ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি প্রসঙ্গে

| প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নানামাত্রিক যাত্রি হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিমানবন্দরের একশ্রেণীর কর্মকর্তার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানির পাশাপাশি অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রিদের। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের জন্য লাগেজ স্ক্যানিংসহ ইমিগ্রেশন চেকিংয়ে যাত্রিদের প্রবেশে অস্বাভাবিক সময় ক্ষেপণের মাত্রা ক্রমে তীব্রতর আকার ধারণ করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা এ জন্য স্বল্প সংখ্যক প্রবেশপথ এবং লাগেজ স্ক্যানিংয়ের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন বলে গতকাল প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। ফেব্রæয়ারী মাসে জনৈক পলাশ আহমেদ নামের এক যাত্রি খেলনা পিস্তল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট বিজি-১৪৭ হাইজ্যাক চেষ্টার পর থেকে বিমান বন্দরের প্রবেশ পথে তল্লাশি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের পর থেকে কোনো সময় যাত্রিদের বিমানবন্দরের মূল ফটক পার হতেই ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানা যায়। দেশের রাজধানী শহরের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রধান আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে পরিগণিত। এই গেটওয়ে পার হতেই যদি যাত্রিদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়, বিমান বন্দরের প্রবেশ পথে যাত্রিদের ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে দেশ সম্পর্কে সদ্য আগত বিদেশি যাত্রি ও পর্যটকদের বাংলাদেশ সম্পর্কে শুরুতেই বিরূপ ধারণা তৈরী হতে বাধ্য।

এমনিতেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রিরা ঢাকা শহরের যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় নাকাল হয়ে বিমান বন্দরে পৌছেন। এ কারণে ফ্লাইটের অনেক আগে বাসা বা হোটেল থেকে বেরিয়েও প্রায়শ যাত্রিদের ফ্লাইট মিস করার মত দুর্ভাগ্য পোহাতে হয়। এভাবে বিমানবন্দরে পৌছানোর পরও যদি বিমান বন্দরের আনুসাঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই প্রবেশ পথে ও লাগেজ স্ক্যানিংয়ে ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয় এবং এভাবে ফ্লাইট মিস হয়ে যায়, তার দায় কার? চলমান বিশ্ববাস্তবতায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকবেই, সে সব ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি যাত্রিদের জন্য গতিশীল, ঝামেলামুক্ত ও সম্মানজনক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে যে ভাবে বিপুল সংখ্যক যাত্রি হ্যান্ডল করা হয় আমাদের বিমান বন্দরে তার ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই। অথচ অপেক্ষাকৃত অনেক কম ফ্লাইট ও যাত্রি ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে শাহজালাল বিমান বন্দরে অস্বাভাবিক সময় ক্ষেপণ ও যাত্রি হয়রানির চলমান প্রক্রিয়া বিদেশে কর্মরত শ্রমিক ও পর্যটকদের জন্য বিরক্তি ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ভাবমর্যাদা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বার্থে বিমানবন্দরের সমস্যা দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বিদেশে কর্মরত প্রায় এক কোটি অভিবাসি শ্রমিক বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ও অন্যতম চালিকাশক্তি। এক অর্থে এরা বিদেশে বাংলাদেশের সোশ্যাল অ্যাম্বাসেডর। রেমিটেন্সের যোগানদাতা এবং নাগরিক হিসেবে দেশে যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। কিন্তু এসব শ্রমিক বছরের পর বছর ধরে বিদেশে কাটিয়ে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তা খুবই তিক্ত ও অসম্মানজনক। কিছুদিন আগে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লেবানন থেকে আগত যাত্রিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, প্রতারক-দালালদের কারণে পাসপোর্ট হারিয়ে ট্রাভেল পাস দিয়ে বিদেশের বিমানবন্দরে ঝামেলামুক্তভাবে পার হয়ে আসতে পারলেও নিজদেশে এসে বিমান বন্দরে এভাবে আটকে থাকতে হবে, হেনস্তা হতে হবে এটা তারা কখনো ভাবেননি। আসতে এবং যেতে দুই দিক থেকেই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে যাত্রিরা। বিমান বন্দরের গেট পার হতে অস্বাভাবিক সময় লাগার কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন আন্তর্জাতিক যাত্রিদেরকে ফ্লাইটের তিন-চার ঘন্টা আগে বিমান বন্দরে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দিচ্ছে বলে জানা যায়। একদিকে বিমান বন্দরের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা, অন্যদিকে ঢাকার রাস্তার যানজটের কারণে এই নির্দেশনা দিতে বাধ্য হচ্ছেন এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনে নতুন টার্মিনাল নির্মানের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান অবস্থায় জরুরী উদ্যোগ হিসেবে বিমানবন্দরে আরো কয়েকটি প্রবেশপথ ও স্ক্যানিং মেশিনের ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজধানী শহরের যানজট নিরসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া রেমিটেন্স, বিনিয়োগ, পর্যটন ও দেশের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। নিরাপত্তার নামে বিমানবন্দরে রেমিটেন্স যোদ্ধা যাত্রিদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Nannu chowhan ৮ আগস্ট, ২০১৯, ২:৩৭ পিএম says : 0
Manonio shompadok shaheb ke dhonnobad eakta bastob shomoshshake apnar potrikar maddhome korttipokkhoke owakibohal korar jonno,eakhon prosno holo kotripokkhor kase,ado ki apnader eai shomoshshar bepare apnader kono druto shomadhan ase ki?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন