ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

কোরআন মজিদ ও সহিহ হাদিসের আলোকে হজ ও উমরার গুরুত্ব ও ফজিলত-২

মাওলানা মুহাম্মদ আনসারুল্লাহ হাসান | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

হজ করার শক্তি-সামর্থ্য ও অর্থবিত্ত থাকার পরও যে ব্যক্তি হজ করে না তার সম্পর্কে হাদিস শরীফে কঠোর হুমকি প্রদান করা হয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, যে ব্যক্তি হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ করে না, সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি খ্রিষ্টান হয়ে, তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৭৮।

তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছে হয় কিছু লোককে বিভিন্ন শহরাঞ্চল ও লোকালয়ে পাঠিয়ে দিই, তারা সেখানে দেখবে, কারা সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও হজ করছে না। তারা তাদের ওপর কর আরোপ করবে। তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়। -প্রাগুক্ত।

যারা হজ-উমরা না করে সন্ন্যাসী হওয়ার চেষ্টা করে ইসলাম তা কখনো অনুমোদন করে না। ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইসলামে বৈরাগ্য নেই। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হজের ক্ষেত্রে কোনো বৈরাগ্য নেই। - মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৩১১৩, ৩১১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৭২৯; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ১৬৮৬; তবারানী, হাদিস : ১১৫৯৫; শরহু মুশকিলুল আছার, হাদিস : ১২৮২।

ইকরামা রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সারুরা কী? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হজ-উমরাহ কিছুই করে না অথবা যে ব্যক্তি কুরবানি করে না। - শরহু মুশকিলুল আছার ২/২১৫-১৬। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রা. বলেন, জাহেলি যুগে যখন কোনো ব্যক্তি হজ করত না তখন তারা বলত, সে সারুরা (বৈরাগী)। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামে বৈরাগ্য নেই। - প্রাগুক্ত।

যারা হজের সফরের সৌভাগ্য লাভ করেন তারা যেন আল্লাহর মেহমান। তাই প্রত্যেকের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইশক-মুহাববতের অনুভূতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করা। বায়তুল্লাহ ও আল্লাহর অন্যান্য শেয়ার ও নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। দ্ব›দ্ব-কলহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে সর্বাত্মকভাবে দূরে থাকা। কোরআন-হাদিসে এ সম্পর্কে বিশেষ হুকুম নাযিল হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে (ইহরাম বেঁধে) নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, সে হজের সময় কোনো অশ্লীল কথা বলবে না, কোনো গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না। তোমরা যা কিছু সৎকর্ম করবে আল্লাহ তা জানেন।’ সূরা বাকারা (২) : ১৯৭।

উক্ত আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এক. ইহরাম অবস্থায় অশ্লীল কথা বলা। এমনকি স্ত্রীর সাথে যৌন উত্তেজনামূলক কথা বলাও নিষিদ্ধ। দুই. কোনো ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া। ইহরাম অবস্থার বিশেষ গুনাহ যেমন শরীরের কোনো স্থানের চুল, পশম বা নখ কাটা, আতর বা সুগন্ধি লাগানো, পশু শিকার করা, শরীরে উকুন মারা থেকে যেরূপ বিরত থাকবে তেমনি সাধারণ অবস্থার গুনাহ যেমন অন্যকে কষ্ট দেয়া, কু-দৃষ্টি ও গিবত শেকায়েত থেকেও বিরত থাকবে। তিন. ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া।

এ ধরনের পাপ-পঙ্কিলতা ও ঝগড়া-বিবাদমুক্ত হজকেই হাদিস শরীফে হজে মাবরুর বা মকবুল হজ বলা হয়েছে এবং এর বিশেষ বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা উল্লেখিত হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Tufayel Ahmed ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৩ এএম says : 0
মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়।(১) যে হজ করল ও শরিয়ত অনুমতি দেয় না এমন কাজ থেকে বিরত রইল, যৌন-স্পর্শ রয়েছে এমন কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকল, সে তার মাতৃ-গর্ভ হতে ভূমিষ্ট ‘হওয়ার দিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে এল।
Total Reply(0)
মোঃ জামান হোসেন জন ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৪ এএম says : 0
‘আরাফার দিন এতো সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য কোনো দিন দেন না। এদিন আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী হন ও আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজিদেরকে নিয়ে তিনি ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন, ও বলেন ‘ওরা কী চায়?
Total Reply(0)
শিব্বির আহমদ হাবিবী ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৪ এএম says : 0
সর্বোত্তম আমল কী এ ব্যাপারে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে বললেন, ‘অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমান, ও তারপর মাবরুর হজ যা সকল আমল থেকে শ্রেষ্ঠ। সূর্য উদয় ও অস্তের মধ্যে যে পার্থক্য ঠিক তারই মত।
Total Reply(0)
সাবের আলী ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৫ এএম says : 0
হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ্ব ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ্ব করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়ারাসূলাল্লাহ! প্রতি বছর কি হজ্ব করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করল। অতপররাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা (প্রতি বছর হজ্ব করা) ফরয হয়ে যেতো, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৭ (৪১২); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১০৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস
Total Reply(0)
তাইজুল ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৫ এএম says : 0
ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে: ‘তোমরা পর পর হজ ও উমরা আদায় করো। কেননা তা দারিদ্র্য ও পাপকে সরিয়ে দেয় যেমন সরিয়ে দেয় কামারের হাপর লোহা-স্বর্ণ-রুপার ময়লাকে। আর হজ্জে মাবরুরের ছোয়াব তো জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়। (১০)
Total Reply(0)
বাবুল ২৪ জুলাই, ২০১৯, ২:১৬ এএম says : 0
যে ব্যক্তি যথাযথভাবে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে তার একটি গোলাম আযাদকরার সমান সওয়াব হয়। তাওয়াফের প্রতি কদমে আল্লাহ তার একটি করে গুনাহ মাফ করেন, একটি করে নেকী লেখেন এবংদশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৪৪৬২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ৯৫৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস: ২৭৫৩; মুস
Total Reply(0)
sohrab hosen ২৪ জুলাই, ২০১৯, ৮:৫৩ এএম says : 0
thanks
Total Reply(0)
Muhammad Zahir Rayhan ২৪ জুলাই, ২০১৯, ১১:১৮ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদেরকে হজ্ব করার তাওফিক দান করুন আমিন।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন