ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

কারাগারে খালেদা জিয়ার ঈদ

রফিক মুহাম্মদ | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এবারও ঈদ কাটছে কারাগারে। এর আগে পাঁচবার কারাগারে তার ঈদ কেটেছে। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো কারা হেফাজতে ঈদ করবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আছেন। তাই সেখানেই কাটবে অসুস্থ খালেদা জিয়ার এবারের ঈদ। ব্যাপক জনপ্রিয় আপসহীন এই নেত্রী আজ প্রায় এক বছর আট মাস ধরে কারাবন্দি। মামলার জামিনে দীর্ঘসূত্রতা আর নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কূটকৌশলে তার জামিন হচ্ছে না। ফলে কারামুক্তিও মিলছে না। সবারই প্রত্যাশা ছিল ঈদের আগেই কারামুক্ত হবেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু আবারও জামিন বাতিলের মধ্য দিয়ে সে আশার আলো নিভে গেল। ফলে ৭৪ বছরের বয়োবৃদ্ধ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে বন্দিদশার মধ্যেই ষষ্ঠবারের মতো ঈদ করতে হচ্ছে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরও কারাগারেই কেটেছে তার।

দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তি না হওয়ায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। ঈদ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই, আগ্রহ নেই। ঈদের আনন্দ উপভোগ করার মানসিক অবস্থাও তাদের নেই। খালেদা জিয়াসহ দলের অনেক নেতাকর্মী কারাবন্দি থাকায় ঈদের আনন্দ তাদের কাছে ম্লান হয়ে গেছে। অনেক নেতাকর্মী এ ঈদ আনন্দকে কষ্টের বিষয় বলেও মনে করেন।

বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভের সাথে জানান, আমাদের কিসের ঈদ? গণতন্ত্রের নেত্রী, আমাদের মা কারারুদ্ধ, গোটা দেশ এখন গণতন্ত্রহীন অবরুদ্ধ। গণতন্ত্রের মা (খালেদা জিয়া) কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোনো ঈদের আনন্দ নেই। আমাদের মা, আমাদের নেত্রী যতদিন কারামুক্ত না হবেন ততদিন আমরা কোনো আনন্দ-উৎসব করব না। অনেক নেতাকর্মী তাদের ফেসবুকে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পোস্টার শেয়ার করেছেন। তারা বলেছেন, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া তাদের মনে ঈদের কোনো উৎসব নেই।

আবার অনেক নেতাকর্মী ঈদের আগে খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়ায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় নেতারা যথাযথ আন্দোলন কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে সরকার দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আটকে রাখতে পারছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়। এরপর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলে আসছেন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই খুব শিগগিরই বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনব। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় তার একটি মামলায় জামিন হলে অন্য মামলার জামিন দীর্ঘায়িত করা হয়। এভাবেই আইনের কূটকৌশলে তাকে আটকে রাখা হচ্ছে। নেতারা এখন বলছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পরেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের কথা বলেছিল। নেতারা তখন বলেছেন, সামনে নির্বাচন। ওই সময় সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হলে আমরা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবো। কিন্তু তাও হলো না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে কোনো শর্তপূরণ ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে গেল। ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের চরম ভরাডুবির পরও রাজপথে কোনো আন্দোলন হলো না। বরং সংসদে যোগদানের নাটক শুরু হলো। অনেক নেতারা তখন বললেন, বেগম জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে তারা এই অবৈধ সংসদে যোগ দেবেন। তবে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অনেক নাটকীয়তার পর সংসদে যোগ দিলেন ঠিকই, কিন্তু তাতেও দলের চেয়ারপার্সনের কারামুক্তি মিলেনি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ইনকিলাবকে বলেন, বারবার জামিন থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করে তার অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, জামিন না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা অবিচারেরই নামান্তর। জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো আদালত বিবেচনা করেন, তার প্রতিটি শর্তই বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। যেমন স্বল্প সাজা, শারীরিকভাবে অসুস্থ, বয়স বিবেচনা ও তার সামাজিক অবস্থান। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার হকদার ছিলেন। তারপরও তাকে বারবার জামিনবঞ্চিত করে অন্যায় করা হচ্ছে। এমন একজন বয়স্ক এবং জনপ্রিয় নেত্রী কারাবন্দি থাকায় স্বভাবিকভাবেই দলের নেতাকর্মীরা খুবই দুঃখভারাক্রান্ত। তারা কেউ ঈদ বা অন্য কোনো আনন্দ স্বাভাবিক উদযাপন করতে পারেন না। গত ঈদুল ফিতর আমাদের খুবই কষ্টে কেটেছে। আমাদের প্রিয় নেত্রীকে কারাবন্দি রেখে এবারের ঈদও আমাদের কষ্টের মধ্যেই কাটবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এবার কারাগারে ঈদ হবে ষষ্ঠবার। এর আগে ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে দু’টি ঈদ কারাগারে কাটাতে হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঘোষিত সাবজেলে ওই সময় দুই ঈদে খালেদা জিয়ার পাশের আরেকটি সাবজেলে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাবজেলে ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর খালেদা জিয়ার প্রথম রোজার ঈদ কেটেছে। এরপর ২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাবজেলেই উদযাপন করেন তিনি। ওই কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে মুক্তি পান।

কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ। বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থার ভীষণ অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। এতটাই অবনতি যে, স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারছেন না। ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতঃপূর্বে তার মুখে সৃষ্টি হওয়া ক্ষত সেরে যাওয়ার পর আবারও নতুন করে কয়েক জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। যা তার মুখে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া হাড়ের ব্যথাসহ শারীরিক অন্যান্য অসুস্থতার কারণে তিনি হাঁটাচলা পর্যন্ত করতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থার এই অবনতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ কাটছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। কারণ গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তারা বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া অথবা কারাগারে, তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। দেশের কোনো মানুষের মনেই এখন আনন্দ নেই। মহামারী ডেঙ্গুর আতঙ্কে আছে দেশের মানুষ। বন্যার্তদের ঘরে হাহাকার। সব মিলিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার পরিবেশ আজ দেশে নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Shahid Afridi Noman ১১ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪২ এএম says : 0
আমরা হাইকমানের উপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ
Total Reply(0)
Tawsif Hassan ১১ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪২ এএম says : 0
নেত্রীর মুক্তির জন্যে আন্দোলন করতে দায়িত্বরত নেতারা আজ ব্যর্থ হয়েছে,,
Total Reply(0)
Abir Khan ১১ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪২ এএম says : 0
Kico bolar nai kosto r kosto
Total Reply(0)
Md Ruhel Ahmod Ruhel ১১ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪৭ এএম says : 0
জিয়ার সৈনিক এক হয়,এক হয়,কে বলেরে জিয়া নেই, জিয়া আছে বাংলায়, এক জিয়া লুকানতরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জয় হোক বেগম জিয়ার, জয় হোক তারেক জিয়ার, জয় হোক ধানের শীষের,জয় হোক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের, জয় হোক বাংলাদেশের গনতন্ত্রের
Total Reply(0)
Tiger Sumon ১১ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪৮ এএম says : 0
মা আপনার জন্য অনেক কষ্ট হয় ,কিছু করতে পারছি না বলে, কারণ দেশ ছেড়ে অনেক দুরে
Total Reply(0)
Miah Muhammad Adel ১১ আগস্ট, ২০১৯, ৮:১০ এএম says : 0
কোন এক জার্মান নাগরিক বলেছেন যে Muslims are the bittermost enemy of Muslims. যদিও পবিত্র কোরাণে বারংবার বলা হয়েছে চরমে না যাওযার জন্য। কিন্তু মুসলমানদের এটা না করলে পেটের ভাত হজম হয়ে থাাকে না। পবিত্র কোরাণে এটাও বলাা আছে যে Everybody has time appointed - প্রত্যেকেরই নির্ধারিত সময় সীমা আছে। একদিন এইছা দিন নাহি রহে গা। একাধিক বারের প্রধানমন্ত্রীকে এমন সাজা দেওয়া চরমমন্থী হওয়ার উজ্বল দৃষ্টান্ত।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন