ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

সখিপুরে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি

বনবিভাগের জায়গায় ঘর উত্তোলনে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন

সখিপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৫৪ পিএম

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় এক লাখ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৩হাজার একর জমি বনবিভাগের। উপজেলার হতেয়া রেঞ্জের হতেয়া সদর, বাজাইল,কালমেঘা, কড়িচালা,কালিদাস, বহেড়াতলী রেঞ্জের বহেড়াতৈল সদর, কাকড়াজান(মরিচা), এমএম চালা(আন্দি), ডিবি গজারিয়া(কৈয়ামধু), কচুয়া, বাঁশতৈল রেঞ্জের নলুয়া, পাথারঘাটা, বংশীনগর বিটের কিছু অংশ এবং ধলাপাড়া রেঞ্জের ধলাপাড়া সদর,সাগরদিঘী বিটের কিছু অংশ নিয়ে সখিপুর উপজেলায় বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল গঠিত। রাজনৈতিক প্রভাব,জনসংখ্যার আধিক্য রেকর্ড জমি স্বল্পতার কারনে প্রতিনিয়ত বনবিভাগের জমি জবর-দখল হচ্ছে। আর জবর-দখলে সহযোগিতা করছে বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন।

বনবিভাগের জমিতে বিল্ডিং নির্মানের জন্য দুই লাখ টাকা,টিনের ঘর পোল্ট্রি ফার্ম নির্মানের জন্য ৫০হাজার থেকে এক লাখ টাকা বিট কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়। আ সামাজিক বনায়নে অংশীদার নিয়োগ করার জন্য ৫০/৬০হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে। এটা ওপেন সিক্রেট বিষয়। এসব অনিয়ম-দূর্নীতির কথা বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও অজ্ঞাত কারনে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় না।

গত কয়েকদিনে কয়েকটি বিটে এলাকায় বনবিভাগের জমিতে ঘর উত্তোলনের বিষয়ে টাঙ্গাইল বনবিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক(এসিএফ) মো.জামাল হোসেন তালুকদারকে বার বার জানানোর পরও তিনি কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তা মোটা অংকের ঘুষ নিয়েই ঘর উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। বনবিভাগের জমি রক্ষার্থে বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ঐ দুর্নীতিবাজ রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাকেই বনের জমি রক্ষা করার জন্য পাঠিয়ে দেয়। ফলে আরো দ্রুততার সাথে বনবিভাগের জমিতে ঘর উত্তোলনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এভাবে গত একমাসে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বনবিভাগের জমি বেদখলে সহযোগিতা করেছে সংশ্লিষ্ট অসাধু রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাগন।

নিম্মে বিভিন্ন বিট এলাকায় এক মাসে ঘর উত্তোলনকারীদের নাম দেওয়া হলো-হতেয়া রেঞ্জের হতেয়া সদর বিটের গড়গোবিন্দপুর মৌজায় ১০৭৩ দাগে মৃত সিরাজ ফকিরের ছেলে শাকিল আনোয়ার ২লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বনবিভাগের জায়গায় বিল্ডিং নির্মান করছে,ডিবি গজারিয়া(কৈয়ামধু)বিটে বেতুয়া নয়াপাড়া এলাকায় সোহরাব এর নিকট থেকে ৫০হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে টিনের ঘর উত্তোলন করার সুযোগ করে দিয়েছে,কালিদাস বিটে ইছাদিঘী পশ্চিম পাড়া এলাকায় মৃত আবুল হোসেন বঙ্গুর ছেলে শামসুল হক ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে বনবিভাগের জায়গায় টিনের ঘর উত্তোলন করেছে,নলুয়া বিটে নলুয়া এলাকায় রিপন মন্ডল ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে বনবিভাগের জায়গায় টিনের ঘর উত্তোলন করেছে,হতেয়া রেঞ্জের হতেয়া সদর বিটে চতলবাইদ এলাকায় জানু ৮০হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বনবিভাগের জায়গায় টিনের ঘর নির্মান করার সুযোগ দিয়েছে বনবিভাগের লোকজন। বনবিভাগের জায়গায় এ রকম অহরহ ঘর উত্তোলন করা হয়েছে-যা সুষ্ঠ,নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল বনবিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক মো.জামাল হোসেন তালুকদার বলেন,বনবিভাগের জায়গা বেদখল পুনরুদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন