকেল তেল হালকা গরম করে ফেইসে লাগিয়ে ঘুমাতে। আমি তেলটা হালকা গরম করে মুখে লাগিয়ে ঘুমাই। এমনকি হাতে পায়ের জন্যও নারকেল তেল খুব ভালো। এখন আপনারা ইন্টারনেট সার্চ করেও দেখতে পারবেন তেল স্কিনের জন্যও খুব
ভালো।
কোনো বিদেশী ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন কি?
বিদেশী কেন ব্যবহার করবো? বাংলাদেশী নারকেল তেল ব্যবহার করি। আর অবশ্যই জুঁই নারকেল তেল ব্যবহার করি।
শূটিং-এ লাইট, হেয়ার ¯েপ্র, হেভি হিট তো চুলে অনেক এফেক্ট ফেলে। শুধু তেল দিয়েই এই অত্যাচার সামলানো যায়?
আমাদের চুলের উপর আসলে একটু বেশি অত্যাচার হয়। এ কারণে সুযোগ পেলেই অয়েল মাসাজ নিই, বাড়িতে মাকে বলি বা অন্য কেউ করে দেয়। আর সেটা অবশ্যই জুঁই দিয়ে করা হয়। এমনিতে ¯পা কখনো কখনো করানো হয় কিন্তু আমার মনে হয় তেল সবচেয়ে বেশি উপকারী। শ্যা¤পু করার আগেও তেলটা অবশ্যই দিই, কখনো ভুলি না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন