ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

হাওরপাড়ের কৃষকের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ

হাসান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে আনন্দ নেই। সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। গতকাল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে কৃষকদের করুণ দশা। আগামীকাল সোমবার ঈদ-উল-আযহা। ঈদের কোন প্রস্তুতি নেই কৃষক পরিবারে। ঈদ-উল-আযহার কেমন হচ্ছে? এমন প্রশ্নে হাওরপাড়ের কৃষকরা ফেলছেন দীর্ঘশ্বাস। সুনামগঞ্জ হাওড় এলাকার কৃষি আয়ের ওপর জীবন-জীবিকা অর্থাৎ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, সমাজের সামাজিকতা, বিয়ে-সাদি, ঈদ উৎসব পরিবারের সকল ব্যায় বহন হয় একমাত্র কৃষি আয়ের উৎস থেকে।
সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ভবানিপুর গ্রামের সিদ্দেক আলী জানান, কৃষি কাজ করেই জীবনযুদ্ধে নেমেছেন তিনি। এবার বোরো ধানের ফলন মোটামোটি হলেও ধানের মূল্য নেই। এ কারণে পরিবার পরিজনের পরনের কাপড়সহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কমমূল্যে এখন ধান বিক্রি করে পারিবারের অন্যান্য চাহিদা মেটাতে গেলে আগামীতে ফসল উৎপাদনের খরচ তার হাতে থাকবে না। তিনি আরো জানান, আগামী সোমবার ঈদ। ঈদের কোন কেনাকাটা করার মতো তার হাতে টাকা নেই।
ঝাওযার হাওরপাড়ের বাসিন্দা দিনমজুর হাজেরা বিবি জানান, সামনে ঈদ এসেছে, মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই। কাজ কর্মও নাই। পরপর দুই বার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মানুষের মনে আনন্দ নাই। আমার ঘরেও আনন্দ নাই। এই ইউনিয়নের জালালপুর গ্রমের কৃষক আব্দুল মালিক, জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়ার একই বক্তব্য। একই ইউনিয়নের নাগেরগাঁও গ্রামের মুদি দোকানদার বানু কুমার দাস জানান, কৃষকদের হাতে টাকা না থাকায় তার দোকানে বেচাকেনা নেই।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছমিন নাহার রুমা জানান, প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার নির্দশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্রদের ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যদি কেউ ভিজিএফ কার্ড না পেয়ে থাকেন। এব্যাপরে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন