ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর

কুড়িগ্রামে সাড়ে ৯ লাখ বানভাসী মানুষের চরম দুর্ভোগ, ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত রোগ

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০১৯, ৭:০৮ পিএম

কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতি হয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার ২০ সেঃ মিঃ ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১১সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছ্।ে তবে দুধকুমার নদীর পানি ১৭ সেঃ মিঃ কমেছে। সাড়ে ৯লাখ বানভাসী মানুষ চরম দুর্ভোগে। নেই বিশুদ্ধ পানি। অপ্রতুল ত্রাণ। বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট, বাঁধ, ঘরবাড়ি। নেই শৌচকর্ম সম্পন্ন করার মত নিরাপদ ব্যবস্থা। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ বালাই। সব মিলিলে এ জনপদের কয়েক লাখ মানুষ দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন। ধরলা নদীতে নুতন করে পানি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সেই সাথে চলছে অবিরাম বৃষ্টি।
বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো বৃষ্টির মাঝে চরম কষ্টে পড়েছে।বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, কাশি সর্দিসহ নানা পানি বাহিত রোগ। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গতদের।
এ অবস্থায় হাতে কাজ না থাকায় এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন।
জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বন্যার ফলে ৩টি পৌরসভাসহ ৬০টি ইউনিয়নে ৮৯৪টি গ্রামের ২লাখ ৩৮হাজার ৬৭২টি পরিবার পানিবন্দি। পরিবার প্রতি ৪জন হিসাবে বানভাসি মানুষের সংখ্যা দাড়ায় ৯লাখ ৫৪হাজার ৬৮৮জন। প্রায় ১০দিন ধরে এ মানুষ গুলো বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর। বন্যায় এক হাজার ২৪৫কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কি.মি বাঁধ ও ৪১টি ব্রীজ/কার্লভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকুপ ক্ষতিগস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। প্রায় ২লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি। বন্যার কারনে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ মিলে এক হাজার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার আবেদ আলী জানান, আমি দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাই। বন্যার কারে আজ ১৩ দিন ধরে চারিদিকে পানি। কোথাও কাজ নাই। ঘরে খাবার নাই। ত্রাণের ১০ কেজি চালও শেষ হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি।
অন্যদিকে চিলমারী উপজেলা শহরে বাঁধ ভেঙ্গে ঢুকে পড়া বন্যা পানি নেমে না যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার মানুষজন। চিলমারী থানাসহ থানার গেটের বাইরের সড়কে কোমর ও হাটু সমান পানি থাকায় থাকায় উপজেলা শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কে চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে হাটু সমান পানি থাকায় ব্যাহত হয়ে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমও। পাকা ঘরবাড়িতে পানি জমে থাকায় গত ৫ দিন ধরে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন সেখানকার অধিাবাসীরা।
জেলা প্রশাসন থেকে ৯ উপজেলার ৯ লক্ষাধিক বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত মাত্র ৮শ মেট্রিক টন চাল, ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন