ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

কোরআন মাজীদ যেসব চরিত্র-বৈশিষ্ট্যের ওপর অতি অধিক জোর দিয়েছে, বিভিন্ন শিরোনামে ও বিভিন্ন আকারে যেসব বিষয়ের গুরুত্ব ও মহিমা বর্ণনা করেছে তন্মধ্যে ‘সবর’ তথা ধৈর্যের গুরুত্ব সবিশেষ। কিন্তু আমাদের ভাষায় সবর-এর অর্থ অত্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।

মনে করা হয়, সবর-এর মর্মার্থ শুধু এতটুকুই যে, মৃত্যু, রোগবালাই, কিংবা অভাব-অনটনের মত বিপদাপদকে এমনভাবে সয়ে নেয়া যাতে হা-হুতাশ ও অভিযোগ-অনুযোগ প্রকাশ না পায়। পক্ষান্তরে কোনো অত্যাচারী-অত্যাচার করলে তার প্রতিশোধ না নেয়া এবং কান্নাকাটি কিংবা ফরিয়াদ না করা। কিন্তু কোরআনের ভাষায় সবর-এর অর্থ এর চাইতে অনেক ব্যাপক ও গভীর।

সংক্ষেপে এর তাৎপর্যকে কিছুটা এভাবে ব্যক্ত করা যেতে পারে যে, ‘কোনো বিশাল ও পবিত্র উদ্দেশের জন্য (যেমন, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও আখেরাতের সওয়াবের জন্য কিংবা পৃথিবীতে কল্যাণ বিস্তার ও অকল্যাণ অপসারণের লক্ষ্যে অথবা অন্যের সেবা ও সুখদানের জন্য) দুঃখ-কষ্ট ও অমনোপূত বিষয়াদি বরদাশত করা এবং প্রতিক‚ল অবস্থায়ও ন্যায় ও সত্যের ওপর দৃঢ়তার সাথে স্থির থাকা, কল্যাণের পথে চলতে থাকা হল সবর।’

সবর-এর ব্যাপক অর্থ মাথায় রেখে কোরাআন মাজীদের কয়েকটি আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। সর্বপ্রথম সূরা বাকারার একটি আয়াত, ‘হে ঈমানদারগণ, (জটিলতা ও কষ্টের ক্ষেত্রে) ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য অর্জন কর। এ কথা সন্দেহতীতভাবে নিশ্চিত যে, (আল্লাহর পরিপূর্ণ সাহায্য এবং স্বয়ং) আল্লাহ ধৈর্যধারণকারীদের সাথে রয়েছেন।’ (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৫৩)।

সবর তথা ধৈর্যের মাধ্যমে সাহায্য অর্জনের বিষয়টি সূরা আ’রাফের সে আয়াতগুলোর দ্বারা আরও অধিক স্পষ্ট হয়ে যায়, যাতে উল্লেখ রয়েছে যে, ফিরআউন ও তার সরকার যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, বনি ইসরাঈলের সমস্ত বালকদের হত্যা করা হোক আর বালিকা ও মহিলাদের অব্যাহতি দেয়া হোক, তখন মূসা আ. নিজের সম্প্রদায় বনি ইসরাঈলকে উপদেশ দান প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা এবং ধৈর্যকে নিজেদের প্রতীক বানিয়ে নাও। (অর্থাৎ, দৃঢ়তার সাথে ন্যায়ের ওপর স্থির থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও এবং তৈরি হয়ে যাও। তারপর দেখো, আল্লাহ তায়ালা কী করে দেখান।) রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক আল্লাহই বটেন। তিনি তার বান্দাদের মাঝে যাকে ইচ্ছা রাষ্ট্রের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করেন।’ (সূরা আ’রাফ : আয়াত ১২৮)।

সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এ আয়াতটিই যেন সূরাটির সারনির্যাস। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, ধৈর্যধারণ কর, পরস্পরকে ধৈর্যের প্রতি উৎসাহিত কর, (আল্লাহর রাহে চেষ্টা-প্রয়াস চালানোর জন্য) তৈরি থাক এবং আল্লাহকে ভয় করা (অর্থাৎ, তাকওয়াকে নিজের আদর্শ করে না।) আশা করা যায়, তোমরা তাহলে মুক্তি পেয়ে যাবে।’ (সূরা আলে ইমরান : আয়াত ২০০)।

মানুষের স্বভাবগত দুর্বলতা রয়েছে যে, সত্য ও সৎপথে চলতে গিয়ে যখন তাদের ক্রমাগত বিপদাপদ ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, অথচ নিজেদের কোরবানি (আত্মনিবেদন) এর কোনো সুফল তারা দেখতে পায় না, তখন তাদের মাঝে নৈরাশ্য চলে আসে এবং তাদের সাহস ভেঙ্গে যেতে থাকে।

এমনি পরিস্থিতির জন্য কোরআন মাজীদে বলা হয়েছে, ‘আর সবর কর, কারণ, আল্লাহ তায়ালার রীতি রয়েছে যে, তিনি সৎকর্মশীলদের প্রাপ্য বিনিময় নস্যাৎ করেন না। (বিলম্বে কি অবিলম্বে তিনি সংকর্মশীদের বিনিময় অবশ্যই দান করবেন।)’ (সূরা হুদ : আয়াত ১১৫)।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
মোঃ আজহার রুবেল ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:১৯ এএম says : 0
ইসলাম মানবতার ধর্ম। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধনই এর মূল লক্ষ্য। এ মহান লক্ষ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আদি যুগ থেকে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন মানবতার উৎকর্ষের পূর্ণতা প্রদানের জন্য।
Total Reply(0)
হাঃমাওঃ শিব্বির আহমদ হাবিবী ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:১৯ এএম says : 0
মানব চরিত্রের উত্তম গুণাবলির অন্যতম হলো ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। পবিত্র কোরআনে স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ নিজেকে ধৈর্যশীল ও পরম সহিষ্ণু হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন।
Total Reply(0)
জহির আল যাবের ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:২০ এএম says : 0
ধৈর্য ধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত, কারণ আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ধারণকারীর সঙ্গে থাকেন; আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানুছতাঈনু বিছছবরি ওয়াছ ছলাতি; ইন্নাল্লাহা মাআছ ছাবিরিন।’ অর্থ: হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (পারা: ২, সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)।
Total Reply(0)
মোঃ আজহার রুবেল ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সফলতার সুসংবাদ। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কোরআন মজিদে বলেন, ‘আমি তোমাদিগকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ‘আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’। (পারা: ২, সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)।
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
সংসার জীবনে সংকটের মুখোমুখি হয়ে মানুষ যদি ধৈর্যহারা না হয়ে সকল কাজ-কর্মে সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে পারে তবে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছা সহজ হবে। সহিষ্ণু হলে জীবনে যে সাফল্য আসে
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
সংসার জীবনে সংকটের মুখোমুখি হয়ে মানুষ যদি ধৈর্যহারা না হয়ে সকল কাজ-কর্মে সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে পারে তবে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছা সহজ হবে। সহিষ্ণু হলে জীবনে যে সাফল্য আসে
Total Reply(0)
মোঃ আজহার রুবেল ৯ আগস্ট, ২০১৯, ৯:০৯ এএম says : 0
সবর বা ধৈর্য আল্লাহর পরিপূর্ণ মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা’আলা যাকে এই গুণ দেন; সেই এই গুণে সুসজ্জিত হয়। আল্লাহ তা’আলা নবী-রাসূল আলাইহিস সালামদের এই বিরল গুণে বিভূষিত করেছিলেন। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা নব্বই জায়গায় সবরের কথা বলেছেন।
Total Reply(0)
Naeem Khan ৯ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১১ এএম says : 0
আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র গ্রন্থে সাবের তথা ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদেরকে হিসাব ছাড়া প্রতিদান দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।’ [সূরা আয-যুমার : ১০]
Total Reply(0)
Kabir ৯ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১২ এএম says : 0
ধৈর্যশীলদের জন্য রেখেছেন জান্নাত লাভের কামিয়াবী আর জাহান্নাম থেকে মুক্তির সাফল্য। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম; নিশ্চয় তারাই হল সফলকাম।’ [সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত : ১১১]
Total Reply(0)
Badal Hussain ৯ আগস্ট, ২০১৯, ৯:১৩ এএম says : 0
আল্লাহ তা’আলা ধৈর্যশীলকে ভালোবাসেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ [আলে-ইমরান, আয়াত : ১৪৬]
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন