ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

মীরসরাই কামারপল্লীতে ঘুম নেই

ইমাম হোসেন, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ব্যস্ত সময় পার করছেন মীরসরাই উপজেলার কামার শিল্পীরা। ভোর হতে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দুই পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন হাটবাজারের কামার দোকানগুলোতে ব্যস্ততার চিত্র এখন থেকেই লক্ষনীয়। কোরবানির পশুর মাংস কাটাকাটি আর চামড়া ছাড়ানোর জন্য অন্যতম অনুসঙ্গ দা, ছুরি, চাপাতি, বটিসহ বিভিন্ন ধরনের পন্য তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ও এসে কামার শিল্পীদের কাছে গরু, ছাগল কাটার দা, চাপাতি, ছুরিসহ নানা জিনিস ক্রয় করছেন।
আবার অনেকে ঘরে থাকা পুরোনো দা, ছুরি, চাপাতি ধার করাতে আনছেন। ঈদুল আজহার অন্যতম ওয়াজিব পশু জবাই করা। আর জবাই করার অন্যতম উপাদান এসব পণ্য। সারা বছর তৈরিকৃত এসব পণ্য যত বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে। কারণ হিসেবে, পশু জবাহ করার জন্য ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন। আর ঈদ চলে যাওয়ার পর এসব অস্ত্র সবাই রক্ষিত করে রাখে না। আর যারাও রাখেন সেগুলোতে মরিচা পরে নষ্ট হয়। তাই প্রতি বছর নতুন নতুন অস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে। আর সে কারণেই ঈদকে কেন্দ্র করে দা, ছুরি, চাপাতি বটিসহ নানা পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কামার শিল্পীরা।
মীরসরাই ও বারইয়াহাট পৌরএলাকা ছাড়া ও শান্তিরহাট, আবুতোরাব, আবুরহাট, করেরহাট, বড়তাকিয়া, মিঠাছরা, করেরহাট বাজার সহ ছোট বড় সকল হাটেই একই ব্যস্ততা লক্ষনীয়। বাজারের কামার দোকানী নিখিল চন্দ্র কর্মকার জানান, বর্তমানে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে বটি প্রকার ভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, দা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ৮ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি পযন্ত মজুরী দেড়শ থেকে ২০০ টাকা, ১২ ইঞ্চি থেকে ১৫ ইঞ্চি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছোট আকৃতির ছুরি ৫০ থেকে ২০০ টাকা দামে বিক্রয় হচ্ছে। আবুতোরাব বাজারের সুনিল কর্মকার জানান, কামার শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হচ্ছে কয়লা, কিন্তু এই কয়লা এখন আর তেমন পাওয়া যায় না, গ্রামে ঘুরে ঘুরে এই কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। ২০০ টাকার কয়লা এখন হয়েছে ২হাজার টাকা এই কয়লার অপ্রতুলতায় দাম অনেক বেড়ে গেছে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে অনুসারে কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। তাই অনেকেই এই পেশা ছাড়ছেন।
বড়তাকিয়ার সুদেব কর্মকার জানান, ঈদ উপলক্ষে এক মাস কাজের চাপ থাকলেও পরবর্তী ১১ মাস তেমন কোন কাজ হয় না। এর কারনে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈত্রিক এ পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এছাড়া অন্য সময়ে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা রোজগার করেও সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়। সরকার মৎস্য আহোরণকারী জেলেদের সাহায্য প্রদান করলেও আমাদের এরকম কোন ব্যবস্থা নেই।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন