ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

বৃষ্টি ও যানজটের ভোগান্তি রাজধানীবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অবিরাম বৃষ্টিতে নগরবাসী পড়েছে পানিবদ্ধতা ও যানজটের ভোগান্তিতে। সকাল থেকেই বৃষ্টি ভোগান্তির মধ্যদিয়ে নগরবাসীর ঈদ যাত্র শুরু হয়েছে। বৃষ্টির তোড়ে জনজীবন থমকে যাবার উপক্রম হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। যথারিতি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেড় ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর মতিঝিল ও সচিবালয়সহ সব রাস্তা ঘাট তলিয়ে যায়। আর বৃষ্টির পানি দ্রæত নিষ্কাশন না হওয়ায় ব্যস্ততম প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটু পানি জমে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানিবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ঈদুল আজহায় ঘরে ফেরা মানুষসহ নগরবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে বাড়িয়েছে ঈদযাত্রায় রাজধানীতে বসবাস করা ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ। ভোর থেকেই শেকড়ের টানে বৃষ্টির মধ্যেই গ্রামে ফিরছে নগরে বসবাসকারী মানুষ। গত ৩০ জুলাই ঈদুল আজহার আগাম টিকিট যারা কেটেছেন, তারাই ভোর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করেন।

ট্রেন যাত্রী ওবায়দুল হক বলেন, ভোরে বৃষ্টি থাকায় পরিবারকে নিয়ে কমলাপুর আসতে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিলো না, পরে উবারে কমলাপুর পৌঁছালাম। অপর যাত্রী সাদিয়া বলেন, বাড়ি ফিরতে কিছুটা ভোগান্তি আছে, কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করলে সেই কষ্ট আর থাকে না।

গতকাল দুপুরে প্রবল বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। মতিঝিল পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় হাঁটু পানিতে সড়কে যানবাহন আটকে পড়েতে দেখা গেছে। পানিবদ্ধাতায় অনেকগুলো সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। অটোরিকশা পরিবর্তন করে অনেককে গন্তব্যে যেতে হয়েছে অনেককে। দ্রæত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

অল্প বৃষ্টিতেই মগবাজার, মৌচাক হয়ে মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা ব্রিজ, মেরুল বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। জমে যাওয়া পানির কারণে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে। মধ্য বাড্ডায় রাস্তার ওপর ময়লার ভাগাড় পানিতে মিশে একাকার হয়ে সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে অল্প বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সিটি কর্পোরেশন দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয় না বলে অভিযোগ করেন দুর্ভোগে পড়া যাত্রীরা।

নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর থেকে বারিধারা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এতে যানবাহন আটকে পড়ে। দুর্ভোগে পড়ে অফিসগামী যাত্রীরা। ফলে রিকশায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে অনেককে অফিস ও কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকে দায়ী করেন যাত্রীরা।

বৃষ্টিতে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোড, এয়ারপোর্ট সড়ক, মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে, আইসিসিডিডিআরবি থেকে মহাখালী বাসস্টান্ড পর্যন্ত পানি জমে যায়। পানির সাথে রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা-আর্বজনা মিলে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও তীব্র যানজট, কোথাও গাড়ি না থাকায় যাত্রীদের ময়লা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়।

বৃষ্টিতে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকার সব সড়ক ও স্টেশনের প্রবেশ মুখ হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়ে মালামাল নিয়ে আসা যাত্রীরা। তবে পানি দ্রæত নেমে না যাওয়ায় যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সদরঘাট টার্মিনাল পর্যন্ত, ঢাকা মেডিকেলের সামনে রাস্তা, গোলাপ শাহ মাজারের সামনে পানি জমে যায়। রাস্তায় থাকা ময়লা বৃষ্টির পানিতে মিশে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। সদরঘাটমুখী যাতায়াতকারীদের ময়লা পানি মাড়িয়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে যেতে দেখা গেছে। কাকরাইল থেকে নয়াপল্টন হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তা ও আশপাশের গলি বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়।

অধিকাংশ স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা ও গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অনেক জায়গায় যাত্রীদের সড়কে পড়ে ভিজে যেতে দেখা গেছে। তবে সিটি কর্পোরেশনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় সেই চিরাচরিত দুর্ভোগ। তাৎক্ষণিকভাবে পানি নেমে না যাওয়ায় সৃষ্টি হয় পানিবদ্ধতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর নিউমার্কেট এলাকায় দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে নিউমার্কেটের নিচতলার অধিকাংশ দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমেছে। নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবদ্ধতা। এ মার্কেটের বহু দোকানিকে বৃষ্টি থেকে তাদের জিনিসপত্র রক্ষার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার কিছু কিছু ক্রেতাকে বৃষ্টিতে ভিজেও কেনাকাটা করতে দেখা যায়। মার্কেটের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ভাই বেচুম কী, ঘুমায়তাছি, চোখে-মুখে টেনশন। আল্লাহই জানে এ বৃষ্টি কখন থামে! দোকান থেক্কে কখন না জানি পানি সরে! ক্রেতাও নেই তেমন! এছাড়া, নিউমার্কেট এলাকার আশপাশের ফুটপাথের হকারদের দোকানপাটও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। সাইন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট হয়ে বলাকা পর্যন্ত এলাকায় পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও যাত্রীরা। পানিবদ্ধতার কারণে মিরপুর রোডে দেখা দেয় যানজটও।

মৌচাক এলাকার মৌচাক মার্কেট, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্স, মালিবাগের হোসাফ টাওয়ার কমপ্লেক্স, শান্তিনগর এলাকার টুইন টাওয়ার কনকর্ড শপিং কমপ্লেক্স ও ট্রপিক্যাল রাজিয়া শপিং কমপ্লেক্সের সামনে পানিবদ্ধতার দেখা দেয়। এতে ক্রেতারা পড়েন ভোগান্তিতে। সেই সঙ্গে ওই সব এলাকায় দেখা দেয় যানজটও। রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, আগারগাঁও, মিরপুর, যাত্রাবাড়িসহ বেশকিছু এলাকা ও মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে পানিবদ্ধতা। অপরিকল্পিত নগরায়নে পানি জমার সমস্যাটা দিন দিন প্রকট হচ্ছে বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এছাড়া পানিবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসাবে রাজধানীর অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দায়ী। আর পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীবাসীর দুর্দশা আরো বাড়বে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

প্রায় দুই কোটি মানুষের নগরী এই ঢাকাতে যানজট প্রতিদিনের চিরচেনা ঘটনা। যানজট নিরসনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অতীতে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন